অনলাইন ক্লাসে ৬০% উপস্থিতি থাকলে নেওয়া যাবে পরীক্ষা

আপডেট : ০৯ মে ২০২০, ০৪:০৯ এএম

করোনার কারণে বন্ধ থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অনলাইন ক্লাসে ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেই অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া যাবে। এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের আগের ফল, ক্লাস পারফরমেন্স, মিডটার্ম পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট নম্বরের ওপর ভিত্তি করে এবং অনলাইন ক্লাসের পঠিত অংশের ওপর অ্যাসাইনমেন্ট, কেসস্টাডি ও ভাইভার মাধ্যমে নম্বর দিয়ে ফল প্রকাশ করা যাবে। চলতি সেমিস্টারে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী সেমিস্টারের কোর্স রেজিস্ট্রেশন ও ক্লাস করার সুযোগ পাবেন। এছাড়া অনলাইনে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম ১ জুন থেকে শুরু করা যাবে। এমন সব বিধান রেখে গত বৃহস্পতিবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস, পরীক্ষা ও ভর্তির গাইডলাইন প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

গত ৩০ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে করোনাকালীন অনলাইনে পরীক্ষা ও ভর্তির ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছিল। এক সপ্তাহের মধ্যেই এ ব্যাপারে গাইডলাইন প্রকাশ করল ইউজিসি। এতে সব বিশ্ববিদ্যালয় একটি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে থেকে করোনাকালীন শিক্ষাক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই গাইডলাইনে দুটি বিকল্প প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ইউজিসিকে জানিয়ে যেকোনো একটি পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারবে। প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়, চলতি সেমিস্টারের কোর্সগুলোর অসমাপ্ত পাঠ্যসূচির ওপর অনলাইনে ক্লাস চলমান থাকবে। তবে ল্যাবরেটরিভিত্তিক সব কোর্সের ব্যবহারিক ক্লাস করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর শ্রেণিকক্ষে সম্পন্ন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সব পর্যায়ের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর চলমান নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণ করবে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের উপযোগী ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্লাস পরিচালনা করবে। চলমান সেমিস্টারের অসমাপ্ত ৩০ শতাংশের মতো পাঠ্যসূচি সম্পন্ন হয়ে গেলে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। তবে চলমান সেমিস্টারের বিভিন্ন বিষয়ের আগের ক্লাস উপস্থিতি, পারফরমেন্স, ক্লাস টেস্ট এবং মিডটার্ম পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে অনলাইনে পঠিত অংশের ওপর অ্যাসাইনমেন্ট, কেস স্টাডি, ভাইভা, ভার্চুয়াল প্রেজেন্টেশন নিয়ে মূল্যায়ন করে ফল প্রকাশ করা যাবে। তবে ব্যবহারিক পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর ক্লাসে নিতে হবে।

গাইডলাইনে বলা হয়েছে, দুটি প্রস্তাবের যেকোনো একটি গ্রহণ করতে হলে অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমপক্ষে ৬০ শতাংশ হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোন পদ্ধতি গ্রহণ করবে তা লিখিতভাবে আগামী ১৭ মের মধ্যে ইউজিসিকে জানাতে হবে। আর যারা এখনো অনলাইনে ক্লাস শুরু করেনি বা করতে চায় না তারা কোন প্রক্রিয়ায় চলমান সেমিস্টার শেষ করতে চায় সেটিও আগামী ১৭ মের মধ্যে লিখিতভাবে ইউজিসিকে জানাতে হবে।

ভর্তির ব্যাপারে গাইডলাইনে বলা হয়েছে, ১ জুন থেকে অনলাইনে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। চলমান সেমিস্টারে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সেমিস্টারের কোর্স রেজিস্ট্রেশন ও ক্লাস করার সুযোগ পাবে। পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হবে। করোনা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ওই সেমিস্টারের ক্লাসও অনলাইনে নেওয়া যাবে।

এ ছাড়াও ইউজিসির গাইডলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি ১৪টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে টিউশন ফি আদায়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ করা; অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ, হ্রাস ও ইনস্টলমেন্ট প্রদানের সুযোগ রাখা এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধের কথা বলা হয়েছে।

এই গাইডলাইনের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইউজিসির গাইডলাইনটি আমরা বিশ্লেষণ করে দেখব। গাইডলাইনে কোথাও আমাদের আপত্তি আছে কি না তা আমরা আলোচনা করব। এরপর যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত