কর্মজীবীদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা

আপডেট : ০৯ মে ২০২০, ০৫:৫২ এএম

করোনা আতঙ্কে থেমে আছে নিত্যকার রুটিন। পরিবর্তন এসেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। অনেককেই কাজ করতে হচ্ছে বাড়ি থেকে। বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ, পড়াশোনা হচ্ছে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে। সব কাজ শেষ করতে হচ্ছে বাড়ি থেকেই। ফলে একঘেয়েমি ও বিষণ্ণতা এসেছে রোজকার জীবনে। কর্মজীবী মায়েদের ক্ষেত্রে এ সময়টা সত্যিই খুব কষ্টকর। একা হাতে ঘর সামলে, বাচ্চা দেখাশোনা করে অফিসের কাজ করা খুবই কঠিন। এ সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো থাকার উপায় জানালেন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট তানজির আহম্মেদ তুষার

 রুটিনমাফিক সারা দিনের কাজের তালিকা করে সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করুন। বাচ্চাকে ঘুম থেকে তোলার পর তার যতœ নিতে হয় মায়েদের। কারণ, সন্তান তার মায়ের কাছে থাকতে চায়। তাই তার জন্যও একটি রুটিন তৈরি করুন। নিজে যখন কাজ করবেন, তখন তাদের একটি কাজ দিয়ে তারপর অফিসের কাজ শুরু করুন।

 বাড়িতে আরামদায়ক কাজের জায়গা তৈরি করুন। এমন জায়গা বেছে নিন, যা আপনার মনোযোগ, শক্তি ও আত্মবিশ্বাস উন্নত করতে সহায়তা করবে। ফলে, নিজের কাজ ও বাচ্চাকে সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।

 বাচ্চাকে ঘরের মধ্যেই নানা ধরনের ইনডোর গেইম খেলতে দিন। বাচ্চার পছন্দের খেলনা ও বই দিন, যা তার পড়ালেখা ও জ্ঞান অর্জনের দক্ষতা উন্নত করতে সহায়তা করবে। আপনিও অফিসের কাজ মনোযোগ দিয়ে করতে পারবেন। কাজের জায়গার কাছাকাছি বাচ্চাদের ক্রিয়া-কলাপের জন্য একটি জায়গা তৈরি করুন এবং তাদের বোঝানোর চেষ্টা করুন ওই নির্দিষ্ট জায়গায় বসে সে হোমওয়ার্ক বা খেলতে পারে। এতে বাচ্চা আপনার কাছে বারবার আসবে না। আপনার চোখের সামনেও থাকল, আপনিও নিশ্চিন্ত থাকলেন।

 কাজের মধ্যে বিরতি নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাড়িতে কাজ করার সময় কয়েকটি বিরতি নিন। বিশেষত যখন আপনার বাচ্চা আপনার কাছে থাকে। বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য কমপক্ষে ১০ মিনিট বিরতি নিন। এই বিরতির কথা সহকর্মীদের জানিয়ে রাখুন। ভবিষ্যতে আপনার কাজের ওপর প্রভাব না ফেলে।

 বাড়ির বাকি সদস্যের সঙ্গে কাজ ভাগ করে নিন। যদি আপনার স্বামীকেও বাড়িতে বসে কাজ করতে হয়, তবে তাকেও কিছু কাজ করতে দিন। বিশেষ করে বাচ্চার যত্ন নেওয়ার কিছু দায়িত্ব দিন। এতে সঠিকভাবে কাজ করতে সক্ষম হবেন।

বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি আপনার সুস্থ থাকাটা জরুরি। সুস্থ থাকতে যে নিয়মগুলো মেনে চলবেন জানালেন ফিটনেস এক্সপার্ট শামীমা আক্তার তুলি

 বসে কাজ করার সময় চেয়ার থেকে টেবিলের উচ্চতা যেন একটু বেশি থাকে, যাতে আপনি কোমর ও ঘাড় সোজা রেখে কাজ করতে পারেন। এতে শরীরের ব্যথা, কোমর ও ঘাড়ের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

 শুয়ে কিংবা হেলান দিয়ে দীর্ঘক্ষণ কাজ করবেন না। কিছুক্ষণ পরপর ১০ মিনিট পায়চারি করে নিন।

 কাজের মধ্যে বিরতি নিন এবং বাচ্চাদের সময় দিন। আবার কাজের সুবিধার জন্য বাচ্চাকে মোবাইল বা ভিডিও গেইম দিয়ে বসিয়ে রাখবেন না।

 কাজ করার মধ্যে ঠিকভাবে ইফতার ও সাহরি করুন এবং বাচ্চাদেরও সঠিক সময়ে খাওয়ান। শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজনমাফিক পানি পান করুন এবং বাচ্চাকে পান করান।

 কাজ করার পর ফিজিক্যাল ও মেন্টাল স্ট্রেস থেকে মুক্তি পেতে বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়েই কিছু যোগাসন অভ্যাস করুন। টিভি দেখুন। এতে উভয়েই সুস্থ থাকবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত