এই সময়টা পার হয়ে যাক এটাই একমনে চাইছি

আপডেট : ০৯ মে ২০২০, ১১:২৪ পিএম

ঘরবন্দি সময় ও সংগীতাঙ্গনে করোনার প্রভাব নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বললেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান

কেমন কাটছে ঘরবন্দি সময়?

ঘরে কি আর সময় এত দিন কাটানো যায়। এখন মোটামুটি বিরক্তই লাগছে। তারপরও সরকারি নির্দেশ মেনেই চলছি। বরাবরের মতো গান শুনছি, রান্না করছি। কষ্ট লাগছে আমরা কাজ করতে পারছি না। একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে পারছি না। এটাই বড় বিষয়।

নতুন গান?

গান বা অ্যালবামের কোনো প্ল্যান এই মুহূর্তে নেই। এখন দুর্যোগের সময়টা পার করতে চাইছি। এই সময়টা পার হয়ে যাক, এটাই একমনে চাইছি।

করোনায় গানের জগতে নেতিবাচক প্রভাব...

করোনায় সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিল্পীদের ওপর। সবকিছুতেই প্রণোদনা পাওয়া যাবে। সবকিছুতেই লোন নেওয়া যাবে। দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করাই সবার প্রধান উদ্দেশ্য হবে। আর গান-বাজনা, নাটক, মডেলিং যা-ই বলেন না কেন এগুলো হচ্ছে বিনোদন। কোনো মহামারী বা বিপর্যয় এলে সবার আগে মানুষ তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। অর্থনীতি চাঙ্গা করা, দেশের মেরুদণ্ডকে চাঙ্গা করা হচ্ছে মূল বিষয়। সবকিছু যখন স্বাভাবিক হতে থাকে তখন মানুষ বিনোদন খোঁজে। তো আমাদের কাজ শুরু হবে সবার পরে। কিন্তু যখন শুরু হবে তখন আবার চলতেই থাকবে। আশা করি সারা জীবন তো আর এভাবে চলবে না। তবে শিল্পীদের কাজে অনেক বড় বিরতি পড়বে। কারণ কলকারখানা খুলে গেলে মানুষ কিন্তু রিস্ক নিয়েও কাজ করবে, কারণ তারা টাকা পাবে। কেউ কিন্তু রিস্ক নিয়ে গান শুনতে যাবেন না, সিনেমা দেখতে যাবেন না।

ইউটিউব বা অনলাইননির্ভরতা...

অনলাইন মাধ্যমগুলোতে কিন্তু শিল্পীরা বিরাট অঙ্কের টাকা ইনকাম করেন না। ইউটিউব বা এই ধরনের মাধ্যমগুলো থেকে যে ধরনের টাকা আসে সেটা একটা ভালো লাগা কাজ করে যে আমার ইউটিউব থেকে ইনকাম হচ্ছে কিন্তু জীবিকা নির্বাহের জন্য এটার ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। মোবাইল ভিত্তিক অ্যাপস বা কনটেন্ট থেকেও দীর্ঘদিন শিল্পীরা খুব একটা লাভবান হননি। ফলে আমাদের কনসার্টের ওপরেই নির্ভর করতে হয়।

সরকারি প্রণোদনা...

করোনার ফলে শোবিজ অঙ্গনের সবাই বিপদে পড়বেন। হাতে গোনা কয়েকজন শিল্পী হয়তো অর্থকষ্টে পড়বেন না। কিন্তু সেটা দিয়ে তো আর মেজরিটিকে বিবেচনা করলে হবে না। এ ক্ষেত্রে সরকার যদি প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে, তাহলে সবারই উপকার হয়। ইদানীং দু-একজন শিল্পীর জন্য সবাইকে দুস্থ বলে ফেলা হচ্ছে। একজন শিল্পীকে দুস্থ বলা সহজ, শিল্পীরা ছাড়া অন্য মানুষ কি অর্থের সংকটে পড়ে না। যেকোনো মানুষই আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। একজন মানুষের যদি ক্যানসার হয় তাহলে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয়ে যায়। মিনিমাম দুই কোটি টাকা লাগে। আসলে কি সব মানুষের দুই কোটি টাকা থাকে? একজন শিল্পীর পক্ষে কি দুই কোটি টাকা কামানো এতই সহজ? না। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এটা সম্ভব নয়। সবাই বলে আমাদের দেশের শিল্পীরা ফকিন্নি, তাদের টাকা নেই। বলে ফেললেই তো হলো না। অন্য দেশের শিল্পীদের আয় কত তারা জানে? আর শিল্পীদের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। তাদের লাইফস্টাইল, পোশাক-আশাক, মেকআপ সবকিছু তাদের নিজেদের বহন করতে হয়। আমি বলব, দীর্ঘদিন ধরেই এই সেক্টরটা অবহেলিত। এই সেক্টরটার দিকে সরকার যদি তাকায় তাহলে ভালো হয়। শিল্পীরা এ সময়ে কীভাবে সারভাইব করবে, কাজের ক্ষেত্রটা কী হবে এ ব্যাপারগুলো দেখা দরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত