এপ্রিল মাসে শতভাগ বেতনের দাবিতে দেশব্যাপী পোশাক খাতের শ্রমিকরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানা ভাঙচুর, রাস্তা অবরোধ করছেন। সংকট নিরসনে মালিক ও শ্রমিকনেতাদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি শ্রমিক ছাঁটাই, এপ্রিল মাসের শ্রমিকদের বেতন প্রাপ্তির বিষয় মনিটরিং করবে। এদিকে এপ্রিলে শ্রমিকদের ৬৫ শতাংশ বেতনের ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শ্রম মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, কারখানায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মানা হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং করতে বিজিএমইএ পরিচালকদের নেতৃত্বে পরিদর্শন টিম গঠন করা হয়। ৯ মে পর্যন্ত এ কমিটি ৪১২টি কারখানা পরিদর্শন করে, যার মধ্যে ১৩টি কারখানায় ত্রুটি-বিচ্যুতি পাওয়া যায়। কিন্তু শুরু থেকেই বিজিএমইএর পরিদর্শন কার্যক্রমের আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন শ্রমিকনেতারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ মে বিজিএমইএ কার্যালয়ে মালিক-শ্রমিকনেতাদের সমন্বয়ে বৈঠক হয়। সেখানে ‘জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক-শিল্প রক্ষা ও কভিড-১৯ প্রতিরোধ কমিটি’ নামে একটি যৌথ কমিটির সিদ্ধান্ত হয়।
এ কমিটির সদস্যরা হলেন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক, সহসভাপতি এসএম মান্নান কচি ও সাবেক সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। শ্রমিক প্রতিনিধি হলেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) সভাপতি হেদায়েতুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক চায়না রহমান, শ্রমিকনেতা আমিরুল ইসলাম আমিন, কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বাবুল আক্তার, সালাউদ্দিন স্বপন, কাজী রুহুল আমিন ও জলি তালুকদার।
এদিকে এপ্রিল মাসে পোশাক শ্রমিকদের ৬৫ শতাংশ বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেছে শ্রম মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঈদের আগে মালিকপক্ষ শ্রমিক ছাঁটাই বা কারখানা লে-অফ করবে না। এপ্রিল মাসে যেসব শ্রমিক পুরো মাস কাজ করেছেন তারা পুরো মাসের বেতন পাবেন। যারা কাজ করেননি তারা মোট বেতনের ৬৫ ভাগ পাবেন। অর্থাৎ এপ্রিলে শ্রমিকরা যতদিন কাজ করেছেন ততদিনের শতভাগ বেতন পাবেন। বাকি সময়ের জন্য ৬৫ ভাগ বেতন পাবেন। এপ্রিল মাসে ৬০ ভাগ বেতন দেওয়া হবে। বাকি ৫ ভাগ বেতন মে মাসের বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ মে শ্রম ভবনে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে মালিক ও শ্রমিকনেতাদের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যা গতকাল রবিবার প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেছে শ্রম মন্ত্রণালয়।
