খাদ্য সহায়তার চাল আত্মসাৎ করায় গতকাল রবিবার টাঙ্গাইল ও ফরিদপুরে তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিন মামলায় ইউনিয়ন পরিষদের একজন চেয়ারম্যান, দুই মেম্বার ও এক সচিবকে আসামি করা হয়েছে।
কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) মিনহাজ উদ্দীন অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে প্রকৃত কার্ডধারী ব্যক্তিদের কার্ড না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। তিনি ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল (অদ্যাবধি) পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ১০ টাকা কেজি দরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি কার্যক্রমের ৫১০ কেজি চাল তুলে আত্মসাৎ করেন। এই অভিযোগে মিনহাজের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় টাঙ্গাইলের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) রাজু মো. সারোয়ার হোসেন বাদী হয়ে একই কার্যালয়ে মামলা করেন।
অপর মামলায় শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার আরশিনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সামসুদ্দোহা ওরফে ডা. রতন ও একই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, আরশিনগর ইউনিয়ন পরিষদের উপকারভোগী কার্ডধারী মৎস্যজীবীদের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ভিজিএফের চাল বিতরণে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অনিয়ম-দুর্নীতি ও প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি ১ হাজার ৫০ কেজি চাল আত্মসাৎ করেন। ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবু সাঈদ বাদী হয়ে এই কার্যালয়ে একটি মামলা করেন।
অপর মামলায় মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) ইসমাইল ফকিরকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, আসামি প্রতারণামূলকভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে ২০১৭ সাল থেকে হতদরিদ্র খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দেওয়া কার্ড নিজ ওয়ার্ডে যথাযথভাবে বিতরণ না করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হন। তিনি প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া উপকারভোগীর নাম ঠিকানা ও স্বাক্ষর ব্যবহার করেন।
