করোনা পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালত পরিচালনায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন চেম্বার জজ হিসেবে বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি আগামী ১৪ মে প্রথম চেম্বার কোর্টে শুনানি গ্রহণ করবেন। এদিকে একই পদ্ধতিতে মামলার কার্যক্রমে হাইকোর্টে তিনটি বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। আর ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অধস্তন আদালতে কেবল জামিন শুনানি করা যাবে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
গতকাল রবিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফুলকোর্ট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেন।
পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. বদরুল আলম ভূঞা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ রোধ এবং শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই সাধারণ ছুটি, আপিল বিভাগের অবকাশকালীন ও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শুধু ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে আপিল বিভাগের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রধান বিচারপতি চেম্বার জজ হিসেবে বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি আগামী ১৪ মে ও ২০ মে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে চেম্বার কোর্টে শুনানি গ্রহণ করবেন।
এদিকে ফুলকোর্ট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে হাইকোর্টে একটি বেঞ্চ থাকবে। সেখানে অতি জরুরি সকল প্রকার রিট ও দেওয়ানি মোশন এবং এ-সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। আরেকটি বেঞ্চের নেতৃত্বে থাকবেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন। এই বেঞ্চে অতিজরুরি ফৌজদারি মোশন ও এ-সংক্রান্ত জামিনের আবেদন গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ অন্যান্য মামলার শুনানি গ্রহণ করবে।
অধস্তন আদালতে কেবল জামিন শুনানি : ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অধস্তন আদালতে শুধু জামিন শুনানি করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে গতকাল এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর।
এতে বলা হয়, করোনা সংক্রমণ রোধে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সব আদালতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছুটির সময়ে দেশের প্রতিটি জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর এলাকার মহানগর দায়রা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, বিশেষ জজ আদালতের বিচারক, সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক, জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারককে এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিজে অথবা তার নিয়ন্ত্রণাধীন এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেটকে শুধু জামিন সংক্রান্ত বিষয়গুলো তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার উদ্দেশ্যে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।
গত ২৬ এপ্রিল করোনা পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল আদালত চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৭ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আদালত কর্র্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’-এর খসড়া অনুমোদনের পর গত শনিবার অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
