স্পেনে এক প্রবীণনিবাসের বিয়োগগাথা

আপডেট : ১১ মে ২০২০, ১০:৪৪ পিএম

শান্ত প্রবীণনিবাস মন্তের মাসোতে করোনাভাইরাসের আক্রমণ মনে ভয় ধরিয়ে দেয়। পুরো ব্যবস্থাপনাই ভেঙে পড়ে। হয়তো ভাইরাস প্রতিরোধের কোনো প্রস্তুতিই ছিল না। কভিড-১৯ রোগে ছারখার স্পেন। মাদ্রিদের এই প্রবীণনিবাসের কাহিনী অনুবাদ করেছেন ওমর শাহেদ

করোনাভাইরাসের আক্রমণে বিধ্বস্ত পশ্চিম ইউরোপের প্রবীণনিবাস বা সেফ হোমগুলো। স্পেনেই ১৬ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন ভাইরাসটির আক্রমণে, এসব নিরাপদ আবাসে। এসবের বেশির ভাগই রাজধানী মাদ্রিদের আশপাশে। ঠিক কতজন লোক মারা গিয়েছেন সেই সংখ্যাটি হয়তো কোনো দিনই জানা যাবে না, তবে মৃতদের পরিবারগুলো জিজ্ঞেস করছে কেন তাদের পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা চিরকালের জন্য চলে গেলেন। এ গল্পের শুরু অনেক আগে।

৮ মার্চ, ২০২০। দ্রোসানা কাস্তিয়ো তার কয়েকজন কাছের বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন পশ্চিম মাদ্রিদের অফিস এলাকার কাছে। প্রতি বছর যা করেন, সেদিনও একত্রিত হলেন প্রতিবাদের জন্য; আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করতে। পরস্পর হাতে হাত ধরলেন ও গেয়ে চললেন ‘গোষ্ঠপতি নিপাত যাক’ ও ‘নারীবাদ বিজয়ী হবে’।

নারী দিবসে সেফ হোমে

কাস্তিয়ো ৬০ বছর বয়সের মানুষ; অবসর নেওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এ জমায়েত ও নারীবাদী প্রতিবাদের তিনি সমন্বয়কারী। তখন দেখেছিলেন, কয়েকজন মানুষ সার্জিক্যাল মাস্ক সুরক্ষা হিসেবে পরে এসেছেন; নিজেদের চেহারাগুলো ঢেকে রেখেছেন। তবে তিনি ভেবেছিলেন, ‘মানুষগুলো বোধহয় সন্ত্রাসী।’ বিষয়টি তার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। তারা এভাবে কেন এসেছিলেন। এর ঘণ্টাখানেক আগে নিজের ৮৬ বছরের মা কারমেলার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। মন্তের মাসোতে সেফ হোমটি। তবে প্রধান ফটকে কাস্তিয়োকে ভেতরে আসতে মানা করা হলো। এক কর্মী জানালেন, দুজন আবাসিক বাসিন্দা ‘কভিড-১৯’ রোগে আক্রান্ত, তাই দর্শনার্থী আগমন স্থগিত।

চোখের সামনে বদলাল সব

পরিচিত এক কর্মীকে দেখলেন, ব্যস্ত হয়ে চলে যাচ্ছেন মুখে এক টুকরো কাপড় বেঁধে। একটি কথাও বললেন না। কাস্তিয়োর ভেতরে সন্দেহ ঢুকে গেল ‘সেই সময়ই আমার মনে হলো, এমন কিছু ঘটেছে, যেটি মোটেও ঠিক নয়।’ এর মধ্যেই জানা হয়েছে, করোনা প্রথমে শুরু হয়েছে চীনে, এরপর সারা পৃথিবীতে ছড়াচ্ছে। এর থাবা ইতালিতে এসেছে। আক্রান্ত হচ্ছেন বয়সী মানুষরা, যারা দুর্বল স্বাস্থ্যের বা কোনো না কোনো রোগের রোগী। এ ছাড়া স্পেনের পাঁচ ভাগের একভাগ মানুষ বয়স্ক। ৬৫ বছরের ওপরে তাদের গড় বয়স; এই সংখ্যা ৮ কোটি ৯০ লাখ। শুরুতে এই মানুষদের জন্য সরকার কার্যকর কিছু করেননি।

করোনাভাইরাসের পেছনে

এরপর থেকে করোনার প্রাদুর্ভাবের খবর টিভিতে ও পত্রিকায় পড়তে লাগলেন কাস্তিয়ো। তিনি ভেবে আতঙ্কিত হলেন, তার মাকে সুরক্ষা দিতে যথেষ্ট চেষ্টা করা হয়েছে কি? তার মা এই সেফ হোমে পাঁচ বছর ধরে আছেন। এই পরিস্থিতিতে তার কথা এখন সামান্যই জানতে পারছেন, যা জানছেন সবই ফোনে। দীর্ঘকালের বন্ধু কনসুয়েলো দোমিঙ্গে, তার মাও মন্তের মাসোতে থাকেন। ব্যক্তিগত এই হোমটি অনেক খোলামেলা। বিরাট জানালা, বড় বড় ঘর, আলো-বাতাসে পরিপূর্ণ। এই হোমে ১৩০ জনের বেশি আবাসিক বাসিন্দা থাকেন। তিনি ও তার বন্ধু খবর পেয়েছিলেন, সেফ হোমের কিছু কর্মকর্তা কাশি-জ্বর নিয়ে আইসোলেশনে গিয়েছেন। এরই মধ্যে স্পেনে ভয়াবহভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ছিল। ১৪ মার্চ দেশের মানুষকে ঘরে থাকার সরকারি নির্দেশ এলো।

মন্তের মাসোর অন্দরে

তখনই দোমিঙ্গে ফোন পেলেন মন্তের মাসো থেকে। কর্মীটি খুব উদ্বিগ্ন। ‘যে কেউ সেটি অনুভব করতে পারতেন’, বললেন দোমিঙ্গে। লুকিয়ে ফোন করে তিনি বললেন, তাদের ওখানে ৭০ জন ভাইরাসে আক্রান্ত এবং ইতিমধ্যে সাতজন মারা গিয়েছেন। ‘আমি ভীষণ ভয় পেয়েছি’, বললেন ফোনের ওপাশ থেকে। দোমিঙ্গে আর দেরি না করে তার বন্ধুকে ফোন করলেন। ‘আমি বিশ্বাস করতে পারিনি’, কাস্তিয়োর কথাগুলো মনে পড়ল। তারা দুজনে ছুটে গেলেন সাংবাদিকদের কাছে; তাদের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানালেন। ১৭ মার্চ, মন্তের মাসো জাতীয় খবর হিসেবে প্রকাশিত ও সম্প্রচারিত হলো। সেই বিকেলেই কাস্তিয়ো মন্তের মাসো থেকে আসা একটি ফোন কল ধরলেন। জানানো হলো, তার মা যে নারীর সঙ্গে থাকতেন, তার অবস্থাও খারাপ। মাকে নিয়ে ভয় হতে লাগল, খবরটি তাকে ভীত সন্ত্রস্ত করল।

কাজে নামলেন আপনজন

তিনি ও অন্যদের আত্মীয়স্বজন মিলে একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ গ্রুপ খুললেন। পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের নিয়ে তারা মেসেজ আদান-প্রদান করতে লাগলেন। আউরোরা সান্তোসের মা মন্তের মাসোতে ছিলেন। বললেন, ‘তাদের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কোনো কিছু করেছেন বলে জানা নেই। তারা কেবল নিয়ম মেনে কাজ করছেন। এই পরিস্থিতিতে কি করা উচিত তা জানেন না।’ তথ্য সংগ্রহে কাস্তিয়ো ও দোমিঙ্গের সঙ্গে তিনি যোগ দিলেন। তারা জেনেছিলেন, যেসব রোগীর এই রোগের উপসর্গ আছে, তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করা হয়নি। আইসোলেশনে যাওয়া কর্মীদের জায়গায় নতুন কর্মী দেওয়া হয়নি। যারা কাজ করেছেন, তাদের অনেক বেশি সময় ধরে কাজ করতে হয়েছে। পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রীর অভাব ছিল। ‘আমরা তাদের সবাইকে সাহায্য করতে চেষ্টা করছিলাম, কারণ আমাদের ভালোবাসার মানুষ সেখানে ছিলেন’, বললেন দোমিঙ্গে। ‘তারপরও তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগে আন্তরিক ছিল না?’

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

কী হচ্ছে, কারও কাছেই তা পরিষ্কার ছিল না। কারমেন ফ্লোরেস, রোগীদের নিরাপত্তাবিধানের জন্য সরকারি পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে কয়েক বছর ধরে কাজ করছেন। তিনি ম্পেনের ৫ হাজার ৪১৭টি সেফ হোমের কয়েকটি সম্পর্কে সতর্ক করে আসছিলেন। তিনি বললেন, ‘সেই দিনগুলোতে প্রচুর মেসেজ পাচ্ছিলাম। আমি ভাবছিলাম, এই মানুষগুলোকে পচে যেতে দেওয়া যায় না।’ ফেডারেশন রিপ্রেজেন্টিং সোশ্যাল কেয়ার ম্যানেজার হোসে মানুয়েল রামিরা বলেছেন, ‘আবাসিকদের ফি দীর্ঘদিন ধরে একই আছে। অথচ খরচ দিন দিন বেড়েছে। তাই সেফ হোম কর্র্তৃপক্ষের বেশি কিছু করা সম্ভব হয়নি।’ ‘অনেক প্রতিষ্ঠান আবার অতি মুনাফা করছিল, অভিযোগ করলেন ফ্লোরেস। ইউনিয়নগুলোও বলেছে, তাদের কর্মীসংখ্যা অপ্রতুল ছিল। আরেকটি সেফ হোম, যার ৯০ জন রোগী মারা গিয়েছেন, সেখানকার এক কর্মী বলেছেন, ‘অনেক দিন ধরে আমরা বলে আসছি, এভাবে চললে গুরুতর কিছু ঘটতে পারে।’ এমনকি রোগীতে পূর্ণ হাসপাতাল শেষ পর্যন্ত সেফ হোম থেকে আসা রোগীদের ফেরত দিচ্ছিল। হাসপাতাল থেকে ফেরত আসা অনেক রোগীর কাছে অক্সিজেনের সিলিন্ডার ছিল না। কোথাও কোথাও একজনও চিকিৎসক ছিলেন না। কাস্তিয়ো বলেছেন, মন্তের মাসোতে মাত্র একজন চিকিৎসক ছিলেন। বেশির ভাগ দিনে তিনি শুধু সকালে রোগী দেখতেন।

সরকারি পদক্ষেপ

সরকার সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করল সংক্রমণ ছড়ানো ১৩০০ সেফ হোম বন্ধ করতে। তাদের প্রথম দিকের একটি ছিল মন্তের মাসো। স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মারগারিতা রবলেস বলেছেন, ‘কোনো কোনো জায়গায় তার বাহিনী রোগীদের অসহায়ভাবে ফেলে রাখা অবস্থায় পেয়েছেন। কোনো কোনো জায়গায় দেখেছেন, তারা নিজেদের বিছানাতেই মরে পড়ে আছেন।’ বিবিসির ৩০ এপ্রিলের খবর বলছে, সেদিন পর্যন্ত মাদ্রিদের সেফ হোমগুলোতে ছয় হাজার রোগী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী; চিকিৎসক মারা গিয়েছেন। সবারই কভিড-১৯ রোগের উপসর্গ ছিল। স্পেনের পাবলিক প্রসিকিউটর অনুসন্ধান করছেন সম্ভাব্য অপরাধগুলোর; যেগুলোর মধ্যে আছে নরহত্যা, সেটি অবহেলার দায়ে; অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ও অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়ার দোষ। কাস্তিয়ো জানালেন, ‘সেফ হোমের অনেক বাসিন্দা অসুস্থ থাকায় চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে পারেননি বা নিজেদের কষ্টের কথা বলার মতো কাউকে খুঁজে পাননি। নিঃশব্দে মারা গিয়েছেন একা একা; ধুঁকে, ধুঁকে।’

মন্তের মাসোতে কী হলো

মন্তের মাসোতে সাংবাদিকরাও কথা বলার জন্য বারবার ইমেইল পাঠানোর পরও তাদের কোনো সাড়া পাননি। যখন তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়, তখন ওখানকার একজন কর্মকর্তা জানালেন, তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন না। ২২ মার্চ ভোর ৬টায়, মাত্র দিনের আলো ফুটতে শুরু করেছে; বিষণ্ণ ও করোনা-আক্রান্ত মাদ্রিদ জেগে উঠছে; সে সময়ই দ্রোসানা কাস্তিয়ো ফোনটি পেলেন মন্তের মাসো থেকে। জানানো হলো, তার মা কারমেলা মারা গিয়েছেন। তাকে কবর দেওয়া হয়েছে। এ সময় মেয়েরও মাকে শেষ বিদায় জানানোর কোনো উপায় নেই। কারণ তখন তিনি লকডাইনে বাড়িতে বন্দি। একটিমাত্র উপায় ছিল সামনে। তা হলো মাকে শেষবারের মতো ভালোবাসা জানানোর। তিনি তাই করলেন, ‘সারা জীবনের স্মৃতিগুলো মনে করে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলাম, আমার মা যেন কোনো কষ্ট না পায়।’ পরে তিনি আরও জানলেন, তার মায়ের ঘরের সঙ্গী আগের সপ্তাহে মারা গিয়েছেন।

কেন এমন হলো?

মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষের সামাজিক নীতি পরিষদের সদস্য আলবার্তো রইয়েরো জানিয়েছেন, এই সেফ হোমগুলো আচমকা এই মহামারী থেকে এখানে বসবাসরত বাসিন্দাদের রক্ষা করার মতো প্রস্তুত ছিল না। এক মন্তের মাসোতেই করোনাভাইরাসের ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরে আঞ্চলিক সরকারের হস্তক্ষেপে এপ্রিলের ১৪ তারিখের দিকে সেখানে কিছু সুযোগ-সুবিধা চালু করা হয়। বেঁচে থাকা বাকি ৬৫ জন আবাসিক বাসিন্দার মধ্যে রোগটির উপসর্গগুলো দেখা দিয়েছিল। সেখান থেকে ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। হতাশা ও বেদনা সেফ হোমের একজন কর্মী রইয়েরো বললেন, ‘আমরা শুরুতে অনেক ভুল করেছি। এখন আমাদের করণীয় সেফ হোমে মারা যাওয়া করোনাভাইরাসের রোগীদের উদ্ধার ও ভালোভাবে তাদের শেষ বিদায় জানানো। ৬ মে পর্যন্ত স্পেনে ২৫ হাজার ৮৫৭ জন রোগী মারা গিয়েছেন ‘কভিড-১৯’ রোগে। আর রোগী আছেন ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮২ জন। তবে আগে সেফ হোমে মরে যাওয়া মানুষ এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত কি না সেটা পরিষ্কার নয়। সেফ হোমের কর্মী রইয়েরো আরও বলেন, অনেক মৃতব্যক্তি করোনাভাইরাসের রোগী ছিলেন কি না সেটা পরীক্ষা না করেই দাফন করা হয়েছে। ফলে করোনায় মৃত মানুষের সত্যিকারের সংখ্যাটি হয়তো কোনো দিনই জানা যাবে না।

খারাপ দিনগুলো কেটে যাচ্ছে

স্পেনের খারাপ সময় কেটে যাচ্ছে। আতঙ্ক কাটিয়ে মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে। শেষের দিকে মন্তের মাসোতে থাকা বাসিন্দাদের পরিবারের চাপ পাওয়ার পর সেখান থেকে ফোন পাওয়া শুরু করেছিলেন দোমিঙ্গে ও সান্তোস। এমনকি তাদের মায়েদের ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখেছেন, কথা বলেছেন। সান্তোস বললেন, ‘নারী দিবসের জমায়েত এখন স্পেনের কর্তৃপক্ষদের উদাসীনতার প্রাথমিক প্রতীক হয়ে থাকবে। একই দিনে আন্দালুসিয়ার সেভিলে লা লিগায় রিয়াল বেতিস ও রিয়াল মাদ্রিদের খেলা দেখতে অনেক দর্শনার্থীর ভিড়ও। মা মারা যাওয়ার ১৫ দিন পর কাস্তিয়ো গ্রহণ করলেন মায়ের দেহভস্ম। বললেন, ‘এর আগ পর্যন্ত আমার কাছে স্বপ্ন ছিল। ভাবতাম এক দিন ঘুম থেকে উঠে তার সঙ্গে সঙ্গে দেখা করতে যাব, অনেক গল্প হবে।’ এখন মায়ের স্মৃতিগুলোই আমাকে ঘিরে রাখছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভাবছেন পুরো পরিবার এক দিন যাবেন, যেখানে মায়ের জন্ম হয়েছিল সেই মেকো গ্রামে। মায়ের দেহভস্ম সেখানে কবর দেবেন। যেখানে চিরশান্তিতে ঘুমিয়ে আছেন তাদের বাবা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত