করোনার ঝুঁকির মধ্যে কারখানা খুলে দেওয়ার ফলে দ্রুত আক্রান্ত হচ্ছেন শ্রমিকরা। তবে এ আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কারখানা চালু করার পর এ পর্যন্ত শতাধিক শ্রমিক আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৪৬ জন। তবে বিজিএমইএর হিসাবের সঙ্গে শিল্প পুলিশের হিসাবে গরমিল রয়েছে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত শিল্প পুলিশের হিসাবে করোনায় আক্রান্ত শ্রমিকের সংখ্যা ৫৮ জন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা আক্রান্তের হার দ্রুত বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে গার্মেন্টস কারখানায় ঝুঁকি অনেকটা বেশি। এজন্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে বিজিএমইএ বলছে, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই কারখানা চলছে। কোনো শ্রমিক আক্রান্ত হলে তার সব দায়িত্বও নেওয়া হচ্ছে।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও ময়মনসিংহসহ দেশব্যাপী কলকারখানাকে ইউনিটভিত্তিক ভাগ করে করোনা তথ্য সংগ্রহ করছে তারা। এর মধ্যে ঢাকার আশুলিয়া ১৯টি কারখানায় ৩৬ জন শ্রমিক, গাজীপুরে ৯টি কারখানায় ১২ জন, নারায়ণগঞ্জে ৩টি কারখানায় ৫ জন, চট্টগ্রামে ৩টি কারখানায় ৩ জন, ময়মনসিংহের ১টি কারখানায় ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে খুলনায় কেউ আক্রান্ত হননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, যেসব কারখানার শ্রমিক করোনা আক্রান্ত হন, তাদের দ্রুত কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত শ্রমিক ওই কারখানার যাদের সংস্পর্শ গেছেন তাদেরও কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রচার চালানো হচ্ছে। কোনো শ্রমিক বেশি আক্রান্ত হলে তাকে হসপিটালে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শিল্প পুলিশের হিসাবের সঙ্গে বিজিএমইএ তথ্যে গরমিল রয়েছে। বিজিএমইএ সূত্র জানায়, গত ২৮ এপ্রিল থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩ শ্রমিক। এর মধ্যে নারী ৩৫ ও পুরুষ ৯ জন। এর বাইরে ১১ জনের করোনা উপসর্গ দেখা গেলেও এখনো পরীক্ষা করা হয়নি। তবে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির এক গবেষণায় শতাধিক শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছেন বলে বিষয়টি উঠে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের ৯৬ শ্রমিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া এক কর্মকর্তাও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় আক্রান্তদের ৮০ শতাংশ শ্রমিকই ঢাকা বা তার আশপাশের শিল্প এলাকায় কর্মরত ছিলেন। গত চার দিনে আরও কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪টি জেলায় পোশাকশ্রমিকদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তার মানে, আক্রান্ত শ্রমিকদের মাধ্যমে জেলাগুলোতেও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমে পোশাকশ্রমিক আক্রান্ত হওয়ার খবর যতটা আসছে, তাদের চিকিৎসা এবং সুস্থ হওয়ার তথ্য আসছে না। এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমে মাত্র দুজন শ্রমিক সুস্থ হওয়ার খবর মিলেছে।
এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিএমইএর একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা প্রতিনিয়তই খোঁজখরব রাখছি। অনলাইনে রিপোর্ট করার জন্য বিজিএমইএ সদস্যদের বলা হয়েছে। এখন অন্যজনের হিসাবের সঙ্গে গরমিল থাকার কথা নয়। কারণ আমাদের সদস্যের বাইরেও বেশকিছু কারখানা রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই কারখানা চালু করা হয়েছে। এরপরও কোনো শ্রমিক আক্রান্ত হলে তাদের দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণ কারখানামালিক ও বিজিএমইএ বহন করবে।
