রাজশাহীতে মার্কেট খোলা নিয়ে বিভক্তি

আপডেট : ১২ মে ২০২০, ০২:১৩ এএম

সরকারি অনুমতি মিললেও রাজশাহীতে খোলেনি মার্কেটগুলো। গত শনিবার রাতে জেলার প্রশাসনের যৌথসভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পদস্থ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত হয়ে ঈদের আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না খোলার পক্ষে মত দেন। এতে এখনো বন্ধই আছে নগরীর মার্কেটগুলো। তবে ব্র্যান্ডের কিছু শোরুম খুলে বেচাকেনা শুরু করেছে। এদিকে দোকান খোলা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। মার্কেট খোলার দাবিতে গতকাল সোমবার দুপুরে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। 

করোনাভাইরাস-পরিস্থিতির মধ্যেও গত রবিবার থেকে সীমিত পরিসরে দোকানপাট খোলার কথা ছিল। এজন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় গত শনিবার নগর ভবনে এক আলোচনায় রাজশাহী শহরের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্কেট না খোলার পক্ষে মত দেন রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। জেলা শিল্প ও বণিক সমিতির নেতারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তারাও দোকানপাট-মার্কেট বন্ধ রাখার পক্ষে মত দেন।

এই আলোচনায় সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘আমাদের শহর এখনো করোনামুক্ত। কিন্তু ঝুঁকিমুক্ত নয়। শহরকে নিরাপদ রাখতে হলে আমাদের লকডাউন মেনেই চলতে হবে। সেজন্য দোকানপাট-মার্কেট বন্ধ রাখার কোনো বিকল্প নেই। ঈদের আগে মার্কেট খুলে দিলে আক্রান্ত এলাকা থেকেও অনেকে এ শহরে কেনাকাটা করতে আসবেন। তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আমরা দোকানপাট-মার্কেট বন্ধ রাখার পক্ষে। আমাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতারাও একমত। আমাদের মতামত জেলা প্রশাসক হামিদুল হককে জানানো হয়েছে।’

রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির সহসভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা এসেছে আমরা তা মেনে নিয়েছি।’

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, ‘দোকানপাট-মার্কেট বন্ধ রাখতে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। যদি কোনো মার্কেট পরিচালনা কর্র্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সমিতি বন্ধ রাখতে চায় তাহলে আমরা তাদের জোর করে খোলাব না। তারা খুলতে চাইলে দোকানপাট-মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এটি মনিটরিং করা হবে।’

এদিকে মার্কেট খোলা যাবে কি যাবে না এ দোটানার মধ্যেই এখনো এখানকার ব্যবসায়ীরা। রাজশাহীর সব থেকে বড় আরডিএ মার্কেট, নিউ মার্কেটসহ বেশিরভাগ দোকানপাটই খোলেনি। তবে রবিবার সকাল থেকে খোলা হয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কয়েকটি শোরুম। সেগুলোরও দোকান পুরোপুরি খোলা ছিল না। অর্ধেক ঝাঁপ নামিয়ে রেখে ব্যবসা করেছেন তারা। অবশ্য এগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতিও একেবারে কম ছিল না।

এক্ষেত্রে আগামী দিনগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এসব শোরুম মালিকরা কতটা সামর্থ্য হবেন এ নিয়ে সংশয় আছে।

এদিকে রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যদি কেউ দোকান নিজ দায়িত্বে খোলে, তবে খুলবে, আমাদের কোনো বাধা নেই। তবে বেশিরভাগ ব্যবসায়ীই দোকান খুলতে চান দাবি করে সেকেন্দার আলী বলেন, তারা আর্থিক কষ্টে আছেন। ঈদের আগে দোকান খুলতে না পারলে আরও কষ্টে পড়বেন। দোকান খোলা নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, অধিকাংশ ব্যবসায়ী বর্তমান পরিস্থিতিতে দোকান খুলতে চান না। কিন্তু সমিতির সভাপতি দোকান খোলার পক্ষে। তবে সভাপতি নুরুন্নবী লুলু বলেন, সরকার সীমিত পরিসরে দোকান খোলার অনুমতি দিয়েছিল, তাই আমি খোলার পক্ষে মত দিয়েছিলাম। এখন বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে, দোকানপাট বন্ধই থাকবে।

রাজশাহী ইনফিনিটি ও রিচম্যান শোরুমের ই-কমার্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুল হক বলেন, আমরা আমাদের শোরুম খোলা রেখেছি। আমাদের সব দিক থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। ক্রেতাদের হাত ধোয়া নিশ্চিত করাসহ কারও মাস্ক না থাকলে তাকে মাস্ক দিয়ে ভেতরে নেওয়ারও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

দোকান খোলার দাবিতে গতকাল রাজশাহীতে বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা দাবি করেন, দোকান খুলতে না পারায় তারা বিপাকে পড়েছেন। দিনের পর দিন দোকান বন্ধ রেখে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে ব্যবসায়ীদের এই বিক্ষোভের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত