দেশ রূপান্তরকে ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান

টিউশন ফির চাপ দিলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আপডেট : ১২ মে ২০২০, ০৬:৩৪ এএম

চাপ দিয়ে টিউশন ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক। একই সঙ্গে সচ্ছল অভিভাবকদেরকে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিভাবকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে অভিযোগ করে জানিয়েছেন, করোনার এই সংকটকালীর মুহূর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্র্তৃপক্ষ তাদেরকে টিউশন ফি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও গত ২৩ এপ্রিল এক চিঠিতে শিক্ষা বোর্ড কর্র্তৃপক্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে টিউশন ফি নেওয়ার জন্য চাপ না দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেখানে বলা হয়, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরও একের পর এক এমন অভিযোগ আসছে শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্র্তৃপক্ষের কাছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি আদায়ের জন্য অভিভাবকদের মুঠোফোনে খুদেবার্তা (এসএমএস) দিয়ে বিকাশ ও রকেট নম্বর পাঠিয়ে তা পরিশোধের তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও ফোন করে জোরপূর্বক টিউশন ফি আদায়ের চেষ্টাও চলছে।

যদিও ভিন্ন কথা বলেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা। অভিযুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রধান বলছেন, তারা অভিভাবকদের কোনো ‘চাপ’ দেননি। টিউশন ফি পরিশোধের জন্য ‘নোটিস’ করেছেন মাত্র। এটি তাদের নিয়মিত কাজেরই অংশ। তারা আরও বলেন, যেহেতু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার আয়ের প্রধান খাতই টিউশন ফি, তাই এটি প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে তাদের চাইতেই হয়। এটি ছাড়া প্রতিষ্ঠান সচল রাখা সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কোনো রকম চাপ সৃষ্টি না করতে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছি। এরপরও যদি কোনো অভিযোগ আসে আমাদের কাছে, আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে এটাও ঠিক যে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের বেতনের ওপরই চলে। শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন হয় তাদের টাকায়। ফলে শিক্ষকরাও সমস্যায় পড়েছেন। ফলে আমরা অনুরোধ করব, যারা সচ্ছল অভিভাবক তাদের উচিত বেতন দিয়ে দেওয়া। কারণ এটা তো একসময় দিতেই হবে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে অনুরোধ করব যেন অসচ্ছল পরিবারের ওপর বেতনের জন্য চাপ সৃষ্টি না করা হয়।’

নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন সচল রাখতে সরকার কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা করবে কি না জানতে চাইলে জিয়াউল হক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ বিষয় নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত