রাজবাড়ীতে করোনা সহায়তা

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট : ১২ মে ২০২০, ০৭:০৬ এএম

রাজবাড়ী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফকীর আবদুল জব্বারের বিরুদ্ধে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ এনেছেন জেলা পরিষদেরই নির্বাচিত ১৬ জন সদস্য। তারা সম্প্রতি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বারের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের  স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জরুরিভাবে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় চেয়ারম্যান ফকীর আবদুল জব্বার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। বিশেষত গত ২ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ অধিশাখা থেকে উপসচিব ড. জুলিয়া মঈন স্বাক্ষরিত পত্রে করোনাভাইরাস বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করাসহ করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হ্যান্ড ওয়াশ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তার পর সম্প্রতি চেয়ারম্যান ব্যক্তিগতভাবে নামমাত্র কিছু ত্রাণসামগ্রী কিনেছেন। অথচ স্থানীয় সরকার বিভাগের পাঠানো পত্রে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে পিপিআর-২০০৮ (সর্বশেষ সংশোধনীসহ) অনুসরণপূর্বক যাবতীয় আর্থিক বিধিবিধান প্রতিপালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান এসব কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে ক্রয় কমিটি গঠন/দরপত্র/কোটেশন না করে ইচ্ছামাফিক ত্রাণের নামে অর্থ আত্মসাৎ করে চলেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাঠানো পত্রে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে দ্বৈততা পরিহারের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় ও তাদের প্রস্তুতকৃত দুস্থ ও অসহায় উপকারভোগীর তালিকা অনুসরণ করতে হবে। কিন্তু রাজবাড়ী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তার নিজ মালিকানাধীন (নিজেই প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক) এনজিও ‘কেকেএস’-এর স্বার্থরক্ষার জন্য তাদের মাঠকর্মীদের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত তালিকা অনুযায়ী নামমাত্র ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান ফকীর আবদুল জব্বার একাধারে রাজবাড়ী জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের চেয়ারম্যান এবং কেকেএসের নির্বাহী পরিচালক। তিনি রেড ক্রিসেন্ট থেকে যাকে ত্রাণ দিয়েছেন তার কাছ থেকে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র ও আলাদা তিনটি মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। কারণ রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণ দিয়ে জেলা পরিষদের হিসাব দেখিয়েছেন। এছাড়া সদস্যদের কাছে জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন জেলা পরিষদের সভা আহ্বান করেননি।

অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও বালিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবদুল হান্নান, ১নং ওয়ার্ড সদস্য ও গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান মিয়া, ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মো. আলাউদ্দিন, ৪নং ওয়ার্ড সদস্য মো. নাজমুল হাসান মিন্টু, ৫নং ওয়ার্ড সদস্য রাশেদুল হক অমি, ৬নং ওয়ার্ড সদস্য ও রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক নূর মোহাম্মদ ভুঁইয়া, ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মীর্জা মো. ফরিদুজ্জামান, ৮নং ওয়ার্ড সদস্য অধ্যাপক আবদুস সাত্তার খান, ১০নং ওয়ার্ড সদস্য মো. মিজানুর রহমান, ১১নং ওয়ার্ড সদস্য ও কালুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম খায়ের, ১২নং ওয়ার্ড সদস্য ও পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ উত্তম কুমার কু-ু, ১৩নং ওয়ার্ড সদস্য আহম্মদ হোসেন, ১৪নং ওয়ার্ড সদস্য মো. শাজাহান আলী, ১৫নং ওয়ার্ড সদস্য মো. হাবিবুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য বেগম নুরুন্নাহার এবং ৫নং ওয়ার্ড সদস্য ডলি রানী দেবদাস।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান ফকীর আবদুল জব্বার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণসামগ্রী কেনা হয়েছে। কিন্তু পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী এলাকার ১০ জন সদস্য এসব গ্রহণ করেননি। তবে অন্য ১০ জন সদস্য ত্রাণসামগ্রী গ্রহণ করেছেন। যেসব সদস্য ত্রাণসামগ্রী নিয়েছেন তাদের মধ্যেও কয়েকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করানো  হয়েছে।’

ত্রাণসামগ্রী কেনার আগে সভা আহ্বান না করার কারণ জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে হবে বিধায় সভা করা হয়নি। এটি পরেও করা যাবে।’

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের বিষয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সচিব মহোদয় বরাবর লিখিত একটি অভিযোগের অনুলিপি আমার হাতে এসেছে। ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা ছাড়া এ বিষয়ে আমার কোনো করণীয় নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত