বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশে বৈধভাবে প্রবাসী আয় প্রেরণে উৎসাহিত করতে সরকারি নগদ সহায়তার শর্ত শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে প্রবাসীরা ৫ হাজার মার্কিন ডলার বা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বৈধ উপায়ে দেশে পাঠালে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়াই ২ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা পাবেন। আগে দেড় হাজার ডলার বা দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত প্রবাসী আয়ে নথিপত্র ছাড়াই নগদ সহায়তা পাওয়া যেত। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এই সুবিধা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রবাসী আয়। করোনায় সংক্রমণের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউনের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ছে মানুষ। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আয় না থাকায় প্রবাসীরাও দেশে টাকা পাঠাতে পারছেন না। ফলে প্রবাসী আয়ে দেশ পড়েছে বড় ধরনের সংকটের মুখে। চলতি বছরের এপ্রিলে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১০৮ কোটি ডলার, তা গত আড়াই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্য কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আয়ও কমে গেছে। সেখানে অবস্থিত বাংলাদেশিরাও চাকরিচ্যুতির শঙ্কায় রয়েছেন। ফলে সামনের দিনগুলোতে প্রবাসী আয় আরও কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নথিপত্র ছাড়া বেশি পরিমাণের রেমিট্যান্সে নগদ সহায়তা সুবিধা বাড়ানো হলো।
এতদিন দেড় লাখ টাকার বেশি প্রবাসী আয়ের ওপর নগদ সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ব্যাংকে ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। গতকাল জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে শর্ত শিথিল করে ৫ লাখ টাকার বেশি প্রবাসী আয়ে নগদ সহায়তা পেতে প্রয়োজনীয় নথি জমার ক্ষেত্রে সময় দুই মাসে উন্নীত করা হয়েছে। প্রতিবার ৫ হাজার ডলারের বেশি প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে নগদ সুবিধা পেতে হলে প্রেরকের পাসপোর্টের কপি, বিদেশি কোম্পানির নিয়োগপত্র, ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসার নথিপত্র জমা দিলে নগদ সহায়তা মিলবে। এই সুবিধা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে অনুমোদনের পর গত ৬ আগস্ট প্রবাসী আয়ে ২ শতাংশ নগদ সহায়তা দিতে নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগস্টে সার্কুলার জারি করা হলেও এটি কার্যকর দেখানো হয় গত বছরের জুলাই থেকে। এর ফলে গত জুলাই থেকে প্রবাসী আয় বৈধভাবে প্রেরণের ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীরা ২ শতাংশ বেশি টাকা পাচ্ছেন।
প্রবাসী আয়ে নগদ সহায়তা দিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
রপ্তানি ও প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের প্রধান খাত। চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের কারণে চলতি এপ্রিলে দেশে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় কমেছে যথাক্রমে ১৮ দশমিক ২৯ ও ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ দুই খাতে আয় কমে যাওয়ায় ব্যালেন্স অব পেমেন্টে ঘাটতির পরিমাণ আরও বাড়বে। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা ও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব মাসেই রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। করোনার প্রভাবে মার্চ থেকে প্রবাসী আয় কমতে শুরু করে। এদিকে ফেব্রুয়ারি, মার্চ এবং সর্বশেষ এপ্রিলে রেমিট্যান্স কমলেও অর্থবছরের ১০ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে ১ হাজার ৩৩০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। আলোচ্য সময়ে রেমিট্যান্স ১৫৭ কোটি ডলার বেড়েছে।
