পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নতুন চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল- ইসলাম। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। শিবলী ছাড়াও কমিশনার হিসেবে আরও তিনজনের নাম চূড়ান্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এসইসিতে চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের বিষয়টি এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে ড. খায়রুল হোসেনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। বর্তমানে শিবলী রুবাইয়াত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. খায়রুল টানা ৯ বছর এসইসির চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার খায়রুলের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে।
জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এসইসির চেয়ারম্যান ও তিন কমিশনার নিয়োগের ব্যাপারে ১০ জনের নামের একটি তালিকা করেছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে তালিকাটি সারসংক্ষেপ আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। গতকাল অর্থমন্ত্রী অনুমোদনের পর সেটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে শিবলী রুবাইয়াতের পাশাপাশি সাবেক সিনিয়র সচিব ড. এম আসলাম আলমসহ আরও একজনের নামও পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অনুমোদন দেওয়ার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করবে।
জানা গেছে, এসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে শিবলী রুবাইয়াত ছাড়াও আরও তিনজন কমিশনার চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসইসির নতুন তিনজন কমিশনারের প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব অজিত কুমার পাল এফসিএ ও কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট একেএম দেলোয়ার হোসেন। অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ ও অজিত কুমার পাল দুজনেই বর্তমানে জনতা ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর একেএম দেলোয়ার হোসেন বর্তমানে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের পরিচালক হিসেবে শিল্প মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ মে থেকে এসইসির নতুন চেয়ারম্যানের মেয়াদ শুরু হবে। আর তিনজন কমিশনারের পদ ফাঁকা থাকায় তারা যেদিন যোগ দেবেন সেদিন থেকেই তাদের মেয়াদ কার্যকর হবে।
২০১০ সালের পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারির পর পুনর্গঠিত কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১১ সালের ১৫ মে ড. খায়রুল নিয়োগ পান। প্রথম দফায় তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে। এরপর দ্বিতীয় মেয়াদে চার বছর এবং সর্বশেষ আইন লঙ্ঘন করে তৃতীয় দফায় দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। একইভাবে ৯ বছর দায়িত্ব পালন করে গেছেন কমিশনার হেলাল উদ্দিন নিজামীও। মাঝখানে কমিশনার হিসেবে অধ্যাপক স্বপন কুমার বালা নিয়োগ পান। তিনিও মেয়াদ শেষে আগের কর্মস্থলে ফিরে গেছেন। বর্তমানে এসইসিতে চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনের পাশাপাশি কমিশনার খন্দকার কামালুজ্জামান দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে কোরাম সংকটে রয়েছে এসইসি।
