গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিসিআর মেশিন পৌঁছানোর তিন দিনেও করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়নি। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কর্মরত আরও পাঁচ শ্রমিকের কভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে। এ নিয়ে মোট ১৫ শ্রমিক আক্রান্ত হলেন। তাদের পাঁচজন হাসপাতালে ও ১০ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. আসাদ হোসেন বলেন, ‘কভিড-১৯ রোগী শনাক্তে গত রবিবার রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পিসিআর মেশিন কলেজে এসেছে। প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি চিকিৎসক তথা মাইক্রোবায়োলজিস্ট, টেকনোলজিস্টসহ পর্যাপ্ত জনবল থাকলেও কিছু সরঞ্জামের অভাবে এটি চালু করা সম্ভব হয়নি।’ কলেজের মাইক্রোবায়োলজিস্ট বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক এস কে সাইফুল আলম বলেন, ‘বায়োসেফটি কেবিনেটসহ আনুষঙ্গিক কিছু সরঞ্জাম চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। এগুলো এলেই নমুনা পরীক্ষার কাজ শুরু হবে।’
জেলা সিভিল সার্জন মো. খায়রুজ্জামান জানান, গাজীপুর থেকে প্রতিদিন ১৫০-৩০০ নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু ফল পেতে অনেক সময় লাগছে। পিসিআর মেশিনটি চালু হলে আরও মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনা যাবে এবং রিপোর্টও দ্রুত পাওয়া যাবে।
এদিকে জেলায় গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ১১টি পোশাক কারখানার ১৫ শ্রমিকের কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। গত ৮ মে পর্যন্ত আক্রান্ত ছিলেন ১০ জন। নতুন পাঁচজনের মধ্যে তিনজন গাজীপুরে এবং দুজন লালমনিরহাটে নমুনা পরীক্ষার পর সংক্রমণ ধরা পড়ে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কাশিমপুরের সাবাবো এলাকায় কারখানার এক শ্রমিকের গত ৬ মে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেপিজে হাসপাতালে পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসে। কিন্তু তিনি পালিয়ে টাঙ্গাইলের নাগরপুরের পুগলি চলে যান। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন তার বাড়িটি লকডাউন করে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এ এস এম ফাতেহ আকরাম জানান, তেলিহাটির একটি কারখানার পুরুষ শ্রমিক (৩০) আক্রান্ত হয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তার গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায়।
গাজীপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিন জানান, দুই পোশাক শ্রমিক টঙ্গীর গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে, সদরের বাঘের বাজার শিরিরচালা এলাকার দুটি কারখানার চার শ্রমিককে ভাড়া বাড়িতে এবং টঙ্গীর আউচপাড়ার কারখানার আরও দুজনকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, তাদের এখানে পৃথক কারখানার তিন শ্রমিক ভর্তি হন। একজন সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন।
লালমনিরহাট জেলার সিভিল সার্জন নির্মলেন্দু রায় জানান, গত ১৮ এপ্রিল ছুটিতে গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকায় কর্মরত দুই শ্রমিক সপরিবারে লালমনিরহাটে আসেন। সেখানে উপসর্গ দেখা দেওয়ায় নমুনা পরীক্ষায় গত ৭ মে পজিটিভ এসেছে। তাদের পরিবারের আরও চারজন আক্রান্ত হয়েছেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও কভিড প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে কারখানা মালিকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এসব মানা হচ্ছে কি না তা নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
