ক্লাসে আনিসুজ্জামান স্যারের কান্নার সে দৃশ্যটি...

আপডেট : ১৪ মে ২০২০, ১০:৪৫ পিএম

তখন আমি সকালের খবরের সহযোগী সাহিত্য-সম্পাদক। উদ্বোধনী সংখ্যার জন্য অজস্র লেখা হাতে আসছে। এর মধ্যে কিছু হাতে লেখা আর বাকিসব কম্পোজ করা। হাতে লেখা কনটেন্টগুলোর অধিকাংশই দুর্বোধ্য, কাটাছেঁড়ায় পরিপূর্ণ। এর মধ্যে একটা লেখা আমার হাতে পড়ল। হাতের লেখা অত্যন্ত চমৎকার, A4 সাইজের ৩-৪ পৃষ্ঠা লেখার মধ্যে কোথাও বিন্দুমাত্র কোনো কাটাছেঁড়া নেই। তার চেয়ে অবাক ব্যাপার হলো পুরো লেখাটির মধ্যে কোনো বানান ভুল নেই। সাধারণত হাতে লেখার ক্ষেত্রে মানুষের একটু আধটু ভুল হতেই পারে।

কিন্তু আনিসুজ্জামানের পুরো লেখায় কোনো ভুল নেই! এটি আমার কাছে তার প্রফেশনাল এক্সিলেন্সের এক অনন্য উদাহরণ। কিন্তু আনিসুজ্জামান সম্পর্কে এটিই আমার সর্বোত্তম স্মৃতি নয়। তার চেয়ে মহত্তম স্মৃতি রয়েছে ছাত্রজীবনের।

আনিসুজ্জামান আমাদের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস পড়াতেন। তিনি ছিলেন পাড় অ্যাকাডেমিক এবং নিজের পাঠ্যক্রমের বিষয়ে অতিশয় নিষ্ঠাবান। ক্লাসে একদিন মধ্যযুগের সাহিত্যের ইতিহাস প্রসঙ্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলার কথা উঠে এল। ক্লাইভের বাহিনী পরাজিত নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে যে অপমান হেনস্তা করল, সেই ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে, হল ভর্তি সব ছাত্রছাত্রীকে অবাক করে দিয়ে, আনিসুজ্জামান স্যার ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন।

কেন সেদিন তিনি অমন করে কেঁদেছিলেন? হতে পারে নিরেট জাতীয়তাবোধ, হতে পারে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ব্যক্তিমানুষের অসহায়ত্ব কিংবা অন্য কোনো কিছু তার হৃদয়ে রেখাপাত করেছিল।

কারণ যাই হোক না কেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক নিয়ে আমার কাছে সবচেয়ে মহৎ স্মৃতি এটাই।

সালাম, প্রিয় শিক্ষক আনিসুজ্জামান!

লেখক: কবি ও আদর্শ প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত