বদলির আদেশের দেড় মাস পার হলেও পাবনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিতর্কিত নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম বাদশা মিয়ার বিরুদ্ধে দায়িত্ব হস্তান্তরে টালবাহানার অভিযোগ উঠেছে। তার কারণে নির্ধারিত সময়ে পাবনা এসেও কর্মস্থলে যোগ দিতে পারছেন না নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান।
পাবনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এখানে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বাদশা মিয়া নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ঠিকাদারদের সঙ্গে বিশেষ সিন্ডিকেট গড়ে বড় বড় প্রকল্পের কাজ তাদেরই পাইয়ে দেন। এমনকি নিজ কার্যালয়ে জেলার বিতর্কিত ঠিকাদারদের নিয়ে থার্টিফার্স্ট পার্টি, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসসহ বিভিন্ন দিবসে ভোজসভা করেন বাদশা মিয়া। সবশেষ করোনায় ত্রাণ তহবিল গঠন করে ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও ওঠে।
এসব অভিযোগে গত ২৫ মার্চ বাদশা মিয়াকে পাবনা থেকে এলজিইডি সদর দপ্তরে বদলি করা হয়। তার জায়গায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাদারীপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমানকে পদায়ন করা হয়।
লিখিতপত্রে আদেশটি জনস্বার্থে এবং অবিলম্বে কার্যকরের কথা বলা হয়। কিন্তু দেড় মাসেও দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি বাদশা মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি দাতা সংস্থার অর্থায়নে পাবনায় এলজিইডির তত্ত্বাবধানে বেশ কিছু বড় উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজে অনুসারী ঠিকাদারদের অনিয়ম ধামাচাপা এবং তাদের বিল পাসের জন্যই যেকোনো মূল্যে জুন পর্যন্ত পাবনায় থেকে যেতে চাইছেন বাদশা মিয়া।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বাদশা মিয়া বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলবেন জানিয়ে কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সদ্য পদায়ন হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘সরকারি আদেশে যোগ দেওয়ার জন্য আমি নির্ধারিত সময়েই পাবনায় এসেছি। কিন্তু আজ (গতকাল) পর্যন্ত দায়িত্ব বুঝে পাইনি। আশা করছি, শিগগিরই দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’
