জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন এবং শিক্ষাবিদরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তারা জানিয়েছেন,অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের চলে যাওয়ায় বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ঝরে পড়ল। এ ক্ষতি কোনো কিছুর বিনিময়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো শোকবার্তায় বলা হয়, উপমহাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি শোকবার্তায় বলেছেন, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ছিলেন একজন আলোকিত মানুষ। দেশে গুণগত শিক্ষার প্রসার ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে তিনি অনবদ্য ভূমিকা রেখে গেছেন। তার মতো একজন গুণী শিক্ষাবিদের মৃত্যুতে জাতির যে ক্ষতি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। ড. আনিসুজ্জামানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে শিক্ষামন্ত্রী তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ইউজিসি চেয়ারম্যান এক শোকবার্তায় বলেছেন, ‘অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষক ছিলেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তার অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে ড. আনিসুজ্জামান ছিলেন এক উজ্জ্বল বাতিঘর। তার মতো কিংবদন্তি শিক্ষাবিদের মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। শিক্ষাক্ষেত্রে তার অনবদ্য অবদান ও তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন তাকে স্মরণীয় করে রাখবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেছেন, ‘আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে দেশ একজন স্বনামধন্য, প্রথিতযশা ও কিংবদন্তি শিক্ষাবিদ হারাল; যিনি শিক্ষকতা, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন এবং এই ভূখণ্ডে ধর্মান্ধতা ও মৌলবাদবিরোধী নানা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে গেছেন।’
এদিকে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালিকদের সংগঠন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি) শোক প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তার অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। তার মতো কিংবদন্তি শিক্ষাবিদের মৃত্যু দেশ ও জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তার শূন্যস্থান সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’
জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের (আইইবি) পক্ষ থেকে শোকবার্তা দেওয়া হয়েছে। এতে আইইবির প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ বলেছেন, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ছিলেন একজন আলোকিত মানুষ। দেশে গুণগত শিক্ষার প্রসারে তিনি অনবদ্য ভূমিকা রেখে গেছেন। দেশ ও জাতির জন্য তার অবদান জাতি সব সময় শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
