দেশে প্রথমবারের মতো করোনা থেকে সেরে ওঠাদের দেহ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করতে যাচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ। সফলভাবে নির্ধারিত মানের প্লাজমা সংগ্রহ করা সম্ভব হলে তা অ্যান্টিবডি হিসেবে দেওয়া হবে করোনা আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীদের দেহে।
চিকিৎসকরা মনে করেন, ভাইরাস আক্রান্ত কোনো রোগী সুস্থ হওয়ার পর তার দেহে তৈরি হয় ওই ভাইরাসেরই অ্যান্টিবডি। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে। এজন্য প্লাজমা থেরাপির এই উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ। দাতা হিসেবে এগিয়ে এসেছেন তিনজন স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, ধারণা করা হচ্ছে যে এই ভাইরাস থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তির শরীরে অ্যান্টিবডি অর্থাৎ হিমোগ্লোবিন জি তৈরি হয়। এটি জার্ম স্পেসিফিক। অর্থাৎ যে ভাইরাস শরীরে আক্রমণ করে ঠিক ওই ভাইরাসের জন্য সেটি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডি যদি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করানো হয়, তবে তা শরীরের ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শুরু করবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল হক তপন বলেন, মেশিনের মাধ্যমে করোনাজয়ী রক্তদাতার শরীর থেকে একব্যাগ পরিমাণ রক্ত বের করা হবে, কিন্তু প্লাজমা অংশটুকু থেকে বাকি অংশ আবার তারই শরীরে ঢুকে যাবে। রক্তদাতার তেমন কোনো পাশর্^প্রতিক্রিয়া হবে না।
তিনি বলেন, এটি ডায়ালাইসিসের মতোই একটি প্রক্রিয়া। এই মেশিনটিতে একটি স্পেশাল কিট ব্যবহার করা হয়। কোনো মেশিনের জন্য এই কিটটি ১৩ হাজার টাকা আবার কোনো মেশিনের জন্য এটি ৮ হাজার টাকা। এটি রোগীর শরীরের সঙ্গে ম্যাচিং করে ব্যবহার করা হয়।
