সপ্তাহের শেষে আঘাত হানতে পারে ‘আমফান’

আপডেট : ১৭ মে ২০২০, ০৬:৫৪ এএম

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে গতকাল সকালের দিকে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। আবহাওয়াবিদরা গতকাল সন্ধ্যার দিকে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পূর্বাভাস দিলেও গত রাত ১০টা নাগাদ তা হয়নি। একটু সময় নিলেও মধ্যরাত বা কাছাকাছি সময়েই এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর। গভীর নিম্নচাপটি গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলো থেকে ১২০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে অবস্থান করছিল। এটি সবচেয়ে কম দূরত্বে রয়েছে ভারতের ওড়িশা থেকে, তাও ১০৪০ কিলোমিটার। দুই দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরই বলছে ঘূর্ণিঝড়টি শক্তিশালী রূপ নিতে পারে এবং সপ্তাহের শেষ নাগাদ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন গত রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, গভীর নিম্নচাপটি আজ (গতকাল) রাত ১২টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এর নাম আমফান। এটি এখনো বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে। এখন পর্যন্ত এর গতিপথ অনুযায়ী এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল অর্থাৎ খুলনা, মোংলা, সাতক্ষীরা অঞ্চল ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানতে পারে। তবে আঘাত হানলেও ২০ তারিখের আগে নয় বলে জানান তিনি। এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া দেশের আবহাওয়ার ওপর নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব এখনো পড়েনি বলে জানান তিনি। দেশের স্বাভাবিক তাপমাত্রা আরও দুয়েক দিন প্রায় অপরিবর্তিত থেকে আগামী ১৯ তারিখ থেকে কিছুটা কমতে পারে বলে জানান তিনি।

অধিদপ্তরের ঘূর্ণিঝড়বিষয়ক ৬ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় জানানো হয়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও সামান্য পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি ওই সময় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৫৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১২৯০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১২৯৫ ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়, গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। দেশের চারটি প্রধান সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

এদিকে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের গতকাল সন্ধ্যার বুলেটিন অনুযায়ী গভীর নিম্নচাপটি সর্বশেষ ৬ ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার বেগে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এদিন সন্ধ্যা ৬টায় এটি ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে ১০৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে, পশ্চিমবঙ্গের দিঘা থেকে ১২০০ কিলোমিটার ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকে ১৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। পরবর্তীতে এটি আরও ঘনীভূত হয়ে আগামীকাল সোমবার সকালের মধ্যে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

দেশের স্বাভাবিক আবহাওয়ায় গত শুক্রবার কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ কমলেও গতকাল আরও কিছু এলাকায় ছড়িয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গতকাল মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, রাজশাহী, পাবনা ও পটুয়াখালী অঞ্চলসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায় এবং তা আজও অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি এখনো অব্যাহত আছে। গতকাল রংপুর বিভাগে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে নেত্রকোনায় ৪৭ মিলিমিটার। বেশি বৃষ্টির কারণে গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ছিল নেত্রকোনায় ২১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া ও বিজলী চমকানোসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত