চলে গেলেন সংগীত পরিচালক আজাদ রহমান

আপডেট : ১৭ মে ২০২০, ০৭:০৯ এএম

একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক আজাদ রহমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজাদ রহমান অনেক দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তার মধ্যে করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ ছিল না। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনি।’

আজাদ রহমানের মরদেহ সমাহিত করার ব্যাপারে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান গুলজার। তিনি বলেন, ওনার তিন মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। তারা কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

এদিকে আজাদ রহমানের মৃত্যুর খবর জানার পর শোকের ছায়া নেমে আসে। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিসহ অনেক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন শোক জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক প্রকাশ করেছেন অনেকে। 

বাংলাদেশে খেয়াল জনপ্রিয় করার পেছনে আজাদ রহমানের অবদান সবচেয়ে বেশি। তিনি বেশ কিছু দিন নজরুল ইনস্টিটিউটে শিক্ষকতা করেছেন। চলচ্চিত্রে সংগীত শিল্পী হিসেবে তিনি একবার, সংগীত পরিচালক হিসেবে দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’, ‘ভালোবাসার মূল্য কত’, ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’, ‘মনেরও রঙে রাঙাব’, ‘ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়’, ‘এক বুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু’সহ অনেক গানে সুর দিয়েছেন তিনি।

আজাদ রহমানের জন্ম ১৯৪৪ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায়। রবীন্দ্র ভারতী বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি কীর্তন, ধ্রুপদি সংগীতের পাশাপাশি খেয়াল, টপ্পার চর্চা করেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে এসে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন আজাদ রহমান। ১৯৬৩ সালে কলকাতার ‘মিস প্রিয়ংবদা’ চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনার মধ্য দিয়ে আজাদ রহমানের চলচ্চিত্রে আগমন। সেই চলচ্চিত্রে তার সুরে কণ্ঠ দেন মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, আরতি মুখার্জি ও প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাবুল চৌধুরীর ‘আগন্তুক’ চলচ্চিত্রের গানে সুর দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে শুরু হয় আজাদ রহমানের পথ চলা।

১৯৭৭ সালে ‘যাদুর বাঁশি’ ও ১৯৯৩ সালে ‘চাঁদাবাজ’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ‘চাঁদাবাজ’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত