বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় আমফান আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। গতকাল সকালের দিকে এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। এটি গত রাত পর্যন্ত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। তবে এটি ঘণ্টায় মাত্র পাঁচ কিলোমিটার বেগে এগোচ্ছিল। তখন বাংলাদেশ থেকে এখনো ১২০০ কিলোমিটার ও ভারতের ওড়িষা থেকে হাজারের কিছু কম দূরত্বে অবস্থান করছিল। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আমফান আগামী বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপ ও পশ্চিমবঙ্গের দীঘা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গত রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফান রাত ৯টার দিকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এটি তখন পর্যন্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছিল। আমফান এখনো বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১২০০ কিলোমিটার দূরে আছে। এটি বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করে কি না এখনো নিশ্চিত নয়, কারণ এরমধ্যে এটি তার গতিপথ পরিবর্তনও করতে পারে।
গতকাল রাত ৯টায় অধিদপ্তরের ১৩ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফান সামান্য উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৮৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ২২০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১ হাজার ২১০ কিলোমিটার ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে, যাতে অল্প সময়ের নোটিসে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফান গতকাল বিকাল ৩টার দিকেই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এটি সর্বশেষ ৬ ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার বেগে অগ্রসর হচ্ছিল। গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে এটি ওড়িষার পারাদ্বীপ থেকে ৯৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পশ্চিমবঙ্গের দীঘা থেকে ১ হাজার ১১০ কিলোমিটার ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া থেকে ১ হাজার ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি আরও ঘনীভূত হয়ে মহাপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আগামী বুধবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে এটি মহাপ্রবল থেকে আরেকটু দুর্বল হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপ ও পশ্চিমবঙ্গের দিঘা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
এদিকে দেশের স্বাভাবিক আবহাওয়ায় অধিকাংশ জায়গায় তাপমাত্রা বেড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিও অব্যাহত রয়েছে। আগের দিনের মতো গতকালও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে ৫২ মিলিমিটার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে রাজশাহীতে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল বগুড়ায় ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন রাজধানীতেও গরম বেড়েছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি ও রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, মাদারীপুর, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, রাজশাহী, পাবনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে।
