ডেঙ্গু আতঙ্ক, চিকিৎসার দুশ্চিন্তা

আপডেট : ১৯ মে ২০২০, ০২:০৪ এএম

রাজশাহীতে নতুন করে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী। তবে করোনাভাইরাসের এই সময়ে নগরীতে মশা নিধন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে আতঙ্ক বাড়ছে ডেঙ্গুর। সিটি করপোরেশন বলছে, ঈদের পর আবারও মশা নিয়ন্ত্রণে নামবে তারা। তবে নগরবাসীর অনেকে বলছেন, এখনই মশার উপদ্রব থামানো না গেলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেবে। আর করোনার মধ্যে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। 

গত বছরের মে মাসে রাজশাহীতেও ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ শুরু হয়। আর ওই সময় থেকেই অন্যান্য জেলার মতো ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেয় সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে এ বছর করোনার কারণে ডেঙ্গু মোকাবিলায় এখনো স্বাস্থ্য বিভাগ বা সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো প্রস্তুতি দেখা যায়নি। দিনে-রাতে মশার উৎপাত দেখা দেওয়ায় ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নগরে। করোনার কারণে এমনিতেই রাজশাহীতে বেসরকারি হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসা বন্ধ। তার ওপর ডেঙ্গু দেখা দিলে কাক্সিক্ষত সেবা পাওয়া নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীতে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৬৮৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। গত বছর প্রথমে কেবিনগুলোকে ডেঙ্গু ওয়ার্ড বানিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে চক্ষু ওয়ার্ডকেও ডেঙ্গুর জন্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ বছর রামেকে বেশ কিছু ওয়ার্ডে ফ্লু কর্নার এবং সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফলে ওই ওয়ার্ড ডেঙ্গু রোগীর জন্য আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তবে অন্য একটি ওয়ার্ডে প্রস্তুতির কাজ চলছে।

এদিকে নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখন আর সকাল-সন্ধ্যা নেই। সব সময়ই মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে থাকতে হয়। তবে সন্ধ্যার পর মশার যন্ত্রণায় টেকা দায় হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর স্প্রে বা মশার কয়েল না জ্বালালে বসে থাকা যাচ্ছে না। 

মশার উপদ্রব বাড়লেও মশা নিধনে সংশ্লিষ্টদের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না। করোনা নিয় যখন দেশজুড়ে আলোচনার শুরু ওই সময় নগরীতে পাড়া-মহল্লায় স্প্রে করতে দেখা গেলেও এসবের আর দেখা নেই। ওই সময় নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও দেখা যায়। 

মশা নিধন বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার বলেন, সারা বছরই আমাদের মশা নিয়ন্ত্রণে তেল ছিটানো হয়। তবে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সব নালায় লার্ভাসাইট ও কালো তেল স্প্রে করা হয়েছে। তিন মাস আগেও তিন সপ্তাহ ফগার স্প্রে করা হয়েছে। এ ছাড়া আসছে ঈদের পর থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে মশক নিধন অভিযান চালানো হবে। এরপর নগরে মশার উপদ্রব কমে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস বলেন, তারা বর্তমানে করোনাভাইরাসের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ডেঙ্গু নিয়েও তাদের প্রস্তুতি চলছে। গত বছর যা ছিল এ বছরও তাই হবে। ইতিমধ্যে হাসপাতালের ২৫ নং ওয়ার্ড ডেঙ্গুর জন্য আলাদা করার কাজ চলছে। এ ছাড়া সব প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য বলেন, সব ধরনের কার্যক্রম চলছে। আমাদের ডেঙ্গু নিয়ে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত