একুশে পদকপ্রাপ্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধ্যাপক মজিবর রহমান (দেবদাস) মারা গেছেন। গত রবিবার রাত ৪টায় জয়পুরহাটের সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের মহুরুল গ্রামে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। গতকাল সোমবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাষ্ট্রীয় সালাম দেওয়ার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার ভাস্তি জামাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসিবুল আলম প্রধান গতকাল বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।
অকৃতদার এই অধ্যাপককে ২০১৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। তার মৃত্যুতে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও জ্যেষ্ঠ সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল শোক জানিয়েছেন। অধ্যাপক মজিবর রহমানের জন্ম ১৯২৮ সালে। ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যিনি ফলিত গণিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে বগুড়া ও কুমিল্লায় দুটি কলেজে অধ্যাপনা করে চলে যান মেলবোর্নে, গণিতে উচ্চতর পড়াশোনা করতে। ফিরে এসে যোগ দেন করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৬৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন।
একাত্তরে পাকিস্তানিদের নৃশংস গণহত্যার প্রতিবাদে যিনি নাম বদলে ‘দেবদাস’ রাখেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পাকিস্তানি মিলিটারি একটানা পাঁচ মাস তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করে। দেশ স্বাধীন হলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে যোগ দিতে চাইলে দেবদাস নাম পরিত্যাগ করতে বলা হয়। কিন্তু অধ্যাপক মজিবর রহমান তা করতে রাজি ছিলেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে দেবদাস নামে কোনো শিক্ষক না থাকায় কর্র্তৃপক্ষ এই নামে তাকে পুনর্নিয়োগ দিতে অস্বীকার জানায়। বাধ্য হয়ে তিনি এফিডেভিট করে নাম পরিবর্তন করেন। পরবর্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ তার মানসিক স্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে বীতশ্রদ্ধ অধ্যাপক কাজে ইস্তফা দিয়ে পদত্যাগপত্র লিখলেন। ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে তিনি পদত্যাগপত্র দাখিল করলেন। চাকরি ছেড়ে মজিবর রহমান দেবদাস অভিমানে অপমানে চলে গিয়েছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে, জয়পুরহাটের নিভৃত পল্লীতে। ১৯৯৭ সালে হাসিবুল আলম প্রধান তাকে খুঁজে বের করেন। ১৯৯৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগ তাকে সম্মাননা জানায়।
