করোনা নিয়ে সাড়া জাগানো অ্যানিমেশন মুভি

আপডেট : ১৯ মে ২০২০, ০৩:৫৭ এএম

শিশুদের করোনা নিয়ে সচেতন করতে অ্যানিমেটেড মুভি নির্মাণ করেছেন নাইজেরিয়ার পরিচালক নিয়ি অ্যাকিনমোলায়ান। নিজের খরচে বানানো মুভিটি দেখাচ্ছেন বিনামূল্যে। এরই মধ্যে সিনেমাটি দেখানো হয়েছে ব্রাজিল, আইভরি কোস্ট, তুরস্ক, চীন ও কেনিয়ার টিভি চ্যানেলে। লিখেছেন রাজু আহমেদ

করোনা থেকে বাঁচা বড়দের জন্য যেমন, তেমনি কঠিন ছোটদের জন্যও। কারণ শিশুদের ঘরে রাখা সত্যিই কষ্টকর। শিশুরা বন্ধুদের কাছে বা বাইরে গিয়ে খেলতে যেতে চায়। নিয়ির সিনেমাটিতে বোনকে ভাই জিজ্ঞেস করে, সে কেন বাইরে যেতে পারছে না। তখন বেরিয়ে আসে করোনাভাইরাসরূপী দৈত্য। অ্যাকিনমোলায়ানের ১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের এই মুভিতে আছে সেই গল্প।

দুই ভাই-বোনের গল্প

নিয়ি অ্যাকিনমোলায়ান পরিচালনা করা অ্যানিমেশনটির নাম ‘এক্সপ্লেইনিং কভিড-১৯ টু কিডস’ (শিশুদের কাছে কভিড-১৯-এর ব্যাখ্যা)। এক কথায় দুই ভাই-বোনের দারুণ গল্প। এদের নাম হাবিব ও ফাংখা। গল্পের শুরুতেই বোন ফাংখা বেসিনে সাবান দিয়ে হাত ধুচ্ছে করোভাইরাস ঠেকাতে। এই ফাঁকে ছোট ভাই হাবিব চুপি চুপি ফুটবল নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। তবে দরজা খোলার সময় বোন দেখে ফেলল। হাবিব এখনো নিজে দরজা খুলতে পারে না। বোন বলল, ‘তুমি বাইরে গেলে আমাদের সবাইকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত করবে। বাবা-মা সবাইকে অসুস্থ করে ফেলবে। তাতে তারা মারাও যেতে পারেন।’ এরপর বোন তাকে দরজা খুলে দেখাল, বিশাল দৈত্যের ভয়ংকর রূপ নিয়ে করোনাভাইরাস রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভয় পেয়ে বাড়ি থেকে আর বের হলো না হাবিব। সে বেসিনে হাত ধুতে লাগল। তখন করোনাভাইরাসের ছোট একটি খেলনা নিয়ে এলো বোন। ভয়ে সে অজ্ঞান এই অ্যানিমেশন মুভিতে যেমন আছে শিশুদের জন্য করোনাভাইরাস কী, কীভাবে আমাদের আক্রান্ত করছে, বাইরে গেলে কী হবে আর ভাইরাস কীভাবে ঠেকাতে হবে তার উত্তর; তেমনি আছে পৃথিবী আবার আগের মতো হয়ে উঠবে সেই তথ্য। শিশুদের ভুবন ও মনোজগৎ খুব ভালোভাবে তুলে ধরছেন নির্মাতা। যেসব শিশু মুভিটি দেখেছে, তারা এর বিষয়গুলো নিজেদের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলতে পেরেছে। লাগোসের বাড়িতে বোনের সঙ্গে মুভিটি দেখার পর নয় বছর বয়সের এজিচি নোয়াওগু বলেছে, ‘আমার এখানে প্রিয় অংশটি হলো, যখন বালকটি দরজা খুলল ও বাইরে তাকিয়ে করোনাভাইরাস দৈত্যকে দেখল। তারপর সে সর্বশক্তি দিয়ে দরজাটি বন্ধ করে দিল। ভেতরে চলে আসতে বাধ্য হলো। আমি জানি, এখন যেকোনো জায়গা বা বাইরে বেরোনোর জন্য ঠিক সময় নয়।’

সবার জন্য উন্মুক্ত

সচেতনতা তৈরি করার জন্য অ্যানিমেশন মুভির পরিচালক ও প্রযোজক নিয়ি অ্যাকিনমোলায়ান বিনামূল্যে দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন এ মুভি। প্রথমে নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় ভাষায় এরপর ইংরেজিতে অ্যানিমেশনটি তৈরি করেছিলেন তিনি। শিশুরা যাতে বুঝতে পারে সেজন্য ইউরোবা (আনুমানিক চার কোটি দক্ষিণ পশ্চিম আফ্রিকার মানুষের ভাষা), ইগবো (সাড়ে চার কোটি দক্ষিণ-পূর্ব নাইজেরিয়ার মানুষের ভাষা), হাউসা (আফ্রিকার হাউসা জনগোষ্ঠী, তারা সাব-সাহারান আফ্রিকার বড় আদিবাসী জনগোষ্ঠী। সাত কোটি মানুষের ভাষা) ভাষার মানুষের জন্য রূপান্তর করেছেন। নিয়ি মুভিটি সম্পর্কে নিজের টুইটারে লিখেছেন, “আমি অ্যানিমেশন মুভিটি চারটি ভাষায় তৈরি করেছি, যাতে লকডাউন ও করোনাভাইরাস সম্পর্কে শিশুদের ভালোভাবে বোঝানো করা যায়। সবগুলো ভিডিও আমি ইউটিউবে একটি ফোল্ডার করে দিয়েছি। সবাই অ্যানিমেশন মুভিটি নিতে পারেন টিভি স্টেশনের জন্য। কেউ যদি স্পনসর করে ইউটিউবে দিতে চান; তারাও পারেন। এখান থেকে ডাউনলোড করুন উড়হিষড়ধফ যবৎব ‘যঃঃঢ়ং://বি. ঃষ/ঃ-ঊইীইধনতধীঃ’।” এ বিষয়ে তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘আমার গুগল ড্রাইভে সাউন্ড ট্র্যাকও দিয়ে দিয়েছিলাম, যা জনগণের জন্য উন্মুক্ত, যেকোনো মানুষ এই অ্যানিমেশনে শুধু একটি সাবটাইটেল ব্যবহার করেই রেকর্ড করতে পারেন তার ভাষায়। আইভরি কোস্টের কিছু মানুষ সেভাবে একে ফরাসি ভাষার অ্যানিমেশনে রূপ দিয়েছেন। পূর্ব আফ্রিকার মানুষরা একে সোয়াহিলি (এই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, দুই কোটি লোক কথা বলেন) ভাষায় রূপান্তর করেছেন। ব্রাজিলিয়ান ভাষায় মুভিটি দেখে নিজেই বিস্মিত হয়েছি। আমার এই অ্যানিমেশন দেখানো হয়েছে তুরস্কের ও চীনের জাতীয় টেলিভিশনে।’ কেনিয়াতেও দেখানো হয়েছে। পর্তুগিজ ভাষাতেও রূপান্তরিত হয়েছে। অনেক বেসরকারি টিভি চ্যানেলেও চলছে। সব ভাষাতেই নিচে ইংরেজি সাব-টাইটেল ব্যবহার করা হয়েছে।

নাইজেরিয়ার সফল পরিচালক

নিয়ি অ্যাকিনমোলায়ান পেশায় একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও গণমাধ্যম পরামর্শক। জন্ম দক্ষিণ-পশ্চিম নাইজেরিয়ার অনডো প্রদেশে। প্রকৌশল বিদ্যায় ইয়াবা কলেজ অব টেকনোলজি থেকে ডিগ্রি নেওয়ার পর আর ভালো লাগেনি। কাজ শুরু করলেন নামি চলচ্চিত্র পরিচালকদের শিক্ষানবিস হিসেবে। ছিলেন গ্রাফিকস, ওয়েবসাইট ডিজাইনারও। শুরু থেকেই তিনি ভালো ভিডিও এডিটর, অ্যানিমেশন নির্মাতা, আফটার ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট নির্মাতা হিসেবে খ্যাতি পান। ২০১০ সালে মুক্তি পায় প্রথম মুভি ‘কাজোলা’। ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের নিরীক্ষায় মুভিটি সুনাম কুড়িয়েছে। মুভিটির ভিজ্যুয়াল ইফেক্টগুলো তার কোম্পানি ‘আনহিল স্টুডিওস’ থেকে তৈরি। ২০১৪ সালে নাইজেরিয়াতে বানালেন নাচের মুভি ‘মেক অ্যা মুভ’। পরের বছর সেরা মুভি হিসেবে দর্শকদের বিচারে ‘আফ্রিকা ম্যাজিক ভিউয়ার্স চয়েজ অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছে। তার পরের বছর তৈরি করেছেন ‘ফলিং’। মুভিটি পরের বছর তাকে নাইজেরিয়া এন্টারটেইনমেন্ট অ্যাওয়ার্ডসে সেরা পরিচালকের স্বীকৃতি এনে দেয়। সে বছর এই পরিচালক মুক্তি দেন তার থ্রিডি অ্যানিমেটেড স্বল্পদৈর্ঘ্য মুভি ‘প্লে থিং’। ২০১৭ সালে তার মুভি ‘অরবিটেশন’ টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেখানো হয়। এটির সাফল্যের পর অন্যরকমের এক পরিকল্পনায় নামলেন তিনি। নিজের ব্লগে গল্প চাইলেন। ৩০০-এর বেশি গল্প পেলেন; সেগুলোর মধ্যেই হলো তার প্রামাণ্যচিত্র ‘রুম ৩১৫’। সে বছরই প্লে থিং মুভিটির সাফল্যে তিনি বানালেন ‘অ্যাডভেঞ্চার অব লোলা অ্যান্ড চুচু’ নামের অ্যানিমেশন গল্পের সিরিজ। নামকরা এই চলচ্চিত্র পরিচালক নলিউডের সিনেমা (নাইজেরিয়ার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে এই নামে ডাকা হয়) ‘দ্য সেটআপ’, ‘চিফ ড্যাডি’ও পরিচালক।

যেভাবে করোনাভাইরাস নিয়ে মুভি হলো

নিয়ি অ্যাকিনমোলায়ান লাগোসভিত্তিক আনহিল প্রডাকশনসের প্রতিষ্ঠাতা ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর। যার শুরু ২০০৮ সালে। এটি একটি গণমাধ্যম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। অ্যানিমেশন মুভিটি এখান থেকে তৈরি করেছেন। করোনাভাইরাসের কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ। তারপরও জনসাধারণকে, বিশেষ করে শিশুদের সচেতন করতে কাজ করেছেন তারা সবাই। বাড়িতে বসে তার ১০ জন কর্মী কাজ করে মুভিটি তৈরি করেছেন। নিয়ি বলেন, ‘এমন উপায় আমি বেছে নিয়েছি যাতে করোনাভাইরাসকে গ্রাফিকস ও অ্যানিমেশনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়; আমাদের মুভি বানাতে সবাইকে এক জায়গায় জড় করতে হয়নি’, নিয়ি অ্যাকিনমোলায়ান আরও জানিয়েছেন, ‘মুভিটিতে ভাইরাস সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানতে চাওয়া প্রশ্নগুলোরও উত্তর আছে। করোনা নিয়ে অনেক ভুল তথ্য ও ভুয়া খবরও আছে। আমি উপলব্ধি করেছি এটা। ভাইরাসটি সম্পর্কে মানুষ বুঝতে পারছেন না। ফলে সবচেয়ে সেরা উপায়ে মুভিটি তৈরি করেছি।’ ১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের মুভিটি আপলোড করেছেন তিনি টুইটারেও। সেখানে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং বাড়ির ভেতরে থাকার প্রয়োজনীয়তা সবাইকে বোঝানো হয়েছে। কীভাবে ভাইরাস একের মাধ্যমে অন্যের শরীরে ছড়িয়ে যায় ও এর উপসর্গ কেমন তাও দেখিয়েছেন। জোরে কাশা, গায়ে অনেক জ্বর ও নিঃশ্বাস নিতে না পারার সমস্যাগুলোও জানানো হয়েছে। পরিচালক বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো বিশ্বাসযোগ্য সূত্রগুলো থেকে তথ্য নিয়ে মুভিটি তৈরি করেছি। আরও বলেছেন, ‘আমি খেয়াল করে সব তথ্যকে ইংরেজিতে দিয়েছি, ফলে হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাজে বা ভুল ধারণাগুলোর মধ্যে সত্যি কথা হিসেবে এটি বন্যার মতো ছড়িয়ে গিয়েছে। অনেক বাবা-মা এটি শেয়ার করেছেন, দাদা-দাদি, নানা-নানি যারা ইংরেজিকে অত গুরুত্ব দেন না; তারা কার্টুন হিসেবে একে গ্রহণ করেছেন।’

ছেলেকে জানালেন বাবা

কেন অ্যানিমেশন মুভি বানিয়েছেন প্রশ্নের জবাবে বললেন, আমার পাঁচ বছরের ছেলেকে অনেকভাবে লকডাউন কী ও কেন বোঝানোর চেষ্টা করার পর ভাবলাম অ্যানিমেশনের মাধ্যমে তার বয়সী সবাইকে বোঝানো সহজ হবে। রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, শুরুতে ছেলে বুঝতে পারেনি। যখন অ্যানিমেশনের বিরাট দৈত্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে; যদি তুমি বাইরে বের হও সে তোমাকে আক্রমণ করবে। তখন সে ভালোভাবে বুঝল।’ মুভিটি বানানোর পেছনের কারণ হিসেবে তিনি আরও বলেন, আপনি আপনার ছেলে বা মেয়েকে বলতে চান, বাইরে যেও না। কিন্তু তাহলে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন তাকে ভেতরে থাকতে হবে। আরও ব্যাপকভাবে বললে, আপনাকে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন তাকে বারবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। এটি ছিল আমার জন্য সত্যিই কঠিন কাজ। তাই করোনাভাইরাসের দৈত্যের গল্পটি দিয়ে আমার কথা বললাম।’ নিজের সিনেমাটি সম্পর্কে বললেন, ‘আমি ব্যাখ্যা করেছি এই দৈত্যটি মা ও বাবাকে নিয়ে যাবে। তাহলে আর কোনো আইসক্রিম খাওয়া যাবে না এবং ভালো কোনো খাবারও খেতে পাওয়া যাবে না। কিনে দেবে কে?’ এই সমস্যাটি যেহেতু আমার ক্ষেত্রে হয়েছে, আমার ধারণা অনেক বাবা-মাও এ সমস্যায় পড়েছেন।

নলিউড ও অ্যানিমেশন

বছরে ২৩৯ বিলিয়ন নাইজেরিয়ান মুদ্রা নায়রা বা ৬১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান সিনেমা বানাতে পারে নাইজেরিয়ার চলচ্চিত্র শিল্প। প্রতি বছর প্রচুর মুভি তৈরি হয়। তবে অ্যানিমেশন মুভি খুব একটা তৈরি হয় না। অ্যানিমেশন দারুণ জনপ্রিয় নিয়ি অ্যাকিনমোলায়ান। তিনি ‘মালিকা’র মতো অ্যানিমেটেড সিরিজ বানিয়েছেন ও প্রযোজনা করেছেন। ১৬ শতকে নাইজেরিয়ার শাসক রানী ‘আমিনা’র জীবন নিয়ে তৈরি সিরিজটি। ‘আমিনাতু’ নামেও বিখ্যাত এই নারী ছিলেন হাউসা যোদ্ধা; তিনি নগর রাষ্ট্র ‘জাজাও’র শাসক। আসল জীবন কাহিনী জানা যায় না। পরবর্তীকালের বীরদের মাধ্যমে নাইজেরিয়া ও আফ্রিকার লোককাহিনীতে বেঁচে আছেন। ১৫৬৬ সালের দিকে তার ভাই ‘কারমা’ জাজাওয়ের রাজা হওয়ার পর তার সৈন্যবাহিনীতে আমিনা প্রধান যোদ্ধা ছিলেন। তিনি তার সামরিক দক্ষতার সুনাম কুড়ান। ১৫৭৬ সালে ভাই মারা যাওয়ার পর আমিনা রানী হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করেন। হাউসাদের সত্যিকারের সাতটি রাজ্যের মধ্যে অন্যতম ছিল তার রাষ্ট্র। শাসন শুরুর মাস তিন পরে রাজ্যকে বাড়ানোর জন্য যুদ্ধ শুরু করলেন রানী। তার সেনাবাহিনীতে ছিল ২০ হাজার হাঁটা সৈন্য এবং এক হাজার ঘোড়সওয়ার সেনা। তারা সবাই ছিলেন খুব ভালোভাবে প্রশিক্ষিত ও ভয়ানক। রানী ক্ষমতায় এসে নগরের মানুষদের প্রথমেই বলেন, ‘আপনাদের অস্ত্রে শান দিন।’ নিজের রাজ্য রক্ষা ও কর্র্তৃত্ব বজায় রাখতে রাণী আমিনা পোড়ামাটির দেয়াল দিয়ে সীমানা ঘিরে দিতেন। ব্রিটিশরা ১৯০৪ সালে নাইজেরিয়া দখলের আগ পর্যন্ত পুরো দেশে দেয়ালগুলো দেখা যেত। এখনো অনেক দেয়াল দেখা যায় যাকে ‘আমিনার দেয়াল’ বলা হয়। লাগোসের ন্যাশনাল আর্ট’স মিউজিয়ামে রানী আমিনার ভাস্কর্য আছে।

পরিচালকের প্রত্যাশা

নিয়ি অ্যাকিনমোলায়ান চান, দেশে যেন আরও অ্যানিমেশন মুভি তৈরি হয়। যার মাধ্যমে শিশুদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগীত শেখানো যাবে। করোনাভাইরাস দৈত্যের মতো জটিল বিষয়গুলো বোঝাতে আরও বেশি অ্যানিমেশন তৈরি হোক। তিনি বললেন, ‘আমাদের শিশুদের চিন্তা করার ক্ষমতা বা শক্তি নিয়ে ভাবা দরকার ও পারিবারিক বিষয়গুলো নিয়ে মুভির প্রযোজনা করা প্রয়োজন।’

নাইজেরিয়ায় করোনা

নাইজেরিয়ায় ১৪ মে পর্যন্ত ১৫৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে। রোগী ৪ হাজার ৭৮৭ জন। মৃত রোগীদের মধ্যে আছেন দেশের রাষ্ট্রপতির চিফ অব স্টাফও। নাইজেরিয়ার বাণিজ্যিক কেন্দ্র লাগোস এবং প্রধান শহর আবুজাতে ৩০ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের মহামারী ঠেকাতে লকডাউন চলছে। পুরো দেশটি এখন থেমে আছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত