ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর ৯ বছরের সংসার ভেঙে গেছে। রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদের কথা জানান অপূর্বর স্ত্রী নাজিয়া হাসান অদিতি। স্বামী-স্ত্রীর বনিবনা না হওয়ার কারণেই বিচ্ছেদ হয়েছে বলে জানা যায়।
১৭ মে সন্ধ্যায় নাজিয়া হাসান তার ফেইসবুকে বলেন, ‘আমাকে ভাবি ডাকা বন্ধ করুন।’ তার কিছুক্ষণ পরই মুখ খুলেন নাজিয়া হাসান অদিতি।
কেন, কী কারণে বিয়ে বিচ্ছেদ হয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলতে চান না অদিতি। বিষয়টি ব্যক্তিগতই রাখতে চান। অদিতি বলেন, ‘আমি চাই না বিষয়টি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি হোক। আমরা আর একসঙ্গে থাকছি না। এটাই বড় কথা।’
এদিকে বিচ্ছেদের খবর প্রকাশের পরপরই অপূর্বর ব্যক্তিজীবন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করার আহ্বান জানান অদিতি। তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদ জিয়াউল ফারুক অপূর্ব একজন দারুণ বাবা, প্রেমময় ভাই, দায়িত্বশীল পুত্র এবং একজন ভালো মানুষ। মিলিয়ন ভক্তের প্রিয় তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তিনি তার যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন। তার ব্যক্তিগত জীবন দিয়ে নয়, দয়া করে তার অসাধারণ কাজগুলো দ্বারা তাকে বিচার করুন।’
বিচ্ছেদ নিয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা অসংখ্য কারণে একসঙ্গে থাকছি না, তবে আমি তার সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন কামনা করছি। তিনি আমাকে আমার সবচেয়ে বড় উপহার হিসেবে আমার ছেলে ‘আয়াশ’কে উপহার দিয়েছেন।’
তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা সব সময় আমাদের ভালোবেসেছেন এবং সমর্থন দিয়েছেন। আশা করি ভবিষ্যতেও এই ভালোবাসা অব্যাহত রাখবেন।’ কোনো ধরনের চটকদার সংবাদ পরিবেশন না করার জন্যও সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন অদিতি।
ঠিক তার পরেই বিয়ে নিয়ে মুখ খুলেন অপূর্ব। তিনি বলেন, ‘নাজিয়া হাসানের সঙ্গে আমার ৯ বছরের দারুণ পথচলা অনাহূত কারণে ঘুরে গেছে। এ কারণে আমি কিছুটা বিচলিত। যদিও আমরা নিজেদের জন্য এমনটি চেয়েছিলাম তা নয়। তবে দুঃখের বিষয়, জীবন আজ আমাদের এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। এতটা বছর ধরে আমরা একসঙ্গে ছিলাম। সে বরাবরই ভালো সঙ্গী এবং সত্যিকারের শুভাকাক্সক্ষী। আমার অনেক সাফল্যের পেছনে তার মূল ভূমিকা ছিল। ও অসাধারণ একজন মানুষ, আত্মবিশ্বাসী উদ্যোক্তা ও সবকিছুর ঊর্ধ্বে খুব দয়ালু ও মানবিক। যদিও ক্যারিয়ারে অনেক কিছু অর্জন করেছি, তবু সবসময়ই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হয়ে থাকবে আমাদের ছেলে আয়াশ। পিতৃত্বের এই দারুণ উপহারের জন্য নাজিয়াকে ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করা যাবে না। সে আমার সন্তানের জন্য আদর্শ মা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং ছেলের জন্য আমরা উভয়ে অভিভাবক হিসেবে নিজেদের কর্তব্য পালন করে যাব। আমি জানি, বিয়ের মতো পবিত্র সম্পর্ক ভেঙে গেলে অনেক প্রশ্ন জন্ম নেয়। তবু আমার বন্ধু, সহকর্মী এবং সর্বোপরি আমার লাখ লাখ ভক্তকে আমাদের প্রতি সদয় হতে বলব। জেনে রাখুন, আমাদের সবার জন্য ভালো হবে এমন কিছু কারণে এই সিদ্ধান্ত। পরিবার আমাদের পাশে আছে। আশা করি আপনারাও তা-ই করবেন, যাতে আমি ও নাজিয়া এই কঠিন সময় অতিক্রম করতে পারি। আমাদের তিনজনের জন্য প্রার্থনা করবেন।’
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৪ জুলাই পারিবারিকভাবে অদিতিকে বিয়ে করেছিলেন অপূর্ব। তাদের সংসারে আয়াশ নামে এক পুত্রসন্তান রয়েছে। অপূর্ব এর আগে ২০১০ সালের ১৯ আগস্ট অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভাকে বিয়ে করেছিলেন। পরের বছর ফেব্রুয়ারিতেই ডিভোর্স হয়ে যায় তাদের।
