কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা ধরে রাখতে সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ব্যবসায়ীদের বিশেষ ঋণ পেতে সহয়তা করবে এফবিসিসিআই।
লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গতকাল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।
তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নতুন উদ্যোক্তারা। ব্যাংক মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়েছিল, তারা অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশকে সরকারের সার্কুলার অনুযায়ী এসএমই খাতে সহায়তার জন্য ব্যবস্থা নিতে বলবেন এবং প্রয়োজনে এফবিসিসিআইর চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সহযোগিতা নেবেন। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান ফলপ্রসূ কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করছি না। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়গুলো এখনো কোনো হেল্প ডেস্ক চালু করেনি। শাখাগুলোকেও কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়নি। তিনি বলেন, এই অসহযোগিতার বিষয়টি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা দেওয়ার পরও আশানুরূপ কাজ হচ্ছে না। আমার মনে হয় ব্যাংকগুলো এই বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে আসবে এবং খুব তাড়তাড়ি এর সমাধান হবে।
নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বর্তমানে কষ্টে আছেন। এদিকে এখনই নজর দেওয়া উচিত। সরকারের ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে এ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা না খেয়ে মারা যাবেন। তাই সিএমএসএমই খাতে দেওয়া প্যাকেজটি মে-জুনের মধ্যে পৌঁছে দিতে ফেডারেশনকে নজর দিতে হবে।
লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনগুলোর নেতারা বলেন, বর্তমানে এই খাতের পণ্যগুলোর জন্য ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্যাট ও কর বন্ধ করতে হবে। কারণ বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আমরা। এছাড়া এই খাতের জন্য ১০ বা ৫ বছরের জন্য সরকারের একটি আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা প্রয়োজন, যাতে কাঁচামালের ওপর যেকোনো সময় কর বাড়াতে না পারে। এছাড়াও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত পরিচালনায় নির্দিষ্ট নীতিমালা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ মেটাল প্যাকেজিং ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুবাইর এ জামান, বাংলাদেশ মেটাল ওয়্যার অ্যান্ড ওয়্যারেনেইলস মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রফিকুল আলম খান, বাংলাদেশ সাব-কন্ট্রাক্টিং শিল্প মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আসলাম আলী, ফাউন্ড্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আবদুল মালেক, ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের সভাপতি মির্জা নজরুল গণী শোভন, বাংলাদেশ অটোমোবাইলস ওয়ার্কশপ মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ রহমান, বাংলাদেশ অটোমোবাইলস অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ এবং স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. আলী জামান।
