ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে গতকাল বিকেল থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম। পুরোপুরি জাহাজশূন্য করা হয়েছে সব জেটি। পরিস্থিতি মনিটরিংয়ে খোলা হয়েছে তিনটি কন্ট্রোল রুম। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রস্তুতি নিয়েছে মোংলা বন্দর। বন্দর সূত্র জানায়, আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ৬ নম্বর সংকেত দেখানোর পর গত সোমবার জারি করা নিজস্ব অ্যালার্ট-৩ গতকালও অব্যাহত ছিল। ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতিতে এদিন কন্টেইনার ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। জেটিতে থাকা ১৯ জাহাজ ও বহির্নোঙরে অবস্থানরত ৫১ মাদার ভেসেলও (বড় জাহাজ) পাঠিয়ে দেওয়া হয় গভীর সাগরে। দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত লাইটারেজ জাহাজগুলোও (ছোট জাহাজ) নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। গত সোমবার বিকেল থেকে গতকাল পর্যন্ত সহস্রাধিক লাইটারেজ জাহাজ কর্ণফুলী নদীর উজানে শাহ আমানত সেতুর কাছে নোঙর করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে বন্দরে নৌ, পরিবহন ও সচিব বিভাগে তিনটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এ কন্ট্রোল রুম থেকে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সার্বক্ষণিক খবরাখবর রাখবেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি ইক্যুইপমেন্টগুলো নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে পণ্য নিতে যেসব গাড়ি বন্দরে প্রবেশ করেছে সেগুলোতে ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন করে কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা নিয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারির পর বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অ্যালার্ট-৩ জারি করা হয়েছে। বন্দরে অবস্থানরত ১০ বিদেশি জাহাজকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
