করোনাকালে ডেঙ্গু সচেতনতা

আপডেট : ২০ মে ২০২০, ০৩:২৭ এএম

কভিড-১৯-এর সঙ্গে ডেঙ্গুর পার্থক্য

করোনা জ্বরের সঙ্গে ডেঙ্গুজ্বরের পার্থক্য খুব সহজে করা যায় এর উপসর্গগুলো লক্ষ করে। করোনায় সাধারণত গায়ে লালচে দানা এবং চোখের চারপাশে ব্যথা হয় না। ডেঙ্গুতে সর্দি ও কাশি হয় না বললেই চলে।

ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ সাধারণত মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিশেষ করে গরম ও বর্ষার সময় বেশি থাকে। ডেঙ্গু প্রধানত দুই ধরনের হয়, ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু ফিভার ও হেমোরেজিক ফিভার।

কীভাবে বুঝবেন ডেঙ্গু

 ডেঙ্গুজ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর (১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত) হবে।

 শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা অনুভব হয়। এছাড়াও মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হতে পারে।

 জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ৪/৫ দিনের মাথায় সারা শরীরে লালচে দানা দেখা যায়। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব এমনকি বমিও হতে পারে। রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং রুচি কমে যায়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রক্তক্ষরী রূপ নিতে পারে যাকে ডেঙ্গু রক্তক্ষরী জ্বর (ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার) বলা হয়। এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকার মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে। তখন অন্য সমস্যার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে- যেমন : চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, মাড়ি ও দাঁত থেকে, কফের সঙ্গে, রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা, চোখের মধ্যে ও চোখের বাইরে রক্ত পড়তে পারে। মেয়েদের বেলায় অসময়ে ঋতুস্রাব অথবা রক্তক্ষরণ শুরু হলে অনেকদিন পর্যন্ত রক্ত পড়তে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কখনো ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেয়। ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়। তখন যে লক্ষণগুলো দেখা দিলে রোগীর দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে : শরীরের যেকোনো অংশে রক্তপাত হলে, প্লাটিলেটের মাত্রা স্বাভাবিকের থেকে কমে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে বা পেট ফুলে পানি এলে, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে, জন্ডিস দেখা দিলে, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা দেখা দিলে, প্রচণ্ড পেটে ব্যথা বা বমি হলে।

চিকিৎসা

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগী সাধারণত কোনো চিকিৎসা ছাড়াই পাঁচ থেকে দশ দিন পর নিজেই ভালো হয়ে যায়। তবে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই চলতে হবে। যাতে ডেঙ্গুজনিত কোনো মারাত্মক জটিলতায় না পড়তে হয়। সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। যথেষ্ট পরিমাণে পানি, শরবত, ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল-জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। জ্বর কমানোর জন্য শুধু প্যারাসিটামল-জাতীয় ব্যথার ওষুধই যথেষ্ট। এসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক-জাতীয় ব্যথার ওষুধ, কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ও ননস্টেরয়েডাল প্রদাহপ্রশমী ওষুধ সেবন করা যাবে না, করলে রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। জ্বর কমানোর জন্য ভেজা কাপড় দিয়ে গা মোছাতে হবে।

ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধের জন্য আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি। সেই সঙ্গে পরিবার ও বাড়ির আশপাশের মানুষকে সচেতন করতে হবে যেন পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থেকেই ডেঙ্গুজ্বরের উৎপত্তি হয় তবে ডেঙ্গুতে ভয়ের কিছু নেই। পরিপূর্ণ বিশ্রাম এবং উপসর্গজনিত কারণে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত