করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতাল চিত্র

অনেক হাসপাতালে কোনো চিকিৎসাই নেই

আপডেট : ২০ মে ২০২০, ০৬:৫৫ এএম

করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো সমন্বয় নেই। রাজধানীতে সরকারি ও বেসরকারি মিলে বর্তমানে করোনার চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত ১৪টি হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালের মধ্যে কোনোটিতে করোনা রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। সেখানে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। কোনো হাসপাতালে শয্যা অনুপাতে রোগী কম। কিছু হাসপাতাল করোনা রোগীদের আইসোলেশনের জন্য ব্যবহার হচ্ছে। সেখানে করোনার কোনো চিকিৎসা নেই। এমনকি একটি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই রোগীদের ভর্তি করানো শুরু হয়েছে। সেখানে কিছু মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দেওয়া হলেও কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। অথচ সেখানে চিকিৎসাধীন সাধারণ রোগীদের ছুটি দিয়ে দেওয়া এবং সাধারণ রোগের  চিকিৎসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে করোনার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যেসব হাসপাতালে রোগীদের উপচেপড়া ভিড়, সেসব হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় ও দেখভাল না থাকায়, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ভালো হচ্ছে না। সব রোগী চিকিৎসা পাচ্ছে না। অথচ যে হারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

এসব চিকিৎসক আরও বলেন, সমন্বয় না থাকায় রোগীদের ভোগান্তিও বাড়ছে। যারা ভর্তি হতে পারছেন, তারা ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। আর যারা ভর্তি হতে পারছেন না, তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তাদের থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। অথচ প্রতিদিনই দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরেই মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি রোগী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাসপাতালগুলো সমন্বয় করার জন্য কন্ট্রোল রুম আছে। সেখান থেকে যোগাযোগ রাখা হয়। কে কত রোগী ভর্তি করছে, কত মারা যাচ্ছে, সুস্থ বাড়ি ফিরছে, সব হিসাব আছে। হাসপাতালগুলো সাধ্য অনুযায়ী সেবা দিচ্ছে। তবে সব রোগীর হাসপাতালে ভর্তির দরকার নেই। অধিকাংশ রোগীই বাড়িতেই চিকিৎসা নিতে পারেন। যাদের দরকার তারা হাসপাতালে আসবেন। সেভাবেই চিকিৎসা চলছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে ১৪টি হাসপাতাল করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এগুলো হলো বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল, রিজেন্ট হাসপাতাল উত্তরা ও মিরপুর, সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি) হাসপাতালের ডিএমসি-২ ও বার্ন ইউনিট, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া নতুন করে তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল করোনার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বসুন্ধরা করোনা অস্থায়ী হাসপাতাল।

এসব হাসপাতালের মধ্যে রোগীদের সবচেয়ে বেশি চাপ মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অথচ এ হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় লোকবল ও অবকাঠামোর সংকট রয়েছে বলে জানিয়েছেন এখানকার চিকিৎসকরা। তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৫০০ শয্যার এ হাসপাতাল গত পাঁচ বছর ধরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু এখানে চিকিৎসকরা সহায়তাকারীদের জন্য এমএলএসএস, আয়া, ওয়ার্ড বয়সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের কোনো সুনির্দিষ্ট পদ এখনো সৃষ্টি হয়নি। হাসপাতাল চলছে আউটসোর্সিং কর্মীদের দিয়ে। এখানে স্থায়ী চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সংখ্যা ৪০ জনেরও কম। বাকি সব আউটসোর্সিং কর্মী। তবে এ সংখ্যাও করোনার দুর্যোগ কাটানোর জন্য মোটেই যথেষ্ট নয়। এসব কর্মীকে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করার কারণে একটি ফ্লোরে এক শিফটে এক বা দুজনের বেশি চিকিৎসা সহায়তাকারী থাকে না। স্বাস্থ্যকর্মীদের অভাবে রোগীরা বাইরে থেকে খাবার আনতে পারেন না। ন্যূনতম কোনো প্রয়োজনের সময় কারও সাহায্য পান না।

এমন পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেন জানতে চাইলে মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শাহ গোলাম নবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা আরও ১০ বেড বাড়িয়েছি মায়েদের ডেলিভারির জন্য। তাদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করেছি। এ নিয়ে আমাদের মোট বেড ৩২৬। এর মধ্যে ২৬ বেড ডায়ালাইসিস রোগীদের। এই ৩৬ বেড স্পেশাল। জেনারেল রোগীদের জন্য ২৯৪। কেবিন ৬৪টি। একটি কেবিন এক ঘণ্টার জন্য খালি থাকে না। এই মুহূর্তে রোগী আছে ২৯০ জন। অর্থাৎ পুরো হাসপাতালের বেড পরিপূর্ণ।

এখানে ডেথরেট খুব কম উল্লেখ করে এ অধ্যক্ষ বলেন, অন্যান্য হাসপাতালের চেয়ে কম মৃত্যু। সোমবার একজনও মারা যায়নি। গতকাল দুজন মারা গেছে। এরকম এক-দুজন মারা যায়। এখানে গত সোমবার পর্যন্ত মোট চিকিৎসা নিয়েছে ৫২১ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে তিন শতাধিক। চাপ সামাল দিচ্ছেন কীভাবে জানতে চাইলে এ চিকিৎসক বলেন, আমাদের যারা কনসালট্যান্ট অর্থাৎ অধ্যাপকরা সকালে ও রাতে একবার করে রাউন্ড দেন। ডিউটি ডাক্তাররা তিনবেলা ডিউটি করেন। কনসালট্যান্টরা চিহ্নিত করছেন কোন রোগী ভালো, কোন রোগী খারাপ। সে অনুপাতে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আর নার্সদের ক্ষেত্রে যখন রোস্টার বদল হয়, তার আগের দিন আমরা ডাক্তার-নার্সসহ সবাইকে মোটিভেশন করি।

কিন্তু রোগীদের নানা অভিযোগ রয়েছে জানতে চাইলে এ অধ্যক্ষ বলেন, আমি নিজে প্রতি সপ্তাহে দুবার রোগীদের গায়ে হাত দিয়ে দেখি। আমার যত রোগী আছে, আমি সবার গায়ে হাত দিয়ে কথা বলেছি। তারপরও রোগীদের প্রধান অভিযোগ ডাক্তার-নার্সরা রোগীর কাছে আসছে না। এ অভিযোগ সত্য। কারণ গাইডলাইন হচ্ছে, ডাক্তার ও নার্সদের বেশি এক্সপোজ হওয়া যাবে না। ধরেন একটা ওয়ার্ডে ১০ জন রোগী আছে। এর মধ্যে দুজনের পালস-বিডি মাপলাম। বাকিদের মাপলাম না। ওরা তখন মনে করে ওদের দেখলাম না। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে রোগীদের বারবার স্পর্শ করবে না।

কভিড হাসপাতালের চিকিৎসা সমন্বয় দরকার জানিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটা সমন্বয় টিম করেছিল। সেটা সচল রয়েছে কি না, জানি না। ওখানে একটা কন্ট্রোল রুম ছিল। আমাদের এখন লাগে না। কারণ আমরা রোগী আসলেই ভর্তি করাচ্ছি। বেডের সমস্যা নেই। প্রথমে যেমন বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল, তখন কন্ট্রোল রুমের হেল্প নিতাম। তবে সমন্বয়টা থাকা দরকার।

হাসপাতালে বেড ফাঁকা, অথচ প্রতিদিন গড়ে হাজার রোগী আক্রান্ত হচ্ছেন। তাহলে এসব রোগী কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও করোনায় আক্রান্ত ৮০ শতাংশ রোগীর হাসপাতালে ভর্তির দরকার নেই। এদের সংক্রমণ হালকা। এরা বাড়িতেই চিকিৎসা নিতে পারেন। এ রোগটা খুবই ছোঁয়াচে। ডেথরেট কম। এ কারণে পজিটিভ বেশি হলেও হাসপাতালে রোগী কম।

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে কভিড-১৯ রোগের চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে এখানে আর সাধারণ রোগের চিকিৎসা ও রোগী ভর্তি হবে না। চিকিৎসাধীন রোগীদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে এখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ হাসপাতালের চিকিৎসকদের। তাদের অভিযোগ, সাধারণ রোগীদের জন্য এ হাসপাতালটি খুবই নির্ভরযোগ্য। তাই এখানে সাধারণ রোগের চিকিৎসা বন্ধ করে কভিড হাসপাতাল করা উচিত হয়নি। এমনকি কভিড হাসপাতাল করা হলেও, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। জুনিয়র চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত সোমবার থেকে কভিড হাসপাতাল হিসেবে চালু হয়েছে। ৩০০ বেডের এ হাসপাতালে বর্তমানে ৪০-৫০ জন ভর্তি হয়েছেন। এখানে আইসিইউ থাকলেও তা করোনা রোগীদের জন্য চালু থাকছে না। কারণ লোকবল নেই। এখানে আইসিইউতে ছয়জন ডাক্তার ছিলেন। একজন কনসালট্যান্ট ছিলেন। তার বয়স ৬০ বছর। তার হার্টে রিং পরানো। তিনি চিকিৎসা দেবেন না। এটা সরকার থেকেই নিষেধ করা আছে পঞ্চাশোর্ধ এবং যাদের অন্য রোগ আছে, সেসব ডাক্তার কভিড রোগী দেখবেন না। ফলে ছয়জন জুনিয়রকে দিয়ে যদি এক সপ্তাহের রোস্টার করে ডিউটি করানো হয়, তাহলে একজন ডাক্তার মাসে ছয়-সাত দিন ডিউটি করতে পারবেন। সে হিসেবে অনেক ডাক্তার দরকার। ১৬ বেডের আইসিইউতে ন্যূনতম দুজন করে ডাক্তার দরকার। এভাবে দিনে ছয়জন দরকার। সে হিসেবে কমপক্ষে ২৪ জন ডাক্তার দরকার। সেখানে আছে মাত্র ছয়জন।

কীভাবে চিকিৎসা চলবে এখানে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে এখন থেকে আর সাধারণ রোগীরা ভর্তি হতে পারবেন না। এটা ঠিক হয়নি। আমরা বলেছিলাম এমন খোলামেলা হাসপাতালকে কভিড হাসপাতাল না করে নন-কভিড হাসপাতাল করেন। কারণ নন-কভিড রোগীরা যাবে কই। এখানে করোনা টেস্ট ল্যাব করতে বলেছিলাম। এতে সাধারণ রোগীরা সেবা পেত। সরকারি যেসব হাসপাতালে বড় বড় স্থাপনা আছে, সেখানে খোলা যেত।

অথচ প্রয়োজনীয় চিকিৎসকও নেই উল্লেখ করে এ চিকিৎসক বলেন, সরকারি মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দিয়েছেন ২০ জন। আমাদের মেডিকেল কলেজের যারা লেকচারার, অর্থাৎ শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত, তেমন নন-ক্লিনিক্যাল চিকিৎসকদের নিয়েছে। এরকম ৪০ জন মেডিকেল অফিসারকে হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে কভিড রোগী দেখার জন্য। আর সরকারি ডাক্তার ২০ জন। সব মিলে ৬০ জন। তাদের ভাগ করে ডিউটি দেওয়া হয়েছে। এখানে যেসব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, তাদের সবার বয়স পঞ্চাশোর্ধ। সুতরাং তাদের সুযোগ নেই। তবে কিছু চিকিৎসক আছেন, যারা টেলিফোনে সেবা দেবেন। এভাবে চিকিৎসা হয় না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ২০০ বেড। পুরোটাই ভর্তি বলে জানান এ ইউনিটে দায়িত্বরত ডা. আ ফ ম আরিফুল ইসলাম নবীন। এক মেডিকেল অফিসার দেশ রূপান্তরকে বলেন, মহানগর জেনারেল হাসপাতালে গতকাল পর্যন্ত ৫৬ জন করোনা রোগী ভর্তি ছিলেন। এখানে মোট বেড ৬৬। পুরুষ ৪০ ও নারী ২৬। এ পর্যন্ত এখানে ভর্তি হয়েছেন ২০৬ জন। ৮ এপ্রিল থেকে ভর্তি শুরু হয়। এখনো কিছু বেড ফাঁকা আছে। এ পর্যন্ত এখানে দুই-তিনজন মারা গেছেন। এখানে আইসিইউ নেই। এটা একটা আইসোলেশন সেন্টার। এখানে শুধু করোনা পজিটিভ রোগী থাকবে। অন্য কোনো চিকিৎসা হবে না। সাধারণ চিকিৎসা নেবে। কিন্তু ডায়াবেটিস, প্রেসার, বা ইসিজি করা, এসবের কোনো ব্যবস্থা নেই। রোগীদের বেশি সমস্যা হলে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখানে চারজন কনসালট্যান্ট আছেন। জুনিয়র মেডিকেল অফিসার রয়েছেন। অন্য রোগের কোনো চিকিৎসক নেই।

মহানগর জেনারেল হাসপাতালের মতো রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানও করোনা পজিটিভ রোগীদের আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এ দুই প্রতিষ্ঠানের দুই চিকিৎসক। তারা জানান, এখানে রোগীদের রাখা হয়। সাধারণ চিকিৎসা দেওয়া হয়। সমস্যা হলে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ম্যানেজার ওবায়দুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৫০ বেডের এ হাসপাতালে বর্তমানে ৩৮ জন রোগী ভর্তি আছেন। আমরা সেবা দিচ্ছি। কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এখানে সব মিলে ১৩ জন মারা গেছেন। ডাক্তার-নার্স কেউ আক্রান্ত হননি।

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সারওয়ার উল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০০ বেডের এ হাসপাতালে ১০২ জনের মতো রোগী ভর্তি আছেন। সবকিছু ভালোমতোই চলছে। যা আছে, তা দিয়েই সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এখানে কভিড রোগীদের ৬-৮ শতাংশ মৃত্যু হার।

রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুই হাসপাতাল মিলে ১৪০টি বেড। কোনো বেড খালি নেই। রোগীদের বাড়তি চাপ রয়েছে। সামাল দিতে হচ্ছে। করোনা উপসর্গ নিয়ে যারা আসেন, তারা ভয়ভীতি নিয়ে আসেন। তাদের কোনো অ্যাটেন্ডেনস থাকতে পারেন না। তাদের আমাদেরই দেখতে হয়। কাউন্সেলিংও করতে হয়। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে কভিড হাসপাতাল বাড়ানো উচিত। না বাড়ালে রোগী যাবে কোথায়। বেসরকারি হাসপাতালের আরও এগিয়ে আসা উচিত। আমরা যেমন প্রথম দিন থেকেই এগিয়ে এসেছি, এখনো আছি। এভাবে সবার আসা উচিত। আমাদের যতটুকু আছে, সেটুকু নিয়েই এগিয়ে এসেছি। আমাদের এখানে সুস্থতার সংখ্যা প্রচুর। রোগীদের আস্থা অর্জন করতে হবে।

এছাড়া সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ও শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে শয্যা অনুপাতে করোনা রোগী কম বলে জানা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত