২ লাখ মানুষকে আশ্রয়ে নেওয়া হচ্ছে এনামুর রহমান

আপডেট : ২০ মে ২০২০, ০৭:০৩ এএম

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা সুপার সাইক্লোন ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’। আম্পান মোকাবিলায় ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৯১ লাখ ৫৪ হাজার মানুষকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব হলেও করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । আর আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসাদের মধ্যে ১ মিটার দূরত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল  মঙ্গলবার (আজ) রাত ৮টার মধ্যে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি দেখে আগামীকাল বুধবার সকাল ৬টায় মহাবিপদ সংকেত দেওয়া হতে পারে। এরপর আর কাউকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া কঠিন হবে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা। ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। আজ রাতের মধ্যেই সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ মোকাবিলায় সরকারের সবশেষ প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয় থেকে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এনামুর রহমান এ কথা বলেন।

এনামুর রহমান বলেন, আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। কোন জেলায় কতজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে তা কন্ট্রোল রুম থেকে জানছি। এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো উপকূলবাসী যারা ঝুঁকিপূর্ণ ঘরবাড়িতে অবস্থান করছেন তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা। সোমবার থেকে এ কাজ শুরু হয়েছে। আজ রাতের মধ্যে উপকূলবাসীদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।

এনামুর রহমান জানান, আগামীকাল (আজ) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের পক্ষ থেকে সব চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়েছে। আর নৌবাহিনী উপকূলের মানুষকে নিরাপদে আনার জন্য সহযোগিতা করছে এবং সব বড় জাহাজগুলো নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়াও করোনাভাইরাসের জন্য সেনাবাহিনীর যেসব সদস্য মাঠে কাজ করছেন তারাও ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে সহায়তা করছেন।

মেডিকেল টিম ওষুধপত্র নিয়ে প্রস্তুত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, চর এলাকা থেকে লোকজনদের নিয়ে আসতে নৌবাহিনী কাজ করছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরাও লোকজনদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে সহযোগিতা করছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোও তৎপর রয়েছে। মাছধরা নৌকাগুলো নিরাপদে অবস্থান করছে।

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ৭৬৫ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার এবং পায়রাবন্দর থেকে ৬৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। বাতাসের সর্বোচ্চ গতি এখন ২৪৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়, এ কারণে সুপার সাইক্লোন বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত