পশ্চিমবঙ্গে আম্পানের তাণ্ডব নিহত অন্তত ১০

আপডেট : ২১ মে ২০২০, ০৬:০৯ এএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শতাব্দীর প্রথম সুপার সাইক্লোন আম্পান শক্তি হারিয়ে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আছড়ে পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চলে। গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে প্রলয়ংকরী এই ঝড়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়েছে সেখানকার বেশ কিছু এলাকা। প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১০ জন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ঝড়টি পুরোটাই পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। এতে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ধ্বংস হয়ে গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তিনি জানান, এদিকে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী  জানিয়েছেন তাদের কাছে ১০ থেকে ১২ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। যাদের অধিকাংশই গাছ পড়ে মারা গেছে। কিছু মানুষ আবার উড়ন্ত জিনিসের আঘাতেও মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া বলছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক জায়গা থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন জায়গায় ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার পাশাপাশি উড়ে গেছে চাল। ভেঙে পড়েছে গাছপালা। উপকূল এলাকায় সমুদ্রে বেড়েছে জলোচ্ছ্বাস। আম্পানেরর দাপট বিকেলের পর থেকেই বাড়ে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।

পূর্ব মেদিনীপুরের ছত্রধরা গ্রামের শ্যামল বলেন, ‘বাড়ির আশপাশে বেশ কয়েকটি বড় গাছ ভেঙে গেছে। বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। বাড়ির একটা অংশের টিনের চাল উড়ে গেছে। জীবনে এমন ঝড় দেখিনি।’

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিমি বেগে ঝড় হয় পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে।

জি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝড়ের তাণ্ডবে কার্যত ল-ভ- দশা এখন দিঘার। কলকাতার একাধিক জায়গার ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাটে গাছপালা উপড়ে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। কাকদ্বীপে ঘণ্টায় ১৬৭ কিলোমিটার গতিবেগে বাতাস বয়ে যায়।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের মহাপরিচালক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ওডিশা প্রদেশে আম্পান ব্যাপক শক্তি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে; বিশেষ করে রাজ্যটির উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় জেলাগুলোয় এই ঝড় ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত