বুড়িগঙ্গায় কচুরিপানায় নৌচলাচল ব্যাহত

আপডেট : ২১ মে ২০২০, ০৬:৫৬ এএম

করোনা পরিস্থিতিতে নৌযান চলাচল বন্ধ ও বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য না পড়ায় বুড়িগঙ্গা নদীর চেহারা পাল্টে গেছে। হঠাৎ দেখলে মনে হবে মজ্জা পুকুর অথবা খাল। চারদিকে কচুরিপানায় ভরপুর। আর কচুরিপানার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন ছোট ছোট নৌকা ও ট্রলারের চালকরা। একটু যেতেই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ১০ মিনিটের নদী পার হতে এখন আধা ঘণ্টা লাগছে।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে বুড়িগঙ্গার বাবুবাজার সেতু থেকে পোস্তগোলা সেতু পর্যন্ত প্রচুর কচুরিপানা দেখা যায়। এ জন্য কোনো নৌযান ঠিকমতো চলাচল করতে পারছে না। ট্রলারগুলো কোনো মতে চললেও বিপাকে পড়ছে ছোট নৌকাগুলো। এ জন্য নৌকার যাত্রী একেবারেই কমে গেছে।

ওয়াইজঘাট এলাকার মাঝি রুহুল আমিন জানান, করোনার কারণে দুই মাস ঘরবন্দি। ১০ মে থেকে নদীতে নৌকা নামিয়েছি। কিন্তু কচুরিপানার কারণে সুবিধা করতে পারছি না। একবার পার হতেই বেগ পেতে হচ্ছে। যাত্রীরা সময় ও ঝুঁকি ভেবে নৌকায় উঠছেন না। নৌকা চালাতে না পারলে কী খামু, তা নিয়ে চিন্তায় আছি। ট্রলারচালক সালাম জানান, পুরো নদীতে কচুরিপানা। একবার পার হতে তিন থেকে চারবার ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ট্রলারের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। হাতে পয়সা থাকলে এমন অবস্থায় ট্রলার চালাতাম না।

সাহেদ নামের এক যাত্রী জানান, নদী পার হওয়া এখন খুবই মুশকিল। ছোট নৌকায় অনেক বেশি সময় লাগছে। ঝুঁকিও বেশি। এ জন্য বাধ্য হয়ে ট্রলারে উঠতে হচ্ছে। কিন্তু সেখানে কোনো শারীরিক দূরত্ব থাকছে না। করোনা পরিস্থিতিতে খুবই ভয়ে নদী পার হতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (ঢাকা নদীবন্দর) এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘করোনার কারণে বুড়িগঙ্গায় দীর্ঘদিন লঞ্চ ও জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বদ্ধ পানিতে কচুরিপানা বেড়ে গেছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে উজানের ঢলে কচুরিপানা চলে যাবে। তা ছাড়া স্বাভাবিকভাবে লঞ্চ ও জাহাজ চলাচল করলে নদীতে যে স্রোত তৈরি হবে, তাতে কচুরিপানা এমনিতেই ভেসে যাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত