চেনা যাচ্ছে না কলকাতা লন্ডভন্ড পশ্চিমবঙ্গ

আপডেট : ২২ মে ২০২০, ০৪:৫৮ এএম

সুপার সাইক্লোন আম্পানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার। মৃতদের মধ্যে শুধু কলকাতাতেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আম্পানপরবর্তী রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আহ্বান জানিয়েছেন। মোদি আজ শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ পরিদর্শনে আসবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

উত্তর ২৪ পরগনায় প্রাণ গেছে ১৭ জনের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর এলাকায় ৬, ডায়মন্ড হারবারে ৮ এবং সুন্দরবন এলাকা থেকে ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পূর্ব মেদিনীপুরে ৬, হুগলির চন্দননগরে ২ এবং নদিয়ার রানাঘাটে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাসহ দক্ষিণের জেলাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিহতদের পরিবার পিছু আড়াই লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন মমতা। জানিয়েছেন বিপর্যস্ত জেলা পুনর্গঠনে ১০০০ কোটি রুপির তহবিল গঠন করার কথা। দুর্যোগের এই সময়ে ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সাহায্যও চেয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী মোদি মমতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে আম্পান যেভাবে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, সেই দৃশ্য দেখেছি। এই সংকটময় মুহূর্তে গোটা দেশ পশ্চিমবঙ্গের পাশে আছে। রাজ্যের মানুষের শুভ কামনা করছি। এই চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে সব রকম সহযোগিতা করা হবে বাংলাকে।’ পরে এক টুইটবার্তায় মোদি বলেন, ‘জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ করছে। শীর্ষ কর্মকর্তারা গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করতে চেষ্টার কোনো কসুর করা হবে না।’

এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় মমতা বলেছিলেন, করোনাভাইরাসের চেয়েও আম্পান আরও বেশি খারাপ ফল বয়ে এনেছে। এই ঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ কোটি রুপি হতে পারে। আম্পানের ঝাপটা মূলত পুরোটাই গেছে পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে। বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি সাগর থেকে স্থলে উঠে আসতে শুরু করে। সন্ধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন উপকূলে আছড়ে পড়ে আম্পান। এ সময় বাতাসের একটানা বেগ ঘণ্টায় ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার থাকলেও দমকা ও ঝড়ো হাওয়া কখনো কখনো ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠে যায়।

কলকাতার দমদম এলাকার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ১৩৩ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এলাকার পর এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। করোনাভাইরাসের জন্য অর্থনীতির অবস্থা শেষ। তার ওপর এ দুর্যোগ। কোনো রোজগার নেই। পুনর্গঠন করতে অনেক টাকা লাগবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত