আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো ২০৫ শিশু জামিন পেয়েছে। গত কয়েকটি কর্মদিবসে দেশের বিভিন্ন শিশু আদালতে ভার্চুয়াল শুনানি নিয়ে তাদের এ জামিনের আদেশ আসে। শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী আইনের সঙ্গে সংঘাত বা সংস্পর্শে আসা শিশুদের কারাগারে না পাঠিয়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে গাজীপুরের টঙ্গী ও কোনাবাড়ী এবং যশোরে তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে টঙ্গী ও যশোরের কেন্দ্র দুটি ছেলেশিশুদের জন্য নির্ধারিত।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের আগে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৬৯৫ শিশু ছিল; যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া অন্য দুটি কেন্দ্রেও ধারণক্ষমতার বেশি শিশু অবস্থান করছিল। করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে সাধারণ ছুটির মধ্যে আদালত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুদের জামিন শুনানি বন্ধ হয়ে যায়।
গত ৯ মে ‘আদালত কর্র্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০’ জারি হওয়ার পর উচ্চ ও অধস্তন আদালতে ভিডিও কনফারেন্সে শুনানি শুরু হয়। শিশুদের জামিনের বিষয়ে উদ্যোগ নেয় ‘সুপ্রিম কোর্ট স্পেশাল কমিটি ফর চাইল্ড রাইটস’। তাদের সহযোগিতা করে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গত ১২ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত আট কর্মদিবসে দেশের বিভিন্ন শিশু আদালতে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে ২০৫ শিশু জামিন পায়। এর মধ্যে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ১২৭ জন বালক, যশোর কেন্দ্রের ৬৬ জন বালক এবং কোনাবাড়ী কেন্দ্রের ১২ বালিকা রয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) মো. নুরুল বাসির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভিডিও কনফারেন্সে শুনানির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শিশু আদালতে ২০৫ শিশু জামিন পেয়েছে। এটি একটি ভালো দিক। ইতিমধ্যে জামিন পাওয়া ১৩৫ শিশুকে তাদের অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অন্যদের দ্রুত অভিভাবকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
