করোনা মোকাবিলায় সরকারের সব পদক্ষেপের সঙ্গে বেসরকারি খাতকে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করতে হবে। ছোট-বড় সব ধরনের বাণিজ্য উদ্যোগে প্রণোদনা দিয়ে উৎপাদন এবং সরবরাহ ঠিক রাখতে হবে। করোনায় বৈশি^ক চাহিদা হ্রাস এবং সরবরাহ বিঘিœত। এ বাস্তবতায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও জোগান ঠিক রাখার মাধ্যমে করোনার অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলা করা সম্ভব।
করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণ ভাবনাবিষয়ক আন্তর্জাতিক এক সেমিনারে এসব কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনা-পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির ওপর জোর দিলে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ে আগের চেয়ে দ্রুত এবং বেশি উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তারা। এ জন্য প্রযুক্তি শিক্ষা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ তাদের।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ( এনবিআর) সাবেক দুই চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া ও ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ। এমআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় মালয়েশিয়ার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আমানুল্লাহ। ডিভাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এই সেমিনারের আয়োজন করে। সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক ইসলামি অর্থনীতিবিদ ড. আবুল হাসান এম সাদেক। ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইকবাল হোসেন সভা সঞ্চালনা করেন।
মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলো অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। তবে বেসরকারি খাতকে সরাসরি এসব উদ্যোগের মধ্যে সংযুক্ত করতে না পারলে এই সব পদক্ষেপের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। কারণ ৩২০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির আকারের মধ্যে ৭০ শতাংশ অবদানই বেসরকরি খাতের; বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (এসএমই) দ্রুত সচল করার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রবাসীর দেশে ফেরত আসায় প্রবাসী আয় থমকে যাবে। রপ্তানি বাড়িয়ে এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, বিদেশি ঋণ, প্রবাসী এবং রপ্তানি আয় অর্থনীতির এই তিন খাতের বহির্মুখীতা থেকে অভ্যন্তরীণমুখী করতে হবে। এ জন্য কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। জনমিতির সুবিধা কাজে লাগাতে হবে। মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে কর্মসৃজনের মধ্যে রাখতে হবে।
প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. এম কবির হাসান উদ্যোক্তাদের কর রেয়াত সুবিধ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। করোনায় অর্থ জোগানে প্যানডামিক বন্ড নামে একটি বন্ড চালু এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করেন তিনি। ড. মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, করোনার কারণে সারা বিশে^ কাজের ধরন পাল্টে গেছে। দেশেও ঘরে থেকে কাজ করার একটা অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছে। মানুষের স্পর্শ ছাড়া প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করার কৌশল আরও ভালোভাবে আয়ত্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তিতে জোর দিতে হবে। সব বাণিজ্য লেনদেন হবে অনলাইনে। ড্রোনের মাধ্যমে সেবা এবং সরবরাহ কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
