প্রবীণ সাংবাদিক ও দৈনিক ভোরের কাগজের সাবেক সহকারী সম্পাদক সুমন মাহমুদ (৭২) গতকাল শুক্রবার মারা গেছেন। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। এ নিয়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে তিনজন ও করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজন সাংবাদিক মারা গেলেন।
সাংবাদিক সুমন মাহমুদের স্ত্রী বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. শাহিদা পারভীন ও মেয়ে জার্মানপ্রবাসী প্রকৌশলী শর্মিষ্ঠা ও ছেলে ডাক্তার সৌরভসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গত রাতে বনানীর কবরস্থানে তার মা-বাবার কবরে দাফন করার বিষয়টি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
সুমন মাহমুদ সাংবাদিকতায় একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি অধুনালুপ্ত গণকণ্ঠে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। পরে সাপ্তাহিক লড়াই, সাপ্তাহিক সমীক্ষণ, আজকের কাগজ ও ভোরের কাগজের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ করেন। মাঝে কিছুদিন বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনটিভিতে বার্তা সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। সবশেষ সহকারী সম্পাদক হিসেবে ভোরের কাগজ থেকে অবসরে যান। সাংবাদিক সুমনের ভাই কর্নেল (অব.) মঞ্জুর আহমেদ হেলাল বলেন, জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার পাঁচতইলা গ্রামের মরহুম নিজামউদ্দিন আহমেদের ছেলে সুমন। তিনি রাজধানীর আসাদ অ্যাভিনিউয়ের একটি বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। গত ১২ মে থেকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন সুমন। শ্বাসকষ্ট করোনার উপসর্গ তাই সুমন মাহমুদকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ভর্তি না করে বাসায় নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ওইদিনই আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে নেওয়া হয়। ১৩ তারিখ শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যায়। ১৪ তারিখ থেকে নেবুলাইজার দেওয়াসহ সব ধরনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ওইদিন থেকেই তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। এর মাঝখানে দুবার করোনা টেস্ট করানো হয়। যার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। গতকাল বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সুমন মাহমুদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি। এক শোক বার্তায় তারা বলেন, ষাটের দশকে ছাত্রলীগ নেতা সুমন মাহমুদ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, বিএলএফের সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। জাসদের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৭৯-৮১ সালে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি সক্রিয় দলীয় রাজনীতি ছেড়ে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।
