সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার যমুনা নদীতে এবং কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে পৃথক নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ওই দুই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে এখনো নয়জন।
দেশ রূপান্তরের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার চৌহালী উপজেলা ও এনায়েতপুর থানার স্থল ইউনিয়নের স্থলচর এলাকায় যমুনা নদীতে গত মঙ্গলবার সকালে ঝড়ের কবলে পড়ে ৭৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনার দিন তিনজন, বুধবার সকালে দুজন ও এবং গতকাল তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার আরও পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করেছে।
যাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন বেলকুচি উপজেলার গয়নাকান্দি গ্রামের পাশান ফকির (৬৫) ও একই উপজেলার কলাগাছি গ্রামের নাঈমুল ইসলাম (৪), টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার শেখ কামাল (৪০), শাহজাদপুর উপজেলার জয়পুরা গ্রামের আজিজল মোল্লা (৩৮) ও একই গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে আমজাদ হোসেন (৪০) এবং মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গোবিনহারা গ্রামের আলম মিয়া (৩০)। অন্য চারজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মনজিল হক জানান, ঢাকা থেকে ডুবুরি দল এসে বুধবার সকাল থেকে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদ জানান, ঈদের পর এমন ঘটনায় পুরো জেলাবাসী শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আহতদের চিকিৎসা বাবদও নগদ অর্থ প্রদান করা হবে।
এদিকে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাশিমবাজার এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকাডুবির ঘটনায় তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে একজন।
স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সন্ধ্যার দিকে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা সাতভিটা থেকে কাশিমবাজারে ফেরার পথে ব্রহ্মপুত্র নদে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় চারজন নিখোঁজ হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বৃহস্পতিবার সকালে নুরু (৬০), আমেনা (৬১) ও কামরুজ্জামান (৪২) নামে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিখোঁজ অন্যজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে ডুবুরি দল।
উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, নৌকায় করে বউভাত খেয়ে ফিরছিলেন কনেপক্ষের লোকজন। নিহতদের মধ্যে একজন কনের বাবা।
