তিন ছেলেমেয়ের মা ৭০ বছর বয়সী আমেনা বেগম। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন আগেই। স্বামীর মৃত্যুর পর থাকতেন একমাত্র ছেলে ও ছেলের বউয়ের সঙ্গে। কিন্তু তারা এখন বৃদ্ধা মাকে ‘বোঝা’ মনে করায় সঙ্গে রাখতে চাচ্ছে না। তাই গত মঙ্গলবার গভীর রাতে মা আমেনা বেগমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আগানগর সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ছেলে সুজন। সারারাত সড়কের পাশে বসেই বৃষ্টিতে ভিজেছেন আমেনা বেগম। পরদিন বুধবার সকালে সড়কের পাশে তাকে ভেজা কাপড়ে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে আমেনা বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন পুলিশের কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত সুপার রামানন্দ সরকার। আমেনা বেগম শরীয়তপুরের সুরেশ্বর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি জানান, সোমবার রাতে তাকে আগানগর ছোট মসজিদ এলাকায় রাস্তার পাশে নিয়ে এসে সুজন বলে ‘মা তুমি এখানে বস, আমি একটু পরে এসে নিয়ে যাব।’ কিন্তু এরপর আর আসেনি সুজন। পরে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে সারারাত রাস্তায় পড়ে ভিজেছেন বৃদ্ধা আমেনা বেগম। সকালে স্থানীয় মো. মাসুদ ও মো. শ্যামলসহ কয়েকজন বিষয়টি পুলিশের কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত সুপার রামানন্দ সরকারকে জানান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির ব্যবস্থা করে অসুস্থ আমেনা বেগমকে কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেন।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মীর মোবারক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মহিলাটিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে তাকে আমরা ভর্তি রেখেছি। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে জানা যাবে তার কী কী সমস্যা রয়েছে। ৭০ বছরের একজন মাকে সন্তানরা রাস্তায় ফেলে রেখে যাবে, বিষয়টা ভাবতেও কষ্ট হয়।’
