দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল সোমবার করোনা শনাক্তের ৮৬তম দিনে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২ হাজার ৩৮১ জন করোনা রোগী শনাক্ত ও ২২ জন মৃত্যুর পাশাপাশি সুস্থ হয়েছেন ৮১৬ জন। এ নিয়ে দেশে মোট ৫০ হাজারের কাছাকাছি করোনা রোগীর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি রোগী সুস্থ হয়েছেন। প্রতি ১০০ জন রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২১ জনের বেশি। অন্যদিকে করোনা রোগীদের মধ্যে মৃত্যুহার সরকারি হিসাবে দেড় শতাংশেরও কম। তবে সম্প্রতি মৃত্যু অনেক বেড়েছে। গত রবিবার এক দিনেই ৪০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ ছাড়া সরকারি হিসাবের বাইরে প্রতিদিন আরও অনেকেই করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করছেন।
গতকাল করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ৫২টি ল্যাব থেকে নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার ১০৪টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৩৯টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ২ হাজার ৩৮১ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক ৮১ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ২২ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন আরও ৮১৬ জন। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার ৩৬৯টি নমুনা পরীক্ষায় ৪৯ হাজার ৫৩৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন মোট ৬৭২ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ হাজার ৫৯৭ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ ও সুস্থতার হার ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
তিনি জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৯ জন ও মহিলা ৩ জন। তাদের ১১ জন ঢাকা বিভাগের, ৮ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, সিলেটের ২ জন ও বরিশাল বিভাগে ১ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ১৫ জন, বাড়িতে ৬ জন এবং মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে ১ জনকে। তাদের বয়স ২১-৩০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৪১-৫০ এর মধ্যে ৮ জন, ৫১-৬০-এর মধ্যে ৪ জন, ৬১-৭০-এর মধ্যে ৭ জন এবং ৭১-৮০ বছরের মধ্যে ২ জন।
বুলেটিনে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৪৪৯ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন সর্বমোট ৬ হাজার ২১ জন। একই সময়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নতুন করে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৭০৭ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৫৯ হাজার ১৩৬ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ৫৬০ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।
করোনায় আক্রান্তদের উদ্দেশে ডা. নাসিমা বলেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এমন খাবার যেমন ভিটামিন-সি, জিংক ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারসহ পানি ও তরল খাবার নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। নিয়মিত হালকা গরম পানি খাওয়ারও পরামর্শ দেন। তিনি জানান, আদা, লবঙ্গ বা অন্যান্য মসলাসহ হালকা গরম পানি খেয়ে এবং গারগল করে আক্রান্তদের অনেকেই উপকার পেয়েছেন। এ ছাড়া মধু, কালোজিরা পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেয়েও উপকার পেয়েছেন বলে সুস্থ হওয়া অনেকে জানিয়েছেন।
