লিবিয়ায় হত্যাকাণ্ড

দালাল চক্রের হোতা হাজি কামাল গ্রেপ্তার

আপডেট : ০২ জুন ২০২০, ০৬:১২ এএম

লিবিয়ায় গুলি করে ২৬ বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশে দালাল চক্রের হোতা কামাল হোসেন ওরফে হাজি কামালকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল সোমবার সকালে র‌্যাব-৩ এর একটি দল রাজধানীর গুলশান থানাধীন শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

একই দিন ওই হত্যাকাণ্ডের জেরে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে মামলা হয়েছে দালালদের বিরুদ্ধে। মাদারীপুরে এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  

র‌্যাব-৩ এর সিনিয়র এএসপি আবু জাফর মো. রহমাতুল্লাহ বলেন, লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনাটি দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর। ওই ঘটনায় তদন্তে মানবপাচারকারী হিসেবে কামাল হোসেন ওরফে হাজি কামালের নাম উঠে আসে। গতকাল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে ধরা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাচারকারীচক্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। জব্দ করা হয়েছে পাসপোর্ট।

র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার হাজি কামালের বাবার নাম জামাত আলী মন্ডল, কুষ্টিয়া সদর থানার বাসিন্দা। ধৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে মিথ্যা আশ্বাস প্রদান করে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর যাবৎ এই অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে মর্মে স্বীকার করে। এই সংঘবদ্ধ চক্রটি বিদেশি চক্রের যোগসাজশে অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে আসছে। এই সিন্ডিকেটটি নিম্নোক্তভাবে ৩টি ধাপে কাজগুলো করত বলে জানা যায়। এর মধ্যে বিদেশে গমনেচ্ছুক নির্বাচন, বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় পাঠানো এবং লিবিয়া থেকে ইউরোপে পাঠানো।

র‌্যাবের আরেক কর্মকর্তা জানান, হাজি কামাল কুখ্যাত দালাল চক্রের অন্যতম মূলহোতা। তিনি গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে অবৈধভাবে লিবিয়াতে প্রায় ৪০০ বাংলাদেশিকে পাঠিয়েছেন। লিবিয়া ছাড়াও তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবৈধ প্রক্রিয়ায় অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তিনি একজন টাইলস্ কনট্রাক্টর। প্রচুর পরিমাণে টাইলস শ্রমিক তার সংস্পর্শে আসে। এ সুযোগে তিনি তাদের প্রলুব্ধ করেন। লিবিয়াতে টাইলস মিস্ত্রিদের অনেক চাহিদ থাকায় তিনি ফাঁদে ফেলে শ্রমিকদের বিদেশে পাঠান। শ্রমিকরা লিবিয়াতে পৌঁছানোর পরে সেখানে অবস্থান করা অন্যান্য পাচারকারী দলের সদস্যরা ভিকটিমদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা দাবি এমনকি শারীরিক নির্যাতন করে। সেই নির্যাতনের ভিডিও ভিকটিমদের পরিবারের কাছে পাঠায়। এমনকি সরাসরি মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে যার কারণে ভিকটিমদের পরিবার জীবন বাঁচানোর জন্য পাচারকারী দলের চাহিদা মোতাবেক টাকা পাঠাতে বাধ্য হয়।

মাদারীপুরে ৩ মামলা, এক মহিলাসহ গ্রেপ্তার ২

লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের মানব পাচারের এবং হত্যার ঘটনায় মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একটি এবং রাজৈর থানায় ২টি মামলা দায়ের করেছে ৩ নিহতের পরিবার। ৩ মামলায় ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। এর মধ্যে মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ দুধখালি গ্রামের মো. শামীম হাওলাদারের বাবা হালিম হাওলাদার বাদী হয়ে রবিবার বিকেলে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় ৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে দালাল নজরুল মোল্লার স্ত্রী দিনা বেগমকে। দালাল নজরুল মোল্লা এখন লিবিয়াতে রয়েছেন। এই ঘটনায় রবিবার রাতেই মামলার প্রধান আসামি দিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অপরদিকে রাজৈরে রাজ্জাক হাওলাদার বাদী হয়ে দালাল জুলহাস সরদারসহ ৪ জনের নামে মানব পাচার আইনে মামলা করেছেন রাজৈর থানায়। এছাড়াও রাজৈর থানার বদরপাশা ইউনিয়নের নিহত রহিম খালাসীর ভাই আবু খায়ের খালাসী বাদী হয়ে রাজৈর থানায় আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় জুলহাস সরদারসহ ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. আব্দুল হান্নান জানান, আমাদের দুই থানায় তিনটি মানবপাচার আইনে মামলা হয়েছে। আমরা এই পর্যন্ত দুই মানবপাচারকারীর সদস্য আটক করেছি। এবং নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

গোপালগঞ্জে ৩ মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা                 

লিবিবায় গুলি করে গোপালগঞ্জের সুজন নামে এক যুবককে হত্যা ও অপর এক যুবককে আহত করার ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় তিন মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) নিহত সুজন মৃধার পিতা কাবুল মৃধা বাদী হয়ে মুকসুদপুর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার বিষয়টি মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মৃধা আবুল কালাম আজাদ নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন মানব পাচারকারী গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সুন্দরদী গ্রামের ওসমান শেখের ছেলে লিয়াকত শেখ ওরফে লেকু শেখ (৪৫), একই উপজেলার যাত্রাবাড়ী গ্রামের মৃত রজব আলী মোড়লের ছেলে রব মোড়ল (৪৫) ও মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার সত্যবর্তী গ্রামের আ. মজিদ সরদারের ছেলে জুলহাস সরদার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত