ঢাকা-৫ (ডেমরা-যাত্রবাড়ী) আসনের উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছে। জল্পনায় এলাকাবাসীর অনেকের মুখে ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. হারুন-উর-রশীদ সিআইপির নাম।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০ এবং ৬০-৭০ মোট ১৪টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনের প্রবীণ সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা গত ৬ মে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে আসনটি শূন্য হয়। উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এশিয়ান গ্রুপ ও এশিয়ান টেলিভিশনের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মো. হারুন-উর-রশীদ মনোনয়ন পেতে পারেন বলে স্থানীয় অনেকের ধারণা। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হারুন-উর-রশীদ সিআইপি এলাকার মানুষের সেবায় নিয়োজিত। উপনির্বাচনে তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। সমাজসেবক হিসেবে ইতিমধ্যে তিনি সুনাম অর্জন করেছেন। সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে তার। এলাকাবাসীদের একদল মনে করছে, সফল শিল্প উদ্যোক্তা হারুন-উর-রশীদ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে এলাকার উন্নয়নে অনেক অবদান রাখতে পারবেন।
আসনটিতে নৌকার মাঝি হতে চান এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক আলহাজ মো. হারুন-উর-রশীদ সিআইপি। তিনি আশা করছেন, কেন্দ্রের সংকেতও পাবেন। আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন আরও দুজন। তারা হলেন প্রয়াত সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লার ছেলে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল ও যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনু। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে হাবিবুর রহমান মোল্লার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন তালিকায় নাম ছিল মনিরুল ইসলাম মনুর।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ঢাকা-৫ আসনে এই তিনজনের বাইরেও কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে সে সিদ্ধান্ত নেবে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর এবং নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হবে। পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বোর্ড সভায় চূড়ান্ত হবে কাকে দেওয়া হবে নৌকা প্রতীক।
উপনির্বাচনে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী হারুন-উর-রশীদ সিআইপি জানান, সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার কারণে জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক হৃদয়ের। অসহায়, নির্যাতিত ও দুঃখী মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে তাই লড়তে চান উপনির্বাচনে। আলহাজ মো. হারুন-উর-রশীদ সিআইপি বলেন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তরের মহান মুক্তির লড়াইয়ে তিনি ছিলেন অগ্রভাগে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে লালন করে পথ চলেছেন অবিরাম; কখনো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে পিছপা হননি। তারই আদর্শে গণমানুষের সেবায় এবার নিজেকে উৎসর্গ করতে চান। তিনি বলেন, দলের দুঃসময়েও কখনো নিজেকে পেছনে রাখেননি, সক্রিয় ছিলেন। তাই এবার তিনি আশা করছেন, কেন্দ্রের সবুজ সংকেত পেলে, ঢাকা-৫ আসনে তিনিই ওড়াবেন বিজয়ের পতাকা।
তৃণমূল নেতাকর্মীরাও রয়েছেন আলহাজ হারুন-উর-রশীদ সিআইপির পাশে। তারাও এবার ঢাকা-৫ আসন থেকে চাইছেন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের এই শীর্ষ নেতাকে। তারা বলেন, ১৯৭৪ সালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে স্থায়ী আবাস গড়া হারুন-উর-রশীদ কখনো তাদের ভুলে যাননি। ওয়ার্ডে, গ্রামে, স্কুলে, মাদ্রাসায়, ঈদগাহে, বাড়ি বাড়ি তার পদচারণা। মিলাদ মাহফিল, জানাজা, সামাজিক অনুষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরেও তার সরব উপস্থিতি। যখনই মানুষ দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে পড়েছে, তখনই আলহাজ মো. হারুন-উর-রশীদ সিআইপি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ১৯৮৮ সালের বন্যা থেকে শুরু করে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাই স্থানীয়দের আশা, দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত এই নেতাকে এবার মূল্যায়ন করবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।
হারুন-উর-রশীদ সিআইপি শুধু এলাকার সাধারণ মানুষের পাশেই দাঁড়াননি, নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হয়ে টানা ৬ মেয়াদে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর। এফবিসিসিআইর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি। রপ্তানিতে বিশেষ অবদানের জন্যও সাফল্যের মুকুট পরেছেন মাথায়, টানা ১৭ বার সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন। বস্ত্র রপ্তানি খাতে পুরস্কার পেয়েছেন ১৬ বার।
