কেউই মানছে না স্বাস্থ্যবিধি

আপডেট : ০৩ জুন ২০২০, ০৫:৫৩ এএম

করোনা পরিস্থিতিতে দুই মাসের বেশি সময় পর চালু হয়েছে গণপরিবহন। স্বাস্থ্যবিধিসহ কঠোর নির্দেশনা মেনে গণপরিবহন চালানোর সরকারি নির্দেশনা থাকলেও চট্টগ্রামে এর কিছুই মানা হচ্ছে না। গাড়ির চালক, তার সহকারী এমনকি বেশিরভাগ যাত্রী মাস্কও ব্যবহার করছেন না। এতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, চকবাজার, মুরাদপুর, চান্দগাঁও, বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল, ২নং গেট, জিইসি, বিআরটিসি বাস টার্মিনাল, আন্দরকিল্লা, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন সড়ক ও বাস কাউন্টার ঘুরে দেখা যায় সড়কে সিটি বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা, টেম্পুসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। বাসে আগের চেয়ে যাত্রী কম। তবে কোনো বাসেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। দুই-একজন বাসচালক ও হেলপার মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস পরলেও বেশিরভাগই এসব তোয়াক্কা করছেন না। সরেজমিনে অনেক যাত্রীর মুখেও মাস্ক পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞেস করলে পকেটে আছে বলে জানান তারা।

১০নং রোডের বাসচালক শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, বর্ধিত ৬০ শতাংশ ভাড়া কার্যকরে ঝামেলা হচ্ছে। যাত্রীরা ১০ টাকার ভাড়া ১৬ কিংবা ২০ টাকার ভাড়া ৩৫ টাকা দিতে চাচ্ছেন না। তর্ক হচ্ছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, বাসের লোকজন দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে। এক যাত্রী জানান, বহদ্দারহাট ২ নম্বর গেট যেতে আগে ৫ টাকা লাগত, এখন ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে, রাস্তা থেকে সমানে যাত্রীও তুলছে, এটা জুলুম।

এদিকে স্বাস্থ্যবিধি কার্যকরে নগরীতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এসব অভিযানে প্রতিদিনই নির্দেশনা অমান্যকারীদের জরিমানা করা হচ্ছে। গতকাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে গণপরিবহনেও অভিযান চালানো হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরিন আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্দেশনা না মানায় আজ (গতকাল) বহদ্দারহাট, চকবাজার, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি বাস, লেগুনা ও টেম্পুচালক থেকে ৫ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।’ তিনি স্বীকার করেন, ‘শুধু চালক নয়, অভিযানের সময় বাস কাউন্টারে সামাজিক দূরত্ব পাওয়া যায়নি। যাত্রীরাও স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না। এভাবে চললে সংক্রমণ বাড়বে।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘সোমবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৩ হাজার ১৮৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ সংখ্যা বাড়ছেই। সংক্রমণ রোধে সবাইকে ঘরে থাকতে হবে।’

বিশিষ্ট নাগরিকদের উদ্বেগ : চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনরা। গতকাল এক বিবৃতিতে তারা সরকার ঘোষিত হাসপাতাল দ্রুত চালু, পরীক্ষা সংখ্যা বৃদ্ধি ও সরকারি খরচে করোনা রোগীদের সেবা দেওয়ার আহ্বান জানান।

কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান, প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া, লেখিকা ফেরদৌস আরা আলীম, অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী, কমরেড অশোক সাহা, ডা. সুশান্ত বড়ুয়া, সাবেক কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস পপি প্রমুখ বিবৃতিতে সই করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত