সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে পাঁচ জেলায় ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পুলিশসহ দুজন মারা যান। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শ্বাসকষ্টে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। খুলনায় মারা যান নারীসহ তিনজন। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহের ভালুকায় মারা যান এক হাফেজ। বিস্তারিত ব্যুরো, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবরে : চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মর্তুজা কাইয়ুম (৪৫) নামে এক পুলিশ সদস্য মারা যান। তার বাড়ি ফেনীর পরশুরামের রাজেশপুর গ্রামে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (জনসংযোগ) আবু বকর সিদ্দিক জানান, মর্তুজা নগরীর সদরঘাট থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জ¦র ও সর্দি হওয়ায় তাকে গত ১৯ মে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ২৭ মে তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে গতকাল তিনি মারা যান। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্যদিকে গতকাল সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করিমউল্লাহ (৫৩) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আবদুর রব জানান, ডবলমুরিং এলাকার ওই ব্যক্তি সোমবার ভর্তি হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগেও ভুগছিলেন।
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) : সোমবার রাতে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়িচিনিষ গ্রামের মৃত হেকমত ব্যাপারীর স্ত্রী আবেদুন নেছা মারা যান। এলাকাবাসী জানায়, গত ১৬ মে করোনা উপসর্গ নিয়ে হেকমতের বড় মেয়ে নার্গিস আক্তার মারা যান। পরে তার করোনা শনাক্ত হয়। ওই সময় আবেদুন নেছার নমুনা পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তবে কয়েক দিন ধরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে দুদিন আগে ফের তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু রিপোর্ট আসার আগেই সোমবার রাতে তিনি মারা যান।
এদিকে গতকাল দুপুরে উপজেলার বারদী ইউনিয়নের দলরদী গ্রামের মকবুল হোসেন (৪৫) এবং বড় আলমদী গ্রামের আবুল বাশার (৬৫) করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।
খুলনা : খুলনায় করোনা উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন গতকাল ও অন্যজন আগের রাতে মারা যান। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ও ফ্লু ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ডা. শৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, সোমবার বিকেলে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার এক ব্যক্তি (৫২) ভর্তি হন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এদিন মনিরামপুর উপজেলার গাংরা গ্রামের এক নারী (৩৬) কিডনি সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। গভীর রাতে শ্বাসকষ্টের জন্য তাকে ফ্লু ওয়ার্ডে আনা হলে ভোরে তিনি মারা যান। এছাড়া গতকাল সকাল ১০টার দিকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার এক বাসিন্দা (৩৯) মারা যান। তিনি তিন দিন ধরে জ¦রে ভুগছিলেন। তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
পটুয়াখালী : কলাপাড়ায় শ্বাসকষ্ট নিয়ে পিয়ারা বেগম (৭০) নামে এক নারী মারা গেছেন। গত সোমবার রাত ১২টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। পিয়ারা বেগম মহিপুর থানার খাপড়াভাঙ্গা গ্রামের আবদুল আলী হাওলাদারের স্ত্রী। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিন্ময় হাওলাদার জানান, নিহত ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
ভালুকা (ময়মনসিংহ) : ভালুকা উপজেলার সাতেঙ্গা গ্রামে শ্বাসকষ্ট নিয়ে মঙ্গলবার সকালে আলী আজগর (৩৫) নামে এক হাফেজ মারা যান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুহেলি শারমিন জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আলী আজগরের দাফন এবং তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
