বস্তা বদলে ৯০০ কেজি সরকারি চাল কালোবাজারে

আপডেট : ০৩ জুন ২০২০, ০৬:০০ এএম

গাইবান্ধা সদর উপজেলার একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৯০০ কেজি চাল উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের লেঙ্গাবাজারের ব্যবসায়ী রাজা মিয়ার দোকানে এসব চাল পাওয়া যায়। অভিযানে দোকানটি থেকে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩০ কেজি ওজনের ৩০টি খালি বস্তাও উদ্ধার করা হয়, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে সরকারি চালের বস্তা থেকে সাধারণ বস্তায় চাল রেখেছিলেন রাজা মিয়া। সাধারণ মানুষের কাছে ওই চাল বিক্রিই ছিল তার উদ্দেশ্য। এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজা মিয়ার দোকানে সরকারি চাল বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছে এমন তথ্য গত সোমবার রাতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রসূন কুমার চক্রবর্তীকে মোবাইল ফোনে জানান স্থানীয়রা। পরে ইউএনও প্রসূন কুমার চক্রবর্তীর নির্দেশে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজুল ইসলাম রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর থানার পুলিশসহ অভিযানে যান। রাজা মিয়াকে না পাওয়ায় তার দোকানের তালা ভাঙা হয়। এ সময় দোকানের ভেতরে ঢুকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩০ কেজি ওজনের ৩০টি খালি বস্তা দেখতে পাওয়া যায়। এ ছাড়া পাশেই ৫০ কেজি ওজনের ১৮টি সাধারণ বস্তায় ৯০০ কেজি চাল পাওয়া যায়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাজার কমিটির সভাপতির জিম্মায় দোকান তালাবদ্ধ করে রেখে আসা হয় সেগুলো। পরে গতকাল মঙ্গলবার সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোফাখখারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে এসব খালি বস্তা ও চাল উদ্ধার করেন। পরে বিকেলে গাইবান্ধা সদর থানায় বাদী হয়ে রাজা মিয়াকে আসামি করে একটি মামলা করেন তিনি।

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেহেতু খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩০টি খালি বস্তার পাশেই সাধারণ ১৮টি বস্তা ভর্তি চাল পাওয়া গেছে, তাই ধারণা করা হচ্ছে এগুলো সরকারেরই খাদ্যবান্ধব কোনো কর্মসূচির চাল হবে যা বস্তা বদল করে রাখা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত