নিম্নমানের সুরক্ষাসামগ্রীতে সয়লাব ফুটপাত

আপডেট : ০৩ জুন ২০২০, ০৬:০৬ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বর্তমানে নিত্যসামগ্রী হয়ে দাঁড়িয়েছে মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস, হ্যান্ডস্যানিটাইজার ও পিপিই। কিন্তু করোনার অন্যতম হটস্পট নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত সয়লাব হয়ে আছে নিম্নমানের করোনা সুরক্ষাসামগ্রীতে। ফুটপাত ছাড়াও অলিগলিতে ভ্যানে করে দেদার বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে বাড়িতে পৌঁছেও দেওয়া হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে জেলা সিভিল সার্জন বলছেন, এখন মান দেখার সুযোগ নেই। সংক্রমণ ঠেকাতে যেভাবেই হোক মাস্ক পরা নিশ্চিতের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ফুটপাত, বাজার ও অলিগলিতে নিম্নমানের সুরক্ষাসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর গত ৪ মে সার্কুলার জারি করে পিপিই প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমোদন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও কোনো নজরদারি নেই। এরই সুযোগ নিয়ে জেলায় অনুমোদনহীন কোম্পানির পিপিইতে ভরে গেছে। ভ্যানগাড়ি ঠেলে স্বল্পমূল্যে এসব পিপিই বিক্রি করা হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া, ২ নম্বর রেলগেইট, টার্মিনাল খেয়াঘাট এলাকায় নিম্নমানের সুরক্ষাসামগ্রী দেখা গেছে। অনেক স্থানে হাসপাতালে ব্যবহৃত হ্যান্ডগ্লাভস, পিপিই ধুয়ে পুনরায় বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার পিপিই বলে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে রেইনকোট। না জেনে কিনে ঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনে এসব বিক্রি করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

চাষাঢ়ায় ফুটপাতে দাঁড়িয়ে সুরক্ষাসামগ্রী বিক্রি করছেন হকার সৈয়দ আলী। তার কাছে মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস, চোখের গগলস ও প্লাস্টিকের বোতলে ভরা হ্যান্ডস্যানিটাইজার থাকলেও তাতে কোনো কোম্পানির লেভেল নেই। পিপিই স্যুটের দাম চাইছেন ২২০ টাকা। দরদাম করে একজন ২০০ টাকা দিয়ে কিনেও নিলেন। শহরের অধিকাংশ এলাকার ফুটপাতেই এখন সস্তা ও নিম্নমানের সুরক্ষাসামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে।

এ বিষয়ে শহরের মেডিপ্লাসের ডা. ইয়ার-ই মাহবুব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিম্নমানের সুরক্ষাসামগ্রী মোটেও ভাইরাস প্রতিরোধ করবে না। উল্টো এসব পিপিই ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার বিপদ ডেকে আসবে। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা না মেনে অনেক প্রতিষ্ঠান বাজারের ব্যাগ তৈরির কাপড় দিয়ে পিপিই বানিয়েছে।’

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন ভালো-মন্দ দেখার সময় নয়। মানুষের মাস্ক পরাটাই বড় ব্যাপার, সেটি ফুটপাতের বা কাপড়ের যাই হোক না কেন। তবে পিপিই, স্যানিটাইজার মানসম্মত হতে হবে। আপাতত আমরা চিকিৎসকদের সুরক্ষাসামগ্রীর মানে নজরদারি করছি। মাস্ক ছাড়া অন্যান্য সুরক্ষাসামগ্রী ফুটপাত থেকে না কিনতে সবাইকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে এ নিয়ে অভিযানের কোনো পরিকল্পনা নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত