অষ্টম শ্রেণি : ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

আপডেট : ০৪ জুন ২০২০, ০৩:১৪ এএম

প্রথম অধ্যায় : আকাইদ

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

জনাব নুরুল ইসলাম একজন সৎ কাস্টমস অফিসার। তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। কোনোরকম অনিয়মের আশ্রয় তিনি গ্রহণ করেন না। এ কারণে ডিপার্টমেন্টের সবাই তাকে খুব সম্মান করে। একজন সৎ কর্মকর্তা হিসেবে কাস্টমস বিভাগে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। জনাব নুরুল ইসলামের এই সততা ও নিষ্ঠার পেছনে আখিরাতের বিশ্বাস তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন যে, ‘আখিরাতে বিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে কল্যাণ আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে মারাত্মক বিপর্যয়।’

ক. নৈতিকতা কী?

খ. আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা জরুরি কেন?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব নুরুল ইসলাম কেন দায়িত্বশীল হয়েছেন? বুঝিয়ে লিখো।

ঘ. উদ্দীপকের সর্বশেষ উক্তিটির যথার্থতা কুরআন ও হাদিসের আলোকে মূল্যায়ন করো।

উত্তর

ক. নৈতিকতা বলতে বোঝায় নীতি সম্বন্ধীয় ও নীতিমূলক। কাজকর্মে, কথাবার্তায় নীতি ও আদর্শের অনুসরণই হলো নৈতিকতা।

খ. আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে মানুষ ইমানদার হতে পারে না। আখিরাতে বিশ্বাস মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে সাহায্য করে। মানুষকে সৎকর্মশীল করে তোলে। আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে অন্যায়, অত্যাচার অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখে। আখিরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তি প্রতিটি কাজে আল্লাহকে স্মরণ করে।

পরকালীন জীবনে সফলতা ও জান্নাত লাভ করার জন্য সে পুণ্য কাজ করতে উৎসাহিত হয়।

গ. উদ্দীপকে জনাব নুরুল ইসলামের দায়িত্বশীলতার পেছনে আখিরাতে বিশ্বাস তাকে উৎসাহিত করেছে। একজন মানুষকে পরিপূর্ণ ইমানদার হতে হলে তাকে অবশ্যই আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আখিরাতে বিশ্বাস না করলে মানুষ ইমানদার হতে পারে না। এ সম্পর্কে সুরা আল বাকারার ৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর তারা (মুত্তাকিরা) আখিরাতের প্রতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।’ তাওহিদ ও রিসালাতের মতো আখিরাতে বিশ্বাস করা ইমানের অঙ্গ। আখিরাতে বিশ্বাস জনাব নুরুল ইসলামকে সৎকর্মশীল ও দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠাবান করেছে।

কারণ তিনি একজন ইমানদার হিসেবে বিশ্বাস করেন পৃথিবীর যাবতীয় কাজকর্ম সম্পর্কে পরকালে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ভালো কাজের জন্য আল্লাহতায়ালা তাকে পরকালে পুরস্কৃত করবেন আর মন্দ কাজের জন্য তাকে অবশ্যই শাস্তিভোগ করতে হবে। উপরোক্ত বিশ্বাস জনাব নুরুল ইসলামকে সৎ থাকতে সহায়তা করেছে।

ঘ. যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে এবং সে বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করে তারা পরকালে লাভ করবে পরম সুখ-শান্তির স্থান জান্নাত। সেখানে শুধু শান্তি আর শান্তি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অসংখ্য নাজ নেয়ামত রয়েছে। যেখানে রোগ-শোক, জরা-মৃত্যু কোনো কিছুই জান্নাতিদের স্পর্শ করতে পারবে না। জান্নাতে থাকবে স্বর্ণখচিত আসন, রেশমের আস্তরবিশিষ্ট ফরাশ, স্বচ্ছ পানির স্রোতধারা, সুস্বাদু দুধের প্রবাহ, বিশুদ্ধ মধুর নহরসহ আরও নানা প্রকার আনন্দ উপভোগের আয়োজন।

আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের মনোরঞ্জনের জন্য রকমারি ব্যবস্থা সেখানে রয়েছে। আর যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে। আল্লাহতায়ালা সুরা নাহলের ২২ নম্বর আয়াতে তাদের সম্পর্কে বলেন, ‘আর যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর সত্যবিমুখ এবং তারা অহঙ্কারী।’ যারা আখিরাতে অবিশ্বাসী তারা জাহান্নাম লাভ করবে। জাহান্নাম বড় কষ্টদায়ক স্থান।

এ সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা সুরা আল আ’লার ১৩ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘এরপর জাহান্নামিরা (জাহান্নামে) মরবেও না এবং জীবিতও থাকবে না।’ জাহান্নামের প্রজ্বলিত আগুন শরীরের মাংস হাড় থেকে আলাদা করে দেবে। আবার পুনরায় সৃষ্টি হবে নতুন মাংস ও চামড়া। যুগ যুগ ধরে অন্তহীনভাবে এ শাস্তি চলতে থাকবে। ভয়ংকর বিভীষিকাময় এই জাহান্নামে অসংখ্য বিষধর সাপ ও বিচ্ছু থাকবে। এই বিষধর সাপ ও বিচ্ছুগুলো জাহান্নামিদের দংশন করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত