মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য মেক্সিকো সীমান্তে অপেক্ষায় ছিল আড়াই হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকেই নারী ও শিশু। কিন্তু সীমান্ত বন্ধ। এই বিপন্ন মানুষগুলোকে রক্ষা করেছে ‘গ্লোবাল রেসপন্স ম্যানেজমেন্ট’। শতভাগ সেবায় একজন মানুষকেও করোনাভাইরাসে মরতে দেয়নি সংগঠনটি। লিখেছেন ওমর শাহেদ ও এস কে শাওন
সীমান্তের ওপারে
৩১ বছরের ডা. আন্দ্রেয়া গাসপার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িতে তিনি ফিরে এসেছেন, বেশিদিন হয়নি। দেশের দক্ষিণের সীমান্ত থেকে ভয় নিয়ে ফিরেছেন তিনি। তার আগে দক্ষিণ আমেরিকার আরেকটি দেশ পেরু থেকে মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতে চলে এসেছিলেন। এরপর গিয়েছেন এই মেক্সিকোর ভেতরে। তবে সেখান থেকে ফিরে কাজ থামেনি তার। শত শত যে আশ্রয়প্রার্থী, বেপরোয়া মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসতে চাইছে; তাদের জন্যই বিস্ময় ও বেদনাময় ভাবনাগুলো তার। যদি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস অসহায় এই পরিবারগুলোর কাছে কোনোভাবে পৌঁছে যায়, তাহলে কী ঘটতে পারে? তাদের জোর করে ঘনবসতি আশ্রয় শিবিরে বাস করতে বাধ্য করা হয়েছে। সবাই আছেন মেক্সিকোর মাটামোরোস নামের শহরটির শেষে; দেশের একেবারে উত্তর-পূর্বে। এই শহরের দক্ষিণের শেষে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউন্সভিল শহর। হাঁটাপথে মাটামোরোস হয়ে মেক্সিকো পেরিয়ে ব্রাউন্সভিলে ঢুকে পড়া যায়। তবে এখন কোনোভাবেই এই সীমান্ত পেরুনো সম্ভব নয় মানুষগুলোর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের আশ্রয় প্রার্থনার মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন আছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসন ‘মেক্সিকোতেই থাকুন’ এই নীতিতে দেশ পরিচালনা করছেন। খুব কড়াকড়ি চলছে সীমান্তে। তাদের জন্য কাজ করছেন ডা. আন্দ্রেয়া গ্যাসপার। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ‘ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন’র বৈশ্বিক ও গ্রামীণ স্বাস্থ্য কর্মসূচির তিনি সম্মানিত একজন সদস্য বা ফেলো। বলেছেন, ‘আমি দেখেছি, আশ্রয় শিবিরগুলোতে মানুষ ঘনবসতি করে গাদাগাদিভাবে বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। করোনাভাইরাসের বিপর্যয়ের আশঙ্কা ছাড়াও নানা ধরনের অসুখে তারা অনেক আগে থেকে ভুগছেন। দীর্ঘদিন ধরে এখানে।’ সর্বশেষ আশঙ্কার কথা বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস এলে খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়বে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে। অনেকে আক্রান্ত হয়ে রোগে মারাত্মকভাবে ভুগবেন। অনেকে মারা যাবেন।’ তাদের নিয়ে কাজ করেছেন তারা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে। তবে এই বছরের মার্চের শেষে তাদের স্বেচ্ছাসেবকদের করোনাভাইরাসের ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে জোর করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। তারপরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মানব সেবাদানকারী ড. আন্দ্রেয়া গাসপার দমেননি। তার চিন্তা থেকে মোটেও দূরে সরে যাননি অসহায় সেই শিশু ও নারীরা। কীভাবে বাড়িতে বসেই তাদের সাহায্য করা যায় সেই নিয়ে নানা গবেষণা করা শুরু করেছেন তিনি।
‘গ্লোবাল রেসপন্স ম্যানেজমেন্ট’, বা ‘জিআরএম’
তাদের স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠনটির নাম ‘গ্লোবাল রেসপন্স ম্যানেজমেন্ট’, সংক্ষেপে ‘জিআরএম’। পুরোপুরি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা পায় না বা খুব সামান্য বা কম সুবিধা আছে এমন এলাকাগুলোয় তারা চিকিৎসা ও সেবাদান করেন। তাদের চিকিৎসক ও নার্সদের একটি দলের অংশ হয়ে ডা. গাসপার প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সীমান্ত পেরিয়ে শত শত এমন আশ্রয়প্রার্থীকে বেসরকারি ও নিজেদের উদ্যোগে চিকিৎসাসেবা প্রদান করতেন। এই মানুষদের সরকার জোর করে আশ্রয় শিবিরগুলোতে রেখেছে। এই বছরের শুরু থেকে আর সব দেশের মতো মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রশাসন; বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব-নিকাশ বদলে গিয়েছে। তখন থেকে করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে একে একে দেশে দেশে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রেই। ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাবে, কভিড-১৯ রোগে ভুগে দেশটিতে ৩১ মে পর্যন্ত মারা গিয়েছেন মোট ১ লাখ ৫ হাজার ৫৭৫ জন মানুষ। রোগী আছেন মোট ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৪০৯ জন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে এই সময়ের মধ্যে মারা গিয়েছেন ৯ হাজার ৭৭৯ জন। রোগী আছেন ৮৭ হাজার ৫১২ জন। রোগটি যখন প্রবলভাবে ছড়াতে লাগল, ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ণ শক্তিতে মাটামোরোসের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে কাজ শুরু করেছে জিআরএম। তখন করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ‘কভিড-১৯’ রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
কারা, কীভাবে, কেন
ডা. আন্দ্রেয়া গাসপার জানিয়েছেন, তারা নির্দিষ্টভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন একটি দল। এই সংগঠনের কর্মকৌশল বিভাগের পরিচালক আন্দ্রেয়া লেইনার নিজেদের কাজ নিয়ে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের দিক থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া শেষ করার পর এই অঞ্চলে কভিড-১৯ রোগের শুরু থেকে বিপক্ষে পূর্ণশক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। পুরোপুরি সঠিক পরিকল্পনা করে এগিয়েছি। আমাদের কাজের মধ্যে আছে প্রতিকার, প্রতিরোধ ও চিকিৎসাদান। আমরা কাজ করেছি এখানকার ২৫শ মানুষের আশ্রয় শিবিরগুলোতে। সভ্য মানুষের বসবাস করার তেমন কোনো সুবিধাই নেই।’ তবে বিশে^র সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোর সেরা চিকিৎসা ব্যবস্থাগুলোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ এই স্থানটিতে তারা মহামারী রোগটিতে একজন মানুষকেও মরতে দেননি। জিআরএমের ঊর্ধ্বতন এই কর্মী সে কথাই বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এমন কোনো রোগীও আমাদের এখানে এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আক্রান্ত হতে পারেন বিবেচনা করে মোট ১৭ জন মানুষকে গেল ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে পেয়েছি ও আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দিয়েছি। তাতেও পুরোপুরি সফল হয়েছি। প্রত্যেককে পরে আলাদাভাবে রোগটির উপসর্গগুলোর পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রত্যেকেরই করোনাভাইরাসের টেস্টে নেগেটিভ ফলাফল এসেছে। তারা সবাই প্রতিদিন উন্নতি করেছেন।’ তিনি এই চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। বলেছেন ‘আমাদের করোনাভাইরাসের বিপক্ষে পূর্ণ প্রস্তুতি ছিল। আমরা মানুষগুলোর প্রয়োজনীয় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করেছি। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সব হারানো তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রদান করেছি।’ তারা প্রয়োজনীয় ফেস মাস্ক বা মুখবন্ধনী, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উপকরণ নিয়ে সেখানে গিয়েছেন। ছোট একটি হাসপাতাল স্থাপন করেছেন। সম্ভাব্য রোগীদের তাতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। কেন এভাবে পূর্ণশক্তিতে কাজ করেছেন সে প্রশ্নের জবাবে আন্দ্রেয়া লেইনার বলেছেন, ‘কারণ আমরা জানতাম যদি কোনোভাবে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে তাহলে ব্যাপকভাবে সেই মানুষরাই আক্রান্ত হবেন, যারা একেবারেই দুর্বল বা কম সুবিধা পান।’
পাশে থেকেছেন আশ্রিতরাও
তেমনই একজন হোর্হে। তিনি হন্ডুরাসের নাগরিক। অনেক কষ্ট স্বীকার করে এখানে পৌঁছেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে বাস করার জন্য তিনিও আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। তার সঙ্গে আছে পরিবার-স্ত্রী ও তিনটি নাবালক সন্তান। জানিয়েছেন তার মতো মানুষরা জেআরএমের স্বেচ্ছাসেবী ও টিম ব্রাউন্সভিল নামের ওপারের সীমান্তের আরেকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া সাহায্য নিয়ে সীমান্তে বেঁচে আছেন। টিম ব্রাউন্সভিল নানাভাবে সংগ্রহ করা খাবার, পোশাকসহ অন্যান্য জীবন বাঁচানোর উপকরণ দিয়ে তাদের মরণ ঠেকিয়ে দিচ্ছেন। অসহায় হোর্হে বলেছেন, ‘এছাড়া আর কোনো ধরনের সাহায্য আমরা কোনো দেশের কোনো রাষ্ট্রপতির কাছ থেকেই পাই না।’ জানিয়েছেন, খুব যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতিতে, অনেক কষ্ট স্বীকার করে তারা বেঁচে আছেন। তারপরও আশাবাদী মানুষটি বলেছেন, ‘আমি সবার আগে ঈশ^রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। এরপর ধন্যবাদ জানাই টিম ব্রাউন্সভিলকে। কারণ তারা সবসময় বিপুল পরিমাণ খাবার, পানি, পোশাক, জুতা, তাঁবু আমাদের মতো অভিবাসন প্রত্যাশা করে জীবন ও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে যাওয়া মানুষদের দিয়ে চলেছেন। যেকোনো ধরনের সাহায্য সবচেয়ে বেশি করতে সবাই সবসময় চেষ্টা করছেন।’ তাদের অসহায় জীবনের পাশে দাঁড়ানো এই স্বেচ্ছাসেবীদের ‘দেবদূত’ বলে ডাকেন হোর্হে। কারণ জানালেন এভাবে, ‘শরনার্থী শিবিরে আমার পরিবার, বিশেষত তিনটি ছেলেমেয়ে নিয়ে মা-বাবা জীবন কাটাতে গিয়ে নানা দুর্দশায় ভুগছে।’ এখানে সপ্তাহের পর সপ্তাহ এমন পরিবার তাঁবুতে অসহায় জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।’ তেমনই একটি পরিবারের ছেলেমেয়েদের বাবা বললেন, ‘এখানে এভাবে জীবন কাটানো খুব কঠিন। মোটেও সহজ কাজ নয়। আমরা সবাই আমাদের পরিবার নিয়ে এভাবেই আছি।’ পরিবার নিয়ে এক মাসের বেশি তিনি এভাবে থাকছেন। শিবিরে পৌঁছানোর পর থেকে হোর্হে ও তার পরিবার এখানে নেতৃত্বের ভূমিকাগুলো নিয়েছেন। অন্য আশ্রয় প্রত্যাশীদের জন্য নানা ধরনের জীবন-যাপনের উপকরণগুলো আনা ও সেগুলো বিতরণ করছেন। হোর্হে বললেন, ‘যদি আমাদের পাশে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিয়ে এই স্বেচ্ছাসেবীরা না আসতেন, আমি জানি না আমরা কীভাবে থাকতাম।’
মানুষের পাশে
আন্দ্রেয়া লেইনার বললেন, ‘আমাদের জিআরএমের সঙ্গে অনেক চিকিৎসক ও নার্স স্বেচ্ছাসেবায় কাজ করেন।’ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তিনি জানালেন, মহামারী রোগটির প্রাদুর্ভাবের সময়ে প্রধান মহামারীর দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তারা সামনের সারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে ভালো আয় করতে পারতেন। তা না করে দেশের চিকিৎসাকর্মীদের অনেকে মাটামোরোসের শরণার্থী শিবিরগুলোতে প্রবল কষ্ট ও খুব দুর্দশায় থাকা মানুষদের মূল্যবান সময়গুলো দিয়ে স্বেচ্ছায় সেবা করতে মনস্থ করেছেন। লেইনার বললেন, ‘আমরা জানি, কভিড-১৯ রোগের এ সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সামনের সারির এই কর্মীদের খুব বেশি প্রয়োজন। কাজগুলো তাদের জন্য আর্থিকভাবে খুব লাভজনকও বটে। ফলে কেউ এই সময়ে তার জীবন থেকে দুই সপ্তাহ সময় যদি দেন, সেটুকু কেন নিউ ইয়র্কে দেবেন না?’ ৩১ মের হিসাবে, মার্কিন শহর নিউ ইয়র্কে করোনাভাইরাসে মোট ২৯ হাজার ৮২৯ জন রোগী মারা গিয়েছেন। তারা মাতৃভূমিকে বাঁচাতে সামনের সারির যোদ্ধা হতে পারতেন, টাকা পেতেন; কেন বিনা পয়সায় বিপজ্জনক কাজে তাদের জীবনের মহামূল্যবান দুটি সপ্তাহ স্বেচ্ছাসেবীদের একটি সংগঠনে দিতে রাজি হচ্ছেন? উত্তরটি খুব সহজে দিলেন শিশু রোগের নার্স হিসেবে অভিজ্ঞ ও কর্মরত আইজ্যাক বেনকোমো, ‘আমি এখানে থাকাতে শিশুরা চিকিৎসা নিয়ে খুব ভালো আছে। তাই কাজ করছি।’ ২৭ বছরের মানুষটি মেক্সিকোর নাগরিক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া করে নার্স হয়েছেন। জানালেন, ‘অবশ্যই জাতীয়তার দিক থেকে আমি একজন মেক্সিকান। অভিবাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। নিঃসন্দেহে এই মানুষগুলোর সঙ্গে পুরোপুরি একাত্ম হয়ে কাজ করতে পারছি। হয়তো তাদের এই জীবনের অভিজ্ঞতা, এখন যেভাবে তারা জীবনযাপন করছেন, সেগুলোর সঙ্গে আমি একাত্ম হতে পারছি না। তবে একজন অভিবাসীর বোধের সঙ্গে নিজেকে পুরোপুরি মেলাতে পারছি।’ আরও বললেন, ‘আমার মনে আছে, অবশ্যই দেশের বিশেষ অধিকার বা সুবিধা পাওয়া জায়গা থেকে এসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া করেছি। মা-বাবা আমার পড়ার খরচ দেওয়ার সামর্থ্য রেখেছেন। তারা এখানেও সাহায্য করেছেন। ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করেছেন।’ দরদী মানুষটি এরপর বললেন, ‘তবে আমি অনুভব করতে পারি, একজন অভিবাসীর প্রতি কী ঘটতে পারে? মানুষটির জীবন কেমন হতে পারে যে আরও ভালো সুযোগগুলোর জন্য একটি দেশে এভাবে এসেছেন।’ তিনি তার এমন জীবনের কারণে প্রতিদিন স্বেচ্ছায় সেবা দিতে পারেন না। তারপরও মনের তাগিদে যত বেশি সম্ভব মাটামোরোসে যেতে চেষ্টা করেন। সেজন্য অনেক কষ্টও করেন। টানা চার ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যান ও সেভাবে ফিরে আসেন সান অ্যান্তোনিওতে, টেক্সাসের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের একটি প্রধান শহরে। তাতে শিশুদের একটি হাসপাতালে কাজ করেন। আইজ্যাক বেনকোমো জিআরএমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির হয়ে মেক্সিকো সরকারের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী তিনি। তবে মহৎপ্রাণ মানুষটি বলেছেন, ‘আমাদের স্বেচ্ছাসেবীদের ব্যাপক প্রচেষ্টার ফলে বিরাটাকার এই কাজটি করা সম্ভব হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের মানবদরদীরা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সচেতন অনেক মানবদরদীর মাধ্যমে তাদের অনুদান ও সাহায্য আসে। এমন মানুষও আছেন যারা বাড়িতে মুখবন্ধনী তৈরি করে পাঠিয়েছেন মাটামোরোসে। ডা. প্রহ্লাদ সুনীল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দক্ষিণ-পূর্বের অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডার নেপলসে বাস করা একজন চিকিৎসক। সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় নিবেদিত হয়ে কাজ করেন। মনের টানে, স্থির বিশ্বাসে জেআরএমের মাটামোরোসে কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতি সপ্তাহে স্বেচ্ছায় সেবা দেন। তিনি বলেছেন, ‘একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি জানি, অন্যসব রোগের মতো এই ভাইরাসটিও বিচার করে না আপনি কে? আপনার বিশ্বাস? পরিচয় কোনোকিছুই। এটি অন্য ভাইরাসগুলোর মতোই যে কারও শরীরে প্রবেশের চেষ্টা করে ও যেকোনো উপায়ে আপনাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। মানবেতিহাসে প্রথম ভয়াবহ ঘাতক রোগ হিসেবে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সারা বিশ্বের সব মানুষ ভাইরাসটির বিপক্ষে সংঘবদ্ধ হয়েছেন। সবাই নিজেদের সব ধরনের সংকীর্ণতা ঠেলে, আত্মপরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিঃস্বার্থভাবে একে-অন্যকে সাহায্য করছেন। আগে কোনোদিন এমন ঘটেনি। আসেনি এমন আর কোনো কোনো বিপদ, যার হাত থেকে আমরা একজনও নিরাপদ নই।’ এই অবস্থা উপলব্ধি করেছেন আন্দ্রেয়া গাসপারও। বলেছেন, ‘আমাদের যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের বিপক্ষে যুদ্ধ করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি অনুভব করেছি, তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি, এই দেশের বাইরে যারা আছেন তাদের জন্যও সেভাবে এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। সেই মানুষগুলোকেও সাহায্য করা সমান গুরুত্বপূর্ণ যারা এই দেশে আশ্রয় প্রত্যাশা করেন। তাদের স্বাস্থ্যযত্ন নেওয়া তাই আমাদের কাছে মহামূল্যবান কাজ। বলতে চাই না তাদের ভুলে যাওয়া হচ্ছে। তবে অনেক মানুষই আসলে তাদের সম্পর্কে ভাবছেন না। তারা অন্য যেকোনো মানুষের মতো এই চিন্তা ও সেভাবে সাহায্য পাওয়ার উপযুক্ত।’
