করোনাভাইরাসের বিস্তার ছড়াতে দেশে ৩০টি পৌরসভায় হ্যান্ড ওয়াশিং স্টেশন বা হাত ধোয়ার বুথ স্থাপন করতে যাচ্ছে বহুমুখী বিশ্বব্যাংক। নির্বাচিত এসব পৌরসভার প্রবেশপথ, বাজার এবং ঘন জনবহুল এলাকায় এসব স্থাপন হবে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত সাবান ও জীবাণুনাশক রাখা হবে। আর এটির রক্ষণাবেক্ষণ যেন ঠিকঠাক হয়, তার জন্য স্থানীয় সরকারের সহযোগিতা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে একজন করে নারীকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে সবকিছুই হবে চলমান ৩০টি পৌরসভার ওয়াটার সাপ্লাই ও স্যানিটেশন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায়। এছাড়া এ প্রকল্পের অর্থে নির্মিত পাবলিক টয়লেটগুলোতেও পর্যাপ্ত সাবান ও জীবাণুনাশক নিশ্চিত করা হবে। চলমান এ প্রকল্পে জরুরিভিত্তিতে এই কম্পোনেন্ট যুক্ত করে এসব বুথ স্থাপন করা হবে। বিশ^ব্যাংকের ঢাকা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখপাত্র মেহরিন এ মাহবুব দেশ রূপান্তরকে বলেন, কভিড-১৯-এর বিস্তার ঠেকাতে হাত ধোয়ার ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশের ৩০টি পৌরসভায় হ্যান্ড ওয়াশিং স্টেশন নির্মাণের জন্য তহবিল দ্রুত সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে সঠিক স্থানে যখন সঠিক উপায়ে যেন হাত ধোয়া নিশ্চিত হয় সেটাও বিবেচনা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি পৌরসভার প্রবেশপথ, বাজার এবং ঘন জনবহুল এলাকাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যেন সেখানের সর্বাধিক পরিমাণে লোক উপকৃত হতে পারেন।
তিনি বলেন, এটি পরিচালনার জন্য একজন রক্ষণাবেক্ষণকারীর সঙ্গে পর্যাপ্ত সাবান ও জীবাণুনাশক রাখা হবে। বিশ^ব্যাংক মনে করে, হ্যান্ড ওয়াশিং স্টেশনগুলো কভিড-১৯-এর সংক্রমণকে কমিয়ে আনতে অত্যন্ত কার্যকর উপায় হবে। এছাড়া পানিবাহিত রোগ টাইফয়েড এবং কলেরা জাতীয় সংক্রামক রোগগুলো প্রতিরোধ করবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, গত বছর অক্টোবরে দেশের পৌর এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটারি সুবিধা দিতে পৌরসভার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প গ্রহণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ওই প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১০ কোটি ডলারের ঋণ দেয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৮৬০ কোটি টাকা।
প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৯ জেলায় ৩০টি পৌরসভায় পাইপলাইনে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপন ও উন্নয়ন করা, ৯০টি পাবলিক টয়লেট স্থাপন, বাড়িঘরে ৯ হাজার উন্নত ল্যাট্রিন নির্মাণ, বিদ্যমান পানির উৎসগুলো পুনরুজ্জীবিতকরণ, পানির মিটার স্থাপন, গারবেজ ট্রাক ক্রয়, পৌরসভার জন্য ভেকু সংগ্রহসহ অন্য যন্ত্রপাতিও সংগ্রহ করা হবে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে এ প্রকল্পের অধীনে দ্রুততার ভিত্তিতে নতুন কম্পোনেন্ট যুক্ত করা হয়েছে। এতে বিদ্যমান পাবলিক টয়লেট ও বাড়িঘরে নির্মিত উন্নত ল্যাট্রিনের জন্য সাবান ও জীবাণুনাশক সরবরাহ করা হবে। বাজার ও জনবহুল এলাকাগুলোতে হাত ধোয়ার বুথ স্থাপন করা হবে। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে স্থানীয় নাগরিকদের যুক্ত করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি মূল অংশীদারদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে সুশীল সমাজ সংগঠন, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এবং বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৩০টি পৌরসভার মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলার তারাবো পৌরসভা, টাঙ্গাইলের মধুপুর, ধনবাড়ী, ভূঞাপুর পৌরসভা, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, চান্দনাইশ পৌরসভা, কুমিল্লার হোমনা, দেবীদ্বার পৌরসভা, ফেনীর পরশুরাম, লক্ষ্মীপুরের রামগতি, নোয়াখালীর সেনবাগ, বগুড়ার কাহালু ও শিবগঞ্জ পৌরসভা। এছাড়া জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি, আক্কেলপুর পৌরসভা, নাটোরের বনপাড়া, বড়াইগ্রাম পৌরসভা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল পৌরসভা, রাজশাহীর কাটাখালী, তাহিরপুর, বাঘা পৌরসভা, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া, যশোরের চৌগাছা, মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভা, মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও কমলগঞ্জ এবং জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
