পোশাক খাতে ৫ বিলিয়ন ডলারের ধাক্কা : রুবানা হক

আপডেট : ০৫ জুন ২০২০, ০৩:২৮ এএম

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কারখানার সক্ষমতা ও রপ্তানি অনেক কমে গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক। তিনি জানান, করোনার কারণে দেশের পোশাক খাতে ৫ বিলিয়ন ডলারের ধাক্কা লেগেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিজিএমইএর উদ্যোগে স্থাপিত করোনা পরীক্ষার ল্যাব উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। 

গাজীপুরের চন্দ্রায় ডা. ফরিদা হক মেমোরিয়াল ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতালে এ ল্যাবটি স্থাপিত হয়েছে। এতে প্রতি শিফটে ১৮০টি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। এখানে কাজ করবেন ১৬ জন স্টাফ। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ৪০০ নমুনা পরীক্ষা করা হবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী শিফট ও মেশিন সংখ্যা বাড়ানো হবে। এই ল্যাব কভিড-১৯ টেস্টের ফল শতভাগ সঠিক বলেও অনুষ্ঠানে দাবি করা হয়েছে।

রুবানা হক বলেন, করোনার কারণে কারখানাগুলোর সক্ষমতা ৫৫ শতাংশে নেমেছে। তাই নিয়ে উৎপাদন চালাতে হলে কারখানাগুলোর পক্ষে শ্রমিক ছাঁটাই ছাড়া উপায় থাকবে না। আর সে কারণেই জুন থেকে কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হবে। এটি অনাকাক্সিক্ষত বাস্তবতা, কিন্তু করার কিছু নেই। অবশ্য হঠাৎ পরিস্থিতির উন্নতি হলে এই শ্রমিকরাই অগ্রাধিকার পাবেন। তবে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের জন্য কোনো তহবিল গঠন করা যায় কি না, সে ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, এপ্রিল ও মে মাসে যেসব কারখানা শ্রমিক ছাঁটাই করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিজিএমইএ। তার বাইরে না (এপ্রিল ও মের ছাঁটাই ছাড়া)। কারণ, ছাঁটাই অথবা কাজ দেওয়া এ দুটিই করতে হয় উদ্যোক্তাদের। শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছ থেকে বড় একটা সহায়তা পেয়েছিলেন মালিকরা। সেটি জুন মাসে শেষ হবে। তবে ৫৫ শতাংশ সক্ষমতায় কারখানা চালিয়ে শতভাগ কর্মী রাখা উদ্যোক্তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সমাজের বিত্তবানদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের যাদের বড় জায়গা তারা আইসোলেশন ইউনিট তৈরি করে এ কাজে সহযোগিতা করতে পারেন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘করোনা পরীক্ষা না করালে অনেকে আক্রান্ত হবেন। তাতে শিল্প চালানো মুশকিল হয়ে যাবে। তাই প্রয়োজন হলে আরও ল্যাব স্থাপন করুন। আক্রান্ত রোগীকে রাখার জন্য কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন ইউনিট করুন।’

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘বিজিএমইএ গার্মেন্টস সেক্টরকে প্রতিনিধিত্ব করছে। এই কাজের সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিক জড়িত। তাই তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করাটাও আমাদের দায়িত্ব। তাই যারা এই ল্যাব প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন তাদের ধন্যবাদ। যত বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হবে, তত বেশি শনাক্ত হবে এবং তত দ্রুত চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হবে।’

অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে ও অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে আরও অংশ নেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও সাংসদ, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী, ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এ কে আজাদ খান প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত