সব ধরনের নতুন পাসপোর্ট কার্যক্রম বন্ধ

আপডেট : ০৫ জুন ২০২০, ০৩:৩১ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বায়োমেট্রিক নেওয়া বন্ধ ঘোষণা করেছে পাসপোর্ট অধিদপ্তর। ফলে সব ধরনের নতুন পাসপোর্ট তৈরির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিগত আড়াই মাসে প্রবাসীসহ সারা দেশের বিভিন্ন পাসপোর্ট অফিসে জমা পড়া অন্তত আড়াই লাখ গ্রাহক সহসা তাদের পাসপোর্ট পাচ্ছেন না। এর সঙ্গে বহুদিন আগে আবেদন করে পাসপোর্ট হাতে না পাওয়ায় সাধারণ গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অবশ্য আগেই ঢাকা ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ দেশের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে এখন সীমিত আকারে রি-ইস্যু কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রিন্ট করে কুরিয়ার বা ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাসপোর্ট পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা অতি জরুরি পাসপোর্টগুলো প্রিন্ট করছি। দেশের বাইরের মিশনগুলোতে কিছু পাসপোর্ট পাঠানো হয়েছে। সব জায়গায় তো কাজ বন্ধ। কিন্তু কিছুটা চালিয়ে রাখতেই এ ব্যবস্থা।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনার কারণে নতুন আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। আগের আবেদনকারী প্রত্যেকে পাসপোর্ট পাবেন। প্রতিদিন ২০ হাজার পাসপোর্ট প্রিন্ট করা সম্ভব। সবকিছু স্বাভাবিক হলে স্বল্প সময়ের মধ্যে সারা দেশে পাসপোর্ট প্রিন্ট করা হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা হাত থেকেই বেশি ছড়ায়। এজন্য পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) কাজ বন্ধ করা হয়েছে। রি-ইস্যুতে বায়োমেট্রিক নেই বলে সীমিত আকারে চালু রয়েছে। প্রধান ও বিভাগীয় কার্যালয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসেও এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীর ছবি তোলা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, আইরিশ পিকচারসহ বেশকিছু কার্যক্রম থাকে, যেগুলোর জন্য তাকে সরাসরি আসতে হয়। এতে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি। এজন্য ই-পাসপোর্ট ও এমআরপি দুই ক্ষেত্রেই নতুন আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। তবে বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশিদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে বা হয়ে যাচ্ছে, তাদের আবেদন প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।’

গতকাল মালিবাগের ব্যবসায়ী আবদুল মতিন জানান, তিনি তিন-চার দিন আগে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে গিয়েছিলেন রি-ইস্যুর জন্য। কিন্তু কর্মকর্তারা করোনার দোহাই দিয়ে এখন রি-ইস্যু হচ্ছে না, পরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আহমেদ নূর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত ১৩ নভেম্বর আমি আবেদনপত্র জমা দিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ছবিসহ বায়ো-এনরোলমেন্ট করি। সিøপে ৪ ডিসেম্বর পাসপোর্ট দেওয়ার তারিখ ছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাতে পাইনি। মাঝে মার্চে আগারগাঁও গিয়ে খোঁজ করলে কর্মকর্তারা তিন দিনের মধ্যে পেয়ে যাব বলেছিলেন। তাদের তিন দিন আর শেষ হচ্ছে না। অথচ এক দালাল দেড় হাজার টাকা দিলে তিন দিনেই দিতে চান। আমি এ পথে যেতে চাইনি। কিন্তু আমার পরিচিত অনেকেই দালাল ধরে ডেলিভারি তারিখের আগেই পাসপোর্ট পেয়েছেন।’

সরকারি ছুটির কারণে মার্চে বন্ধ হয়ে যায় পাসপোর্ট অফিস। এ সময়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় অনলাইনে আবেদনও। যেসব পাসপোর্ট করোনা সংকটের আগেই গ্রাহকদের দেওয়ার কথা ছিল, অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা আর দেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে নতুন ও আগের আবেদনের প্রায় আড়াই লাখ পাসপোর্ট আটকা পড়ে। কর্মকর্তারা একে স্মরণকালের জট বলছেন। যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত জট কমানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানান তারা।

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ ছুটির পর ৩১ মে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কার্যালয় চালু ও পাসপোর্টের বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, নতুন পাসপোর্টের আবেদন এবং বায়ো-এনরোলমেন্ট বন্ধ থাকবে। যাদের পাসপোর্টের মেয়াদ এখনো ছয় মাসের বেশি রয়েছে, তাদের পাসপোর্ট রি-নিউ/রি-ইস্যুও আপাতত বন্ধ থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত